রাত ১১:৩৬ ; মঙ্গলবার ;  ২১ নভেম্বর, ২০১৭  

মা ও শিশুদের আর্থিক সহায়তায় ২৩৭৭ কোটি টাকার প্রকল্প

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

গর্ভবতী মা ও শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুর স্বাস্থ্যের উন্নয়নে চিকিৎসার পাশাপাশি অর্থ সহায়তার জন্য দুই হাজার ৩৭৭ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছে সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় আগামী পাঁচ বছর মা ও শিশুদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ পভার্টি ডাটাবেজ অনুসরণ করে সাহায্য পাওয়ার যোগ্য মা ও শিশুদের খুঁজে বের করা হবে। এর আওতায় ছয় লাখ মা অর্থ সহায়তা পাবেন। আগামী ১ এপ্রিল থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হবে।

সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে গ্রামীণ পর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা মা এবং শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের আর্থিক সাহায্য প্রদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দুটি মন্ত্রণালয়ের মধ্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক নূর হোসেন তালুকদার এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের এম ই ই শাখার মহাপরিচালক জুয়েনা আজিম এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। সরকার এবং বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে দুই হাজার ৩৭৭ কোটি ৮০ লাখ টাকার প্রাক্কলিত ব্যয়ের ‘ইনকাম সাপোর্ট ফর দ্য পুওরেস্ট’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বিশ্ব ব্যাংক দেবে দুই হাজার ৩৪০ কোটি টাকা।

এ প্রকল্পের অধীনে গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, জামালপুর, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার ৪২টি উপজেলার ৪৪৩টি ইউনিয়ন পরিষদে দরিদ্র মা ও শিশুরা এই অর্থ সহায়তা পাবেন।

অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের ৪ বার স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রেক্ষিতে প্রতিবার ২০০ টাকা, শূন্য থেকে চব্বিশ মাস বয়সী শিশুদের প্রতি মাসে বৃদ্ধি পরীক্ষার প্রেক্ষিতে প্রতিবার ৫০০ টাকা, ২৫-৬০ মাস বয়সী শিশুদের প্রতি ৩ মাস অন্তর বৃদ্ধি পরীক্ষার প্রেক্ষিতে প্রতিবার এক হাজার টাকা, অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ও মায়েদের জন্য প্রতিমাসে শিশু পুষ্টি ও উন্নত শিক্ষা সংক্রান্ত কর্মশালায় অংশগ্রহণ সাপেক্ষে প্রতিবার ৫০০ টাকা হারে অর্থ দেওয়া হবে।

এ জন্য মায়েরা একটি পোস্টাল ক্যাশ কার্ড ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। কোনও মাধ্যমের প্রয়োজন হবে না। এ জন্য ডাকঘর অধিদফতরের সঙ্গে পরবর্তীতে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, 'কমিউনিটি ক্লিনিক এমন একটা উদ্ভাবনী শক্তি যার মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। দরিদ্র মানুষ সেখানে স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে। এটা বাংলাদেশের জন্য একটা বিরাট অর্জন। এই অর্জনকে সবার সামনে তুলে ধরতে হবে।'

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্প অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুর স্বাস্থ্যের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল মালেক।

/এএ/এফএস/


 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।