সকাল ১০:১১ ; শনিবার ;  ২১ জুলাই, ২০১৮  

‘লাউ নেও বাহে, দাম ৫ টাহা’

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি॥

দাম না থাকায় সাধের লাউ চাষ করে এবার বৈরাগী হওয়ার দশা কুড়িগ্রামের কৃষকদের। লাউ চাষ করে একেবারেই দাম জুটছে না তাদের। নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ, নুনখাওয়া ও হাসনাবাদ হাট ঘুরে দেখা যায় অনেক কৃষক ঠেলাগাড়ি ভর্তি লাউ বেচতে না পেরে ফেরৎ নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ নামমাত্র দামে বিক্রি করে ঠেলাগাড়ির ভাড়া তুলছেন।

নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের কৃষক দবির উদ্দিন জানান, গত মৌসুমে তিন বিঘা জমিতে লাউ চাষ করে অনেক টাকা মুনাফা হয়েছে। সেই আশায় এ মৌসুমেও তিন বিঘা জমিতে লাউ আবাদ করছি। লাউয়ের ফলন ভাল হইছে। কিন্তু হরতাল অবরোধের কারণে বাইরের পাইকার আসতে না পারায় আমরা এবার মাঠে মারা গেলাম। চাষের আসল টাকাই উঠবে না।

নাগেশ্বরী উপজেলার কৃষক মাহাতাব, লোকমান আলী, আবেদ ও ছোলেমান মিয়া জানান, 'লাউ চাষ করে এবার আহম্মকি হইছে। হরতালের ফাঁন্দত পরি এবার সউগ শ্যাষ।'

একই উপজেলার হাসনাবাদের কৃষক জমসের তার আবাদের ৪-৫শ' লাউ সাতটি ঠেলাগাড়িতে করে ভিতরবন্দ হাটে নিয়ে গিয়ে অভিনব কায়দায় মাইক দিয়ে প্রচার করছে ‘লাউ নেও বাহে, দাম ৫ টাহা’। এমনকি লাউ বিক্রি করতে সাধের লাউয়ের গান ও গাওয়া হচ্ছে মাইকে।

এ ব্যাপারে নাগেশ্বরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদুর রহমান বলেন, গত মৌসুমে লাউয়ের দাম ভাল পাওয়ায় চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় অনেক কৃষক বেশি বেশি জমিতে লাউ চাষ করেছে। ফলনও বাম্পার হয়েছে। দেশের বর্তমান অস্থিরতায় বাইরের পাইকার সময় মত আসতে না পারায় পাইকারি বিক্রির অভাবে কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে।

/টিএন/এসএস/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।