রাত ১০:১২ ; সোমবার ;  ২২ জুলাই, ২০১৯  

কিউইদের কাছে চমকের প্রত্যাশা ছিল

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

হাবিবুল বাশার॥

প্রথমেই নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়াকে শুভেচ্ছা। এসব বড় ম্যাচগুলোতে জয় পেতে যা প্রয়োজন তা হলো স্নায়ু চাপ সামলে নেয়া। অার এই কাজটাতে সবচাইতে বেশি পারদর্শী অসিরাই। তাইতো তারা বিশ্বকাপ ক্রিকেটের পাঁচটি শিরোপার মালিক।

শক্তির বিচারে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা হলেও দলগুলো প্রায় সমান অবস্থানেই ছিল। সবাই ভাবছিল খেলাটিতে হয়তো হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে। তবে আজ তেমনটা দেখা গেলো না। এমন অনিশ্চয়তার কারণেই হয়তো ক্রিকেট এতো জনপ্রিয় একটি খেলা!

অাজকের ম্যাচটি নিয়ে আমি একটু হতাশই হয়েছি। ম্যাচটিতে উত্তেজনার রেণুর ছড়াছড়ি দেখতে চেয়েছিলাম। তাই এই বিশ্বকাপের ধারা অনুযায়ী এই খেলাটা বড্ড একপেশেই হয়ে গেলাে। কারণ, এই বিশ্বকাপের প্রায় ম্যাচগুলোই একপেশে হয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের জন্য টসে জেতাটা বাড়তি সুবিধা ছিল। তারা চেয়েছিল টসে জিতে আগে ব্যাটিং করতে; কারণ মেলবোর্নে বড় রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড খুব কম। কিউইদের ব্যাটিংয়ে দেখার বিষয় ছিল ত‌‌‌ারা আসলে কত রান করতে পারে। আমার মতে ২৬০-এর বেশি রান করতে পারলে খেলায় ভালো লড়াই হতো। তবে অসি বোলারদের সামনে কিউইরা তেমন প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। কিউইদের বাজের শুরুটা হয় ম্যাকালামের পতনের মধ্য দিয়ে। অসিদের তিন ফাস্ট বোলার স্টার্ক, জনসন এবং ফকনার বোলিংয়ে আধিপত্য বজায় রাখে। সঙ্গে ম্যাক্সওয়েল একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেয়। অন্যপ্রান্তে কিউইদের পক্ষে ইলিয়ট যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন, তবে তাকে ভালো সঙ্গ দিতে পারেনি কেউ। আজ আসলে 'ফ্ল্যাট' ব্যাটিং উইকেট ছিল। টেইলর এবং ইলিয়টের খেলা দেখেই তা বুঝা গিয়েছিল।

তবে এমন ব্যাটিং উইকেটে ১৮৪ রানের টার্গেট দিয়ে ম্যাচ জয় করার প্রায় অসম্ভব। ম্যাচটা তখনই আসলে অসিদের দিকে ঝুঁকে গিয়েছিল। এতো কম পুঁজি দেখে বুঝতে পারছিলাম খেলাটা একটু দ্রুত শেষ হবে।

অসিদের পক্ষে ক্লার্কের আজ শেষ ওয়ানডে ম্যাচ ছিল। আমি জানি না কেন সে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসরে যাচ্ছে। তবে তার ব্যাটিংটা খুব মিস করবাে। হয়তো ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করে পেরে উঠছেন না তিনি। অনেকেই 'হার্ড হি‌‌‌টিং' খেলার কথা বললেও ক্লার্কের মতো 'বল টু বল' খেলা প্লেয়ার অসি দলে শূন্যতা সৃষ্টি করবে। সঙ্গে সে ভালো অধিনায়কও বটে। তাকে আমি সাবেক অসি অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ এবং রিকি পন্টিংয়ের চেয়ে একটু আলাদা করবো। কারণ, ক্লার্ক অধিনায়ক থাকাকালে তার দলে তেমন কোনও তারকা খেলোয়াড়কে পায়নি। সেদিক থেকে সে যথেষ্ট সফল।

এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই আজ জমজমাট বিশ্বকাপের পর্দা নামলো। আমরা নতুন কোনও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পেলাম না। কিউইদের কাছে চমকের প্রত্যাশা থাকলেও অস্ট্রেলিয়াই ট্রফি নিলো। অবশ্যই অসিরা যোগ্য হিসেবে শিরোপা নিলো। মিচেল স্টার্ক বিশ্বকাপের সেরা বোলার নির্বাচিত হলেন। সব মিলিয়ে অসিদের শুরু এবং শেষটা সুন্দর হলো।

সঙ্গে এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশও দুর্দান্ত খেলেছে। আমরা দুইটি ব্যক্তিগত শতক পেয়েছি। বড় রানের কয়েকটি ইনিংস পেয়েছি। আমাদের দেশের মানুষ এই বিশ্বকাপটা অনেকদিন মনে রাখবে। এ বিশ্বকাপে আমরা পেয়েছি অনেক কিছু। সামনের বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ দল তৈরি হওয়ার অনেক সময় পাবে। আশা করি, সামনে আমরা আরও ভালো খেলবো।

/এনএস/এফঅাইঅার/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।