রাত ০৪:৪৯ ; সোমবার ;  ২০ মে, ২০১৯  

তিস্তায় জেগে উঠা চরে সবুজের বিপ্লব

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

নীলফামারী প্রতিনিধি॥

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদীতে জেগে উঠা চরে সবুজের বিপ্লব ঘটিয়েছে বন্যা-খরার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়ে যাওয়া মানুষেরা। চরের হাজার হাজার একর জমিতে নানা ধরনের খাদ্য শস্য উৎপাদন করছে স্থানীয় কৃষক পরিবারগুলো।

জানা যায়, রংপুর বিভাগের ৪টি জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত এক সময়ের খরস্রোতা নদী তিস্তা এখন মরাখালে পরিনত হয়েছে। নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় বেকার হয়ে পড়েছে হাজারো নৌ শ্রমিকসহ মাঝিমাল্লারা। তিস্তা এখন পায়ে হেঁটেই পারাপার হচ্ছে সবাই।

সরেজমিনে তিস্তাপাড়ের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চর এলাকার কৃষক পরিবারে সদস্যরা কোমর বেঁধে নিজের ও বর্গা নেওয়া জমিতে বিভিন্ন ফসলের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। চলতি মৌসুমে চরে ভুট্টা, আলু, বাদাম, গম, ধান, পেঁয়াজ, মরিচ, তামাক, মিষ্টি কুমড়া, কাউন, উফশি বোরো ধান ও ডালসহ চিনা বাদামের ব্যাপক চাষাবাদ করছেন কৃষকরা।

চরের কৃষক খয়রাত আলী ও মকদুম মিয়া জানান, 'এই তিস্তায় বাপ দাদার ভিটেমাটি হারিয়ে জেগে উঠা চরে এনজিও ও দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চরাসুদে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করছি। ফসল তুলে তা শোধ করে দেবো।'

এদিকে, নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় নীলফামারীর ডিমলা ও লালমনিরহাট জেলার ৬টি ইউনিয়নের নৌ শ্রমিক ও মৎস্যজীবীরা বেকার হয়ে পড়েছে। তারা অনেকে পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন।

টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন ও পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রভাষক আব্দুল লতিফ জানানা, চরাঞ্চলের জমিগুলো এখন আবাদযোগ্য হয়ে উঠেছে। তাই চরের গরীব পরিবারগুলোকে নিয়ে এখন আর বেশি ভাবতে হয় না। নদীর নব্যতা হারিয়ে ভরাট হওয়ায় মাঝি-মাল্লারা এখন জাত পেশা বাদ দিয়ে কৃষিকাজের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন।

ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, 'গ্রাম এলাকার জমির মতো ফসল এখন চরাঞ্চলে হচ্ছে। তাই চরাঞ্চলের কৃষক পরিবারগুলো এখন স্বাবলম্বী। তারা এখন আর বসে থাকে না। চরের জমি সোনার চেয়ে দামি।'

/এমডিপি/এফএস/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।