রাত ০৯:৫২ ; রবিবার ;  ২৬ মে, ২০১৯  

স্বাধীনতা স্তম্ভ ও স্বাধীনতা জাদুঘর আজ থেকে উন্মুক্ত

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

আজ ২৬ মার্চ থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ ও স্বাধীনতা জাদুঘর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর গতকাল বুধবার বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভের ভিআইপি কক্ষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্যসচিব ড. রনজিত কুমার, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী ও স্বাধীনতা স্তম্ভের স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী জানান, ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বাঙালির জীবনের অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী। বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের বিবর্তনের ধারায় ১৯৭১-এর ৭ মার্চ এই প্রান্তরে দাঁড়িয়েই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেছিলেন স্বাধীনতা অর্জনের দৃঢ় প্রত্যয়।

’৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের বিজয় দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছিল এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই। আর এই প্রেক্ষাপটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ ও স্বাধীনতা জাদুঘর স্থাপন একটি সময়োচিত যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নতুন স্থাপনার সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় মন্ত্রী বলেন, ৬৭ একর বিস্তৃত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কেন্দ্রস্থলে প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, ৫ হাজার ৬৬৯ বর্গকিলোমিটার পাকা চাতাল বা প্লাজা। এর চারপাশে রয়েছে তিনটি জলাশয়, বাঙালি জাতিসত্তার অমরতার প্রতীক ‘শিখা চিরন্তনী’ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামকে ভিত্তি করে নির্মিত একটি দেয়ালচিত্র। জাদুঘরের ওপরের অংশে রয়েছে ১৫৫ আসনের আধুনিক মানের মিলনায়তন। স্বাধীনতা স্তম্ভটি বস্তুত ১৫০ ফুট উচ্চ একটি গ্লাস টাওয়ার। গ্লাস টাওয়ারে স্থাপিত লাইটের আলোকরশ্মি পাঁচ কিলোমিটার ওপর পর্যন্ত পৌঁছায়।

তিনি বলেন, বাঙালির জাতীয় জীবনে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের যে গভীর তাৎপর্য বহন করে তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই স্বাধীনতা স্তম্ভ ও গগনচুম্বী আলোকরশ্মিমালার পরিকল্পনা করা হয়েছে। স্বাধীনতা জাদুঘরটি ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যার বাস্তব নিদর্শনে আরও সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ১৪৪টি প্যানেলে বাঙালি ও বাংলাদেশি জাতিসত্তার স্বাধীনতার ইতিহাস আলোকচিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়েছে।

২৫ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতাস্তম্ভের লনে ‘মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যা ১৯৭১’-এর চিত্র প্রদর্শনীএবং ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত গানের আসর, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও স্বাধীনতা অর্জনের আনন্দের প্রতীক হিসেবে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্বাধীনতা জাদুঘর প্রতি শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ও শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। সর্বসাধারণের জন্য প্রবেশমূল্য মাথাপিছু ১০ টাকা এবং ১২ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য প্রবেশমূল্য ২ টাকা।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী এক প্রশ্নের উত্তরে জানান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ঘিরে সাংস্কৃতিক বলয় তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। রমনা পার্ক, শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি ও চারুকলা ইনস্টিটিউট- এ বলয়ের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

/এফএস/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।