রাত ১২:২৭ ; মঙ্গলবার ;  ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯  

'অনির্দিষ্টকাল' মেয়াদ বাড়ল ভিওঅাইপি কল রেটের!

প্রকাশিত:

হিটলার এ. হালিম॥

সরকারের কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব অায় কম হলেও অনির্দিষ্টকালের জন্য মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ভিওঅাইপি বা ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল কল টার্মিনেশন রেটের। ৬ মাসের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে কল রেট অর্ধেক (১ দশমিক ৫০ সেন্ট) করা হলেও এক নির্দেশনা জারির মাধ্যমে তা 'অনির্দিষ্টকালের জন্য' বর্ধিত করা হয়েছে।

কল রেট অর্ধেক করায় রাজস্ব অায় কমলেও পরীক্ষামূলক মেয়াদ শেষ হওয়ার অাগের দিনই (সোমবার) মেয়াদ বৃদ্ধির নির্দেশনা জারি করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগ পরীক্ষামূলকভাবে ভিওঅাইপি কলরেট অর্ধেক করার বিষয়ে একটি নোটিশ জারি করে। ৬ মাসের ওই মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৬ মার্চ মঙ্গলবার।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিঅারসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ জুলফিকার স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে 'পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে প্রবর্তিত অান্তর্জাতিক কল টার্মিনেশন রেট এবং তৎ সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের রেভিনিউ শেয়ার মডেল বলবৎ থাকবে।' নির্দেশনার কপি দেশের সব মোবাইলফোন অপারেটর, পিএসটিএন, অাইএসপি, অাইজিডাব্লিউ এবং অাইসিএক্স প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এর অাগে গত ডিসেম্বর মাসে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন, জানুয়ারি মাসে কল টার্মিনেশন রেট রিভিউয়ের কথা। রিভিউ-এর ওপর নির্ভর করছিল মেয়াদ বাড়ানো বা না বাড়ানো।

সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দাবি, সরকারের রাজস্ব অায় কমলেও সে দিকে না নজর না দিয়ে বিশেষ মহলকে সুবিধা দিতে 'অনির্দিষ্টকালের জন্য মেয়াদ বাড়ানো' হয়েছে।

জানা গেছে, কল টার্মিনেশন রেট অর্ধেক করায় গত পাঁচ মাসে (মার্চ মাস ছাড়া) সরকারের পাঁচ কোটি ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা রাজস্ব অায় কম হয়েছে।

২০১২ সালের এপ্রিলে আইজিডব্লিউ’র ২৫টি লাইসেন্স দেয় সরকার। বেশি অপারেটর এলে বৈধ পথে আসা কলের সংখ্যা বাড়বে ধারণা করা হলেও কল সংখ্যা বাড়েনি।

লাইসেন্স ইস্যু করার আগে বৈধ পথে কল আসত প্রায় সাড়ে ৫ কোটি মিনিট। নতুন অপারেটররা অপারেশনে এলে বৈধ পথে কলের সংখ্যা আড়াই কোটি মিনিটে নেমে যায়। যদিও গত বছরের ৩১ মে পর্যন্ত দেশে অাসা কলের পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৮৫ লাখ মিনিট। ৩০ সেপ্টেম্বর যা ছিল প্রায় ৮ কোটি মিনিট।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইজিডব্লিউ অপারেটরগুলো এক হাজার ৩৬১ কোটি ৬০ লাখ মিনিট কল আদান-প্রদান করেছে। গত বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যা ছিল ৮৫৭ কোটি ৬০ লাখ মিনিট।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ সালাহউদ্দিন জানান, ইনকামিং কলের পরিমাণ ১৩ কোটি মিনিট হলেই কেবল অায়ের অাগের অবস্থায় পৌঁছানো সম্ভব। অাগের চেয়ে রাজস্ব অায় বাড়াতে অারও বেশি কল দেশে অানতে হবে।

গত জানুয়ারি মাসের ১৮ তারিখে সরকার ভার দ্য টপ বা ও‌‌‌টিটি সেবা ভাইবার, ট্যাঙ্গো, মাই পিপল, লাইন, হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ করলে অান্তর্জাতিক কল দাঁড়ায় ৯ কোটি ৮১ লাখ মিনিট। সে সময়েও অান্তর্জাতিক কল কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি। সঙ্গত কারণেই প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ধারণা, কোনভাবেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে না বাংলাদেশ।

/এইচএএইচ/এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।