রাত ০১:১৪ ; শুক্রবার ;  ২১ জুন, ২০১৯  

মনের উৎকর্ষে 'ঢাবি সাইকোলজি রিডিং ক্লাব'

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

নাঈম সিনহা॥

সাইকোলজি অর্থাৎ মনোবিজ্ঞান। এই মনোবিজ্ঞান নিয়ে যারা চর্চা করেন তারাইতো মনোবিজ্ঞানী। মানুষের মস্তিস্কের হালচাল করাই যাদের কাজ তারা আবার কি রিডিং করছেন। জানা যাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাইকোলজি রিডিং ক্লাব থেকে ঘুরে আসলেই।

চলছে বই পড়া 

সাইকোলজি রিডিং ক্লাব ওরফে পিআরসি এর তরুণরা মনোবিজ্ঞান জানতে এবং বুঝতে শুধু মাত্র পাঠ্যপুস্তকের গণ্ডিতে বসে থাকতে রাজি নয়। ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ সমাজবিজ্ঞান নিয়েও চর্চা করছেন তারা। নিজেদের বিশাল বইয়ের সমারোহ থেকে জ্ঞান সংগ্রহ ছাড়াও করে চলেছেন নানা আয়োজন। পিআরসি'র স্লোগান হচ্ছে 'হোয়েন উই নো বেটার উই ডু বেটার' অর্থাৎ 'আমরা যত‌‌‌ ভালো জানবো, ততো ভালো করবো'। এই প্রতিপাদ্য এবং মুক্তচিন্তাকে ভিত্তি করে এগিয়ে যাচ্ছে ক্লাবের যাত্রা।

সব বই পড়ার জন্য! 

প্রতি সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান ডিপার্টম্যান্টের সেমিনার রুমে বসে তাদের এই আসর। সেই আসরে চলে, ফিল্ম দেখা, আলোচনাসভা, বই-আলোচনাসহ নানা আয়োজন। কোনও কোনও দিন মেতে ওঠেন গানে। কোনওদিন তারা শোনেন সফল মানুষদের গুণগাথা।

এই সাইকোলজি ক্লাবের শুরুর গল্পটা খুব বেশি পুরানো নয়। ২০১৩ সালের শেষের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তুহিন সাইফুল রিডিং ক্লাব বাস্তবায়নের খসড়া প্রণয়ন করেন। সঙ্গে ছিলেন তার বন্ধু সাজ্জাদ, পিন্নী, রুবিসহ আরও অনেকে। ডিপার্টমেন্টের দিক থেকে হাত বাড়িয়ে দেন সহোযোগী অধ্যাপক সেলিম হোসেনসহ অন্যান্য শিক্ষকরাও। এরপর শুধু সামনে এগিয়ে যাওয়া।

বই- আলোচনা অনুষ্ঠানের পোস্টার 

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজন করেছে দু'দিনব্যাপী চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। ২৪ ও ২৫ মার্চে দেখানো হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের ওপর নির্মিত চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মনোবিজ্ঞান বিভাগের সেমিনার কক্ষে সবার জন্য উন্মুক্ত এই প্রদর্শনী। আজ দেখানো হবে মুক্তির গান। বড় পর্দায় যারা এখনও মুক্তির গান দেখেননি, তারা ঢু মারতে পারেন আজই।

এর আগে গত ১৯ তারিখ হয়ে গেল বইপড়া উৎসব তথা রিডিং ফেস্ট। প্রায় ২০০'র বেশি বই পড়ার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিল রিডিং ক্লাবের সদস্যরা। টোকেনের বিনিময়ে পড়ার সুযোগ ছিল সেখানে। বইগুলোর যে তালিকা দেওয়া হয়েছিল সেটি দেখলে নিশ্চিত আপনি আগামীবার রিডিং ফেস্ট কবে হবে জানার জন্য অধীর হয়ে উঠবেন।

রিডিং ক্লাবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে মুক্ত আলোচনার আয়োজন। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি আলোচনা সভার আয়োজন করেছে সংগঠনটি। এর মধ্যে রামপাল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং পরিবেশের উপর ক্ষতিকারক প্রভাব নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীম উদ্দিন খান। লেখক আনিসুল হক এসেছিলেন নিজের ইতিহাস নির্ভর বই যারা ভোর এনেছিল নিয়ে বলতে। এছাড়াও নানা আয়োজনে আলোচনা করতে এসেছেন, অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, বিনায়ক সেন, ব্লগার রায়হান আবির, ঢাবির বাংলার অধ্যাপক গোলাম মুর্শিদসহ আরও অনেকে।

রিডিং ক্লাবের এই বিশাল বইয়ের সংগ্রহ ও নানা আয়োজনের পুরো অর্থায়ন করেন ক্লাবের সদস্যরাই। কখনও কখনও শিক্ষকরাও অর্থ সহায়তা করে থাকেন।

এই ক্লাব সম্পর্কে যে কথাটি বলা হয়নি এখনও সেটি হচ্ছে - এটি নির্দিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের দিয়ে পরিচালিত হলেও সদস্য হওয়া ছাড়া সব কার্যক্রম এখানে সবার জন্য উন্মুক্ত। এখানে রিডিং ফেস্ট, আলোচনা অনুষ্ঠান, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী কিংবা কোনও সেমিনারে অংশ নিতে পারবেন অনায়াসেই। আপনার মনের উৎকর্ষের জন্য হবু মনোবিজ্ঞানীদের এই প্রয়াস। ক্লাবটির পরবর্তী আয়োজনে অংশ নিতে চোখ রাখুন - https://www.facebook.com/prcdu এই ফেসবুক পেইজে। 

/এফএএন/


 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।