সকাল ১০:৫১ ; শুক্রবার ;  ২৭ এপ্রিল, ২০১৮  

নেত্রকোনায় বাড়ছে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

হানিফ উল্লাহ আকাশ, নেত্রকোনা॥

যে শিশুটির এখন হৈ হুল্লোড় করতে করতে স্কুলে ছুটে যাওয়ার কথা ছিল, সে এখন সামান্য কিছু মজুরির আশায় ধানক্ষেতে রোপন করছে ধানের চারা। তার রোপিত ধানে কৃষকের গোলা পূর্ণ হয়ে যাবে মাস কয়েক পর, সেই ধানের পিঠা পায়েসে হবে নবান্নের উৎসব। আর নিত্য অভাবের কষাঘাতে নিপীড়িত শিশুটিকে আবারও নামতে হবে জীবনযুদ্ধে। হয়তো নতুন কোনও কৃষকের মাঠে কিংবা কোনও ইট ভাটা বা কলে-কারখানায়।  

এভাবেই দারিদ্র্যের কষাঘাতে বড় শহরগুলোর পাশাপাশি জেলা শহর ও মফস্বলেও বাড়ছে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা। অশিক্ষিত বাবা-মায়ের অসচেতনতা আর সমাজের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের উন্নাসিকতার কারণে স্কুল থেকে ঝড়ে পড়ছে শিশু, বাড়ছে শিশু শ্রম। সরকারিভাবে শিশু শ্রম নিষিদ্ধ হলেও আইনের কার্যকারিতা না থাকায় দিন দিন শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

হাওর-বাওড়ের শহর নেত্রকোনায় তেমন কোনও বড় শিল্প কারখানা না থাকলেও গ্রামের ঝড়ে পড়া শিশুরা কৃষিকাজ থেকে শুরু করে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে। অনেকেই শহরে এসে বিভিন্ন দোকান, মিল, ইটভাটা, ওয়েলডিং ওয়ার্কসপে কাজ করছে। চালাচ্ছে রিকশাও। আবার তাদের দেওয়া হচ্ছে না ন্যায্য মজুরিও।

শহরের রেল ক্রসিং বাজারের একটি ওয়ালডেং ওয়ার্কসপের ১১ বছর বয়সী শ্রমিক সৌরভ জানায়, এখানে কাজ শেখার জন্য তার বাবা মা তাকে পাঠিয়েছে। কিন্তু এই কাজে অনেক কষ্ট। পাঁচ কেজি ওজনের হাতুড়ি বেশি সময় তুলতে পারে না সে। সারাদিনের কাজের বিনিময়ে পায় ৪০-৫০ টাকা।

শহরের মোক্তারপাড়া পুরাতন কালেক্টরেট এলাকার চায়ের দোকানের শিশু শ্রমিক রফিক (ছদ্ম নাম) জানায়, লেখাপড়া করার অনেক ইচ্ছে ছিল। কিন্তু বাবা মা খরচ চালাতে না পারায় এখানে কাজ করে মাসে ১২শ টাকা বেতন পায়।

জেলায় অনেক সরকারি-বেসরকারি স্কুল ও এনজিও থাকার পরেও এ জেলা শিক্ষার দিক থেকে পিছিয়ে ৬৩ তম স্থানে রয়েছে। এর কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে জেলায় নজরদারির প্রচণ্ড অভাব রয়েছে। প্রশাসন শিশু শ্রমের বিরুদ্ধে একটু জোর তৎপরতা চালালেই এটা অনেকাংশে কমে যাবে বলে মত দিয়েছেন অনেকেই।

এ ব্যাপারে নেত্রকোনা জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সুহেল আহমেদ ভূইয়া জানান, তাদের কাছে জেলার ঝড়ে পড়া শিশুর সঠিক কোনও হিসাব নেই। তারা শুধু শিশুদের বিনোদন নিয়ে কাজ করেন।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক যতীন সরকার বলেন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে গণ-সচেতনতা বৃদ্ধি করে শিশু শ্রম বন্ধ করা অনেকাংশে সম্ভব। এজন্য সরকারের পাশাপাশি সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

/বিএল/টিএন/


 


 


 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।