বিকাল ০৫:০৯ ; রবিবার ;  ২০ অক্টোবর, ২০১৯  

প্রোটিয়াদের হারে বাজে বোলিং-ফিল্ডিংই দায়ী

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

হাবিবুল বাশার॥

আহহ...দক্ষিণ আফ্রিকা। এরকম একটা ম্যাচ দেখে প্রোটিয়াদের জন্যে অাফসোসই হচ্ছে। অাবারও 'চোকার' তকমাই সেঁটে গেলো তাদের গায়ে। বলতে হবে এবারের বিশ্বকাপের কয়েকটি ভালো খেলার মধ্যে প্রথম সেমিফাইনালটিই ছিল সেরা ম্যাচ। খেলার তিন বল বাকি থাকতেও বলা যাচ্ছিল না খেলাটা কাদের দিকে ঝুঁকে অাছে। শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার ফাইনালের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ালো নিউজিল্যান্ড।

প্রতি বিশ্বকাপে প্রোটিয়ারা ফেবারিট হয়ে আসলেও ফাইনালের আগেই বিদায় নিয়েছে। এবার মনে হচ্ছিলো সেই ফাঁড়া কাটবে। কারণ এবার তারা সব ম্যাচে ফেবারিট ছিলনা। 'চোকার' ট্যাগ মুছে ফেলার জন্য এবার অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল। এবারও তীরে এসে তরী ডুবালো তারা। গুরূত্বপূর্ণ সময়ে এসে চাপে ভেঙে পড়াটাই যেনো তাদের নিয়তি! সঙ্গে ফিল্ডিং মিসের মহড়া ছিল, কয়েকটা রান আউট মিস হলো, একটা ক্যাচ দুজন মিলে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো। ম্যাচের আগে মাঠে তাদের এতোগুলো কোচের উপস্থিতি আসলে তাদের জন্য চাপই সৃষ্টি করে। নক আউট ম্যাচে আপনাকে খেলতে হবে চিন্তা মুক্ত হয়ে। এমন খেলায় অতিরিক্ত পরিকল্পনা করে লাভ নেই। সেটাই হয়তো কাল হয়েছে ওদের।

শেষ দিকে ডেল স্টেইন এ বিশ্বকাপে খুব ভালো বোলিং না করলেও আজ বড্ড বাজে বোলিং করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা একটা কথা বলতেই পারে আজ বৃষ্টির জন্য তারা পিছিয়ে গেলাে। বৃষ্টির আগে তাদের ব্যাটিংয়ে একটা ছন্দ ছিল। বৃষ্টির পর যথেষ্ট রান হলেও ডু প্লেসিস আউট হয়ে যাওয়ার পর ছন্দে ব্যাঘাত ঘটে। তবে যেকোন দলে জন্য ওভার কমে গেলে রান করা সহজ হয়ে যায়।

প্রোটিয়াদের হারের জন্য মূলত তাদের বাজে বোলিং এবং ফিল্ডিংই দায়ী ছিল। আমি জানি না আজ বোলার অ্যাবটকে কেন খেলানো হলো না। ইনজুরি হলে অন্যকথা, তবে সিলেকশনের কারণে হলে বলবো সে স্টেইনের চেয়েও এবার ভালো বোলিং করছে। তারা আজ একজন বোলার কম নিয়েই মাঠে নেমেছিল। ডুমিনি ভালো বোলার হলেও সে খণ্ড-কালীন বোলার। তাই প্রথম চার জন বোলার খারাপ খেললে করার আর কিছু করার নেই। তাই আজ ভিলিয়ার্সকেও বল করতে হয়েছে।

আজ নিউজিল্যান্ডের ব্ল্যাক ক্যাপসদেরকে পূর্ণ কৃতজ্ঞতা দিতে হবে পরিকল্পিত একটি ম্যাচ খেলার জন্য। ২৯৮ রান সহজ টার্গেট ছিল না তাদের জন্য। তাই তারা প্রথম পাঁচ ওভারেই দ্রুত রান তুলে নিয়েছিল। ম্যাককালাম অসাধারণ ব্যাট করেছে। ও আজ আর কিছুক্ষণ খেলতে পারলে খেলাটা আরো আগেই শেষ হয়ে যেতো। আজ নিউজিল্যান্ড চার এবং পাঁচ নম্বর বোলারের উপর চড়াও হয়ে খেলেছে আবার সমীহ করেছেন ইমরান তাহিরকে। দেখেই বুঝা গেছে এটা তারা আগেই পরিকল্পনা করে রেখেছে। এবার ব্ল্যাক ক্যাপসরা 'কালেকটিভ ক্রিকেট' খেলছে। তাদের একেক ম্যাচের নায়ক একেক জন। আজ তারা প্রত্যাশিত জয় পেলেও প্রোটিয়ারা ক্যাচগুলো ধরতে পারলে ফলাফল অন্য কিছুও হতে পারতো। সব মিলিয়ে ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে কেউ চ্যাম্পিয়ন হতে চাইলে তাদের বেশ ঘাম ঝড়াতে হবে।

/এনএস/এফঅাইঅার/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।