রাত ১০:২০ ; রবিবার ;  ২০ অক্টোবর, ২০১৯  

চীনা ভাষায় কথা বলতে পারলে ভেতরটা খুব হালকা লাগে : হা জিন

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

[হা জিন ১৯৫৬ সালে চীনে জন্মগ্রহণ করেছেন। শৈশব-কৈশোর কেটেছে সেখানেই। আমেরিকার সাহিত্য পাঠের উদ্দেশ্যে ১৯৮৫ সালে পাড়ি জমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯৯৩ সালে অর্জন করেন পি.এইচ-ডি। ১৯৮৯ সালে তিয়েনআনমেন স্কোয়ারের ধ্বংসযজ্ঞের পরে বুঝতে পারলেন দেশে ফিরে যাওয়া তার পক্ষে আর সম্ভব নয়। তারপর শুরু হল লেখালেখি। কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস- সাহিত্যের সব শাখায়ই অবাধ বিচরণ। প্রকাশ করেছেন তিনটি কবিতার বই, তিনটি গল্পগ্রন্থ এবং চারটি উপন্যাস। তাঁর উপন্যাসগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ওয়েটিং (১৯৯৯) এবং ওয়ার ট্র্যাশ (২০০৪)। সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন পি ই এন হেমিংওয়ে পুরস্কার, ফ্লেনারি ও’কনোর পুরস্কার, পি ই এন ফকনার পুরস্কার-সহ আরো অনেক। পুলিৎজার পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় তাঁর নাম এসেছে। হা জিন বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়েটিভ রাইটিং প্রোগামের শিক্ষক। সাক্ষাৎকারটি অগ্নি ম্যাগাজিনের ৫২তম সংখ্যায় ২০০৫ সালে প্রকাশ করা হয়েছে। সাক্ষাৎকার নিয়েছ্নে, জেসিকা কিনার এবং বাংলায় অনুবাদ করেছেন, দুলাল আল মনসুর।]     

 

জেসিকা কিনার : আপনার উপন্যাস ওয়ার ট্র্যাশ আপনার বাবাকে উৎসর্গ করেছেন। তিনি কোরীয়-যুদ্ধ ফেরত অভিজ্ঞ ব্যক্তি। বাবার সঙ্গে কি তাঁর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কখনও কথা বলেছেন? চীনের পি ও ডাব্লিউদের শোচনীয় অবস্থার কথা লেখার ব্যাপারে আপনার বাবার অভিজ্ঞতা কি অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে?  
হা জিন : বাবাকে বইটা উৎসর্গ করার পেছনের কারণটা হল, বাবা ছিলেন অফিসার। তবে তাঁর অভিজ্ঞতা বিষয়ে বাবা খুব বেশি কিছু বলেননি। পি ও ডাব্লিউদের সঙ্গে আমেরিকানদের ক্যাম্পে কী আচরণ করা হতো সে ব্যপারেও বাবার অভিজ্ঞতা ছিল না। কারণ বাবা সেখানে ছিলেন না। কোরীয় যুদ্ধে বাবা অংশগ্রহণ করেছিলন। তবে বাবা আহত হন দুর্ঘটনায়; বাবা ধরা পড়েননি। যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় যাঁরা নির্যাতিত হয়েছিলেন বাবা তাঁদের মধ্যে ছিলেন না। আমি সেনা আবহের মধ্যেই বড় হয়েছি। যারা যুদ্ধ থেকে ফিরে এসেছেন তাদেরকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। যারা পি ও ডাব্লিউ ছিলেন তাদের সবাইকে শাস্তি দেয়া হয়েছিল। সমাজের তলানি আমি দেখেছি। প্রায় ব্যতিক্রমহীনভাবে সবাইকেই সম্মানজনক কোনো রকম কিছু না দিয়েই বরখাস্ত করা হয় কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলে শ্রম-শিবিরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। অনেকে মনে করতেন এরকমটিই তাদের পাওনা ছিল।  

জেসিকা কিনার : আপনার জীবনবৃত্তান্তে প্রায়ই উল্লেখ করেন আপনি পিপলস আর্মিতে স্বেচ্ছায় নাম লেখাতে চেয়েছিলেন। স্বেচ্ছায় বলতে আসলে কী বুঝিয়েছেন? আপনার গ্রামের অল্পবয়সী ছেলেরা কি পড়াশোনার সুযোগের জন্য না কি পেশাগত জীবনের জন্য এরকম কাজ করতে চাইতো? 
হা জিন : না, পড়াশোনার জন্য নয়। বিপ্লবের কারণে স্কুল তো তখন বন্ধ ছিল। কাজেই সেনাবাহিনীতে যাওয়াটাই তখন শ্রেয়তর ছিল। আমি যদি তখন সেনাবাহিনীতে না যেতাম তাহলে আমাকে গ্রামে গিয়ে মাঠে কাজ করতে হতো। সেটা হতো আরো বেশি কষ্টের। সে কারণে আমাদের বয়সী অনেক ছেলেই সেনাবহিনীতে যোগ দেয়াটাকেই বেছে নিয়েছিল। স্বেচ্ছায় কথাটা বলার পেছনে কারণ এই। 

জেসিকা কিনার : ওয়ার ট্র্যাশ লেখার সময় কি আপনার সেনা জীবনের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করেছেন? 
হা জিন : হ্যাঁ, অনেকখানিই নির্ভর করতে হয়েছে। প্রথম ছ’মাস আমাদের নিজস্ব ব্যারাক ছিল না। কোরিয়ার একটা গ্রামের ভেতর আমাদের থাকতে হতো। ওখানকার মানুষদের সঙ্গে মেলামেশার কারণে জায়গাটা এবং মানুষ সম্পর্কে একটা বাহ্যিক ধারণা লাভ করি। অবশ্য আমাদের ভ্রমণের সময় কোরিয়ার অন্য দিক অর্থৎ উত্তর কোরিয়ার স্থলভাগের দৃশ্যাবলি দেখেছি। তাতেও অনেকটা সুবিধা হয়েছে। না হলে ওই জায়গাটা এবং সেখানকার মানুষ সম্পর্কে লেখার সাহসই হতো না। সেখানকার মানুষদের রীতি-প্রথা এমনকি ভাষা সম্পর্কেও অনেক কিছু জানতে পেরেছি। তাতে করে সেখানকার জীবন সম্পর্কে মূর্ত ধারণা লাভ করা সম্ভব হয়েছে।  

জেসিকা কিনার : উপন্যাসটিকে আপনি স্মৃতিকথা হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। এভাবে গল্প বলার সিদ্ধান্তটা কিভাবে নিলেন?
হা জিন :  দ্য ক্রেজড লেখার সময় আমি দস্তয়েভস্কির অনেক লেখা পড়েছি, বিশেষ করে তাঁর প্রধান উপন্যাসগুলোর প্রায় সবই। মেমোইরস ফ্রম দ্য হাউস অব দ্য ডেড বহুবার পড়েছি, অন্তত পক্ষে চার বার। জেলজীবনের আখ্যান আছে সেখানে। তো ওয়ার ট্র্যাশ লেখার সময় স্বভাবতই ওই বইটা চলে আসে মনে। ওটা একটা উপন্যাসকৃত স্মৃতিকথা এবং পড়তে অবিকল স্মৃতিকথাই, উপন্যাসের মত নয়। অন্যদিকে আমি চেয়েছি এই বইটাকে উপন্যাস করে তুলতে। তবে মেমেইরস থেকে আমি এটার কাঠামো দাঁড় করানোর বিষয়ে এবং জেল জীবন সম্পর্কে অনেক ধারণা পেয়েছি। তাতে আমার অনেক কাজে লেগেছে। লেখাটাকে পড়তে যাতে উপন্যাসের মত মনে হয় তার জন্য ফিকশনের অনেক কলাকৌশল আমি ব্যবহার করেছি- উপন্যাসের রূপরেখাটাকে একটা বিশেষ পরিধি দেয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে কোন কোন প্রধান চরিত্র আসবে সেসব নির্ধারণ করা হয়েছে। আরেকটা জিনিস আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে এবং সেটার ব্যবহার করতেও সাধ্যমত চেষ্টা করেছি । সেটা হচ্ছে স্মৃতির ব্যাপক উপস্থাপন, কয়েদীদের লেখা স্মৃতিচারণ, মূলভূখণ্ডের চীনা এবং তাইওয়ানের চীনাদের লেখা স্মৃতিকথা। 

জেসিকা কিনার : মানে স্বীকারোক্তিমূলক? 
হা জিন : হ্যঁ, স্বীকারোক্তিমূলক তবে প্রচারণার মিশেলসমৃদ্ধ। কয়েদীরা অবশ্য বড় বড় লেখা লেখেন না। তাদের লেখাগুলো খণ্ডবিখণ্ড এবং সেসবের কিছুটা নির্ভরযোগ্য নয়। ক্যাম্পের সবকিছুকে প্রশংসায় নিয়ে আসার মত একপেশে। 

জেসিকা কিনার : আপনার বইগুলোতে প্রচারণার কথাটা বারবার এসেছে। প্রায় সবগুলোতেই।
হা জিন : হ্যাঁ, অনেক ব্যবহার করা হয়েছে। তবে আমাকে একজন বিশ্বাসযোগ্য স্বাভাবিক চরিত্রও তৈরি করতে হয়েছে। তাকে কেন্দ্রীয় অভিজ্ঞতার বাইরের একজন হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে। তার দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে নৈর্ব্যক্তিক । মানে একজন  সাধারণ পিওডাব্লিউ-এর অভিজ্ঞতার চেয়ে তার অভিজ্ঞতা থাকবে বৃহৎ পরিসরের। একজন পিওডাব্লিউ-এর তো ঘুরে বেড়ানো কিংবা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থাকার কথা নয়। আমি এমন একজন চরিত্র তৈরি করেছি যার বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে অবাধ অভিজ্ঞতা থাকবে, যে এলাকা তুলে ধরা হয়েছে সেখানকার বিষয় আশয় সম্পর্কে জানাশোনার পরিধি থাকবে সুপরিসর এবং সবকিছুর বিচার বিশ্লেষণ করার মত নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টি থাকবে তার। কাজেই আমি এমন একজন সৃষ্টিশীল চরিত্র তৈরি করেছি যার ইংরেজি ভাষার জ্ঞানও থাকবে (হাসতে হাসতে)। 

জেসিকা কিনার : আপনার ওয়ার ট্র্যাশ উপন্যাসে একজন চরিত্র প্রধান চরিত্রকে ইংলিশ-চায়নিজ অভিধান আনতে বলে। কারণ “সেটা একটা ভালো অস্ত্রের কাজ করবে।” আপনার নিজের জীবনে যে সকল ঘটনাবলী ঘটেছে সেসবের কথাই মনে করিয়ে দেয়। আমি বলতে চাইছি আপনি যেখানে আছেন তার পেছনে কারণ হিসেবে রয়েছে ইংরেজি অভিধানের ত্রুটি। প্রথমত, কী কারণে আপনি ইংরেজি পড়লেন? আপনি জার্মান কিংবা রুশ পড়লেন না কেনো? আপনি কি দস্তয়েভস্কি রুশ ভাষায় পড়েছেন? 
হা জিন : না, না। যখন কলেজে পড়া শুরু করলাম তখনই আমার ইংরেজি পড়ার বাধ্যবাধকতা এলো। 

জেসিকা কিনার : তার মানে আপনি ইচ্ছে করলে জার্মান পড়তেও পারতেন? 
হা জিন : তখন প্রত্যেক ভর্তিচ্ছু ছাত্রকে মোট পাঁচটা বিকল্প ভাষা দেয়া হতো বেছে নেয়ার জন্য। আমি ইংরেজিকে রেখেছিলাম সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে। তার আগে আমি রেডিওতে ইংরেজি শেখার একটা কোর্স করেছিলাম। কোর্সের অনুষ্ঠানটা প্রতিদিন সকালে আধাঘণ্টা করে প্রচার করা হতো। 

জেসিকা কিনার : সে রকম অনুষ্ঠান কি আরো ছিল?  
হা জিন : না, সেই ছোট শহরে ওটাই একদম নতুন। কলেজে পড়াশোনা শুরু করার পূর্বে আমি ওই অনুষ্ঠানটা প্রায় বছর খানেক শুনেছি। ১৯৭৭ সালে প্রথমে আমাকে কলেজের জন্য পরীক্ষায় বসতে হয়েছিল। আমার পছন্দের মধ্যে ইংরেজি যেহেতু ছিল সেহেতু আমাকে পরীক্ষায় বসতেই হয়েছে। সে সময় খুব বেশি প্রার্থী ছিল না এবং পাশের হারও ছিল নিচের দিকে।  আমি কোনো রকমে পাশ করে গেলাম।

জেসিকা কিনার : আপনার পছন্দের তালিকায় আর কী কী বিষয় ছিল? 
হা জিন : আমার প্রথম পছন্দ ছিল চীনা সাহিত্য, তারপর দর্শন, আন্তর্জাতিক ইতিহাস এবং গ্রন্থাগার বিজ্ঞান। 

জেসিকা কিনার : মিল আছে এক দিক থেকে। সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা। 
হা জিন : তবে বিদেশি ভাষাকে একটা অস্ত্র হিসেবেই দেখা হতো। কাজেই ছাত্রদের অনেকেই বিদেশি ভাষাকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিতো না। আমিও স্কুলে প্রথম দু’বছর খুব একটা পড়িনি। কারণ ওটা আমার প্রথম পছন্দ ছিল না। 

জেসিকা কিনার : কেউ কি ইচ্ছে করলে অন্য ভাষাও নিতে পারত? 
হা জিন : হ্যাঁ, নিতে পারত। তবে পরীক্ষায় পাশ করতে হতো। আমার এরকম শুধু একজনের কথাই মনে আছে: সে বলেছিল সে জার্মান ভাষা জানে। সে আসলেই জার্মান ভাষা জানত কিনা তা অবশ্য আমি জানতে পারিনি। জাপানি এবং রুশ ভাষা জানাদের সংখ্যা ইংরেজি জানাদের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। 

জেসিকা কিনার : আপনার কি মনে হয় ইংরেজির মাধ্যমে আপনি যে জ্ঞান লাভ করতে পেরেছেন সেটা অন্য কোনো ভাষায় পারতেন না? 
হা জিন : না, সেরকম মনে হয় না। মার্ক্স, এঙ্গেলস, স্টালিন, লেনিন- সবার বইপত্রই আমাদের পড়তে হতো। আমার জানা মতে এঙ্গেলস কয়েকটা বই ইংরেজিতে লিখেছিলেন। একটার নাম দ্য কানডিশনস অব দ্য ওয়ার্কিং ক্লাস ইন ইংল্যান্ড (১৯৪৫)। আমার মনে হয়েছিল বইগুলো মূল ভাষায় পড়া যেতে পারে। কাজেই আমি ওই অনুষ্ঠানটা শুনতাম। আর ছাত্রদের মধ্যে মাত্র ষোলজন ইংরেজিকে পছন্দের তালিকায় রেখেছিল। বাকি হাজার হাজার প্রার্থীর পছন্দ ছিল অন্য বিষয়।  

জেসিকা কিনার : সময়ের আবর্তে আপনার ইংরেজির অভিজ্ঞতা কিভাবে বদলে গেছে? ইংরেজি সম্পর্কে আপনার প্রথম দিকের ধারণা কেমন ছিল মনে করতে পারেন?  
হা জিন : প্রথম দিকে আমাদেরকে মেশিনের মত কাজ করতে হতো। স্কুলে ব্রিটিশ ইংরেজির ওপর জোর দেয়া হতো। যাদের বাবা-মা ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন তাদের মত কতিপয় কয়েকজনের পক্ষে চার্লস ডিকেন্স পড়া সম্ভব ছিল। প্রথম কয়েক বছর আমি খুব একটা ভালো পড়িনি। তবে আমার দ্বিতীয় বছরের শেষের দিকে দেখলাম চীনে আমেরিকার সাহিত্য বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে- ফকনার, হেমিংওয়ে এবং সব ইহুদি লেখকের লেখা। আমরা অবশ্য মূল লেখা পাইনি; সমালোচকদের উদ্বৃতি পেয়েছি। তখন থেকেই আমেরিকার সাহিত্য পড়ার প্রতি আমার ঝোঁক চেপে বসে। তখন থেকেই ইংরেজি শেখার ওপর বেশ জোর দিতে থাকি। স্নাতক পর্যায়ের পাঠ্য গ্রহণ করতে গেলে ইংরেজি পড়া এবং লেখা শিখতেই হতো।   
তারপর তো এই দেশে চলে এলাম। কিছু দিনের মধ্যে ভাষার অনেক কৌশল কুড়িয়ে যোগাড় করার মত করে আয়ত্বে নিয়ে আসতে লাগলাম এবং ভাষাটা আগের চেয়ে অনেক সহজ মনে হতে লাগল। অভিসন্দর্ভ লেখা শিখে গেলাম। তবে বুঝতে পারলাম অভিসর্ন্দভ লেখা, সৃজনশীল লেখা এবং কথা বলার জন্য ভাষার ব্যবহার- এসবের মধ্যে বেশ ফারাক রয়েছে। একাডেমিক ইংরেজি ভালোই ছিল। এরপর তিয়েনআনমেন স্কোয়ারের নৃশংসতার পর এখানেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। সেটাই ছিল আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটা বাঁক। লেখালেখি শেখার জন্য গুরুত্বসহকারে কাজে লেগে গেলাম।    
বড় সমস্যা দেখা দিল যখন আমি সিদ্ধান্ত নিলাম ফিকশন লিখব বলে। তার আগে আমি কবিতা লিখেছি। কবিতার ভাষা খুব যথাযথ আর শুদ্ধ। অন্যদিকে আবার ভাবার অবকাশও দিয়ে থাকে এই ভাষা। সুযোগ থাকে দ্ব্যর্থকতারও। কাজেই ভাষা কখনও কখনও ঢিলেও হতে পারে। আমার ধারণা ছিল কবিতা লেখাই সোজা। হতে পারে কাঁচা লিখিয়েদের কাছে ওরকমটিই মনে হবে। যুক্তি দিয়ে দেখলে বুঝা যায় ভাষা নিয়ে চাতুরি করার জন্য চাই ভাষার ওপর দখল। তবু লেখালেখি শুরু করার ক্ষেত্রে কবিতার দিকে এগুনোই ভালো। ফিকশনের ক্ষেত্রে ভাষা বিষয়ক কথাটা হচ্ছে শব্দ চয়নের এবং সংলাপ ও স্বরের রয়েছে বেশ কিছু স্তর। তো তখন দেখলাম ইংরেজি পুনরায় শিখছি, ইংরেজির বিভিন্ন অংশ পুনরায় শিখছি। কাজটা অবশ্যই কঠিন। সুতরাং প্রচুর পড়াশোনা করতে হল। একদিন লেসলি এপসস্টিনকে জিজ্ঞেস করলাম কিভাবে লেখালেখি করা যায়। তিনি বললেন, নরকবাসের মত পড়তে থাকো।

জেসিকা কিনার : দুই ভাষার মধ্যে অদ্ভূত কোনো বৈশিষ্ট্যের উদাহরণ দেবেন? যেমন ধরুন চীনা ভাষায় যা প্রকাশ করতে পারেন ইংরেজিতে তা পারা যায় না এমন? 
হা জিন : ইংরেজি অনেকটা বাগ্মী এবং ভাবনামূলক ভাষা। এই ভাষার রয়েছে একটা বহমান অনুভূতি। সেদিক থেকে চীনা ভাষা মাটিবর্তী এবং যে কথাটা প্রকাশ করতে চায় তার সঙ্গে রয়েছে এর নিবিড় সান্নিধ্য। মৌলিকভাবেই ইংরেজির ভেতরে রয়েছে কতিপয় বিমূর্ত ধারণার উপস্থিতি যেগুলো চীনা ভাষায় অনুপস্থিত। যেমন ধরুন ‘আইডেনটিটি’ একটা শব্দ: একে চীনা ভাষায় রূপান্তর করাটা বেশ কঠিন। কতিপয় শব্দ দিয়ে এর ধারণাটা প্রকাশ করা যেতে পারে। তবে একক শব্দে নিয়ে আসা জটিল।  অন্যদিকে চীনা ভাষা অনুভূতির প্রকাশক অনেক কথাকেই বর্ণনায় নিয়ে আসতে পারে। অনুভূতি আর রুচির অনেক রকমফের তুলে ধরার মত অনেক শব্দ রয়েছে চীনা ভাষায়। চীনা ভাষায় অনেক শব্দ রয়েছে যেগুলো ইংরেজিতে অনুপস্থিত। সেদিক থেকে চীনা ভাষা একটা বাহ্যিক ভাষা। আরেকটা বিষয় হল ইংরেজিতে আমরা ব্যবহারজীর্ণ শব্দ এবং বাগধারার ব্যবহার এড়িয়ে চলি। অন্যদিকে চীনা ভাষায় রয়েছে হাজার হাজার বাগধারার ব্যবহার। এই ভাষার ওপর কার কত দখল আছে সেটা নির্ভর করে এর বাগধারার ব্যবহার কার কত আয়ত্বে রয়েছে তার ওপর। এদিক থেকে এই ভাষার বৈশিষ্ট্য ইংরেজি থেকে একেবারেই বিপরীত। 

জেসিকা কিনার : চীনা ভাষার বাগধারাকে কি কোনো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যে ধরা যায়? 
হা জিন : হ্যাঁ, তবে বাগধারায় ছন্দের মিল থাকে। যেমন চারটা শব্দ মিলে একটা প্রকাশ হতে পারে। অবশ্য এরও পরিবর্তন হচ্ছে আজকাল। চীনা ভাষার ওপর ইংরেজির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তার মানে আপনি ইচ্ছে করলেই বাগধারাকে স্বয়ংক্রীয়ভাবে পুনরায় ব্যবহার করতে পারেন না।  আজকাল চীনারা অতিমাত্রায় বাগধারার অতিমাত্রার ব্যবহার পরিহার করার চেষ্টা করছে। 

জেসিকা কিনার : আরেকটা বিষয়- আপনার উপন্যাসগুলোতে পূর্বপুরুষদেরকে অবিরত গালাগাল করতে থাকে।  
হা জিন : চীনা সংস্কৃতিতে বয়স্ক মানুষদের জন্য যথেষ্ট শ্রদ্ধাবোধ আছে। কাজেই পরিবারের মধ্যে কসম করার মানে হল বয়স্কদেরকে অমান্য করা। 

জেসিকা কিনার : ওয়ার ট্র্যাশ উপন্যাসে একটা কবিতায় বলা হয়েছে, ‘দেশের মাটির টানে ব্যকুল হয়ো না- তোমার অনুগত অস্থি যে কোনো সবুজ পাহড়ের কোলেই ঘুমিয়ে পড়তে পারে।’ এখানে আপনার নিজের কথা কতখানি আছে? আপনি তো তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে চীন ছেড়েছেন।  
হা জিন : হ্যাঁ, সেরকমই। অবশ্য আমি এখনও জীবিত আছি। তবে আমার বাবার জন্য আমরা ঘুরে বেড়িয়েছি। কাজেই বিশেষ কোনো একটা জায়গার প্রতি আমার টান নেই। 

জেসিকা কিনার : আপনি তো সেনা আবহে বড় হয়েছেন। 
হা জিন : হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন। আসলে এখানে, বোস্টনেই কেবল বেশি সময় কাটিয়েছি। অনেকেই যখন বলেন তারা গৃহকাতর অনুভব করছেন তারা তখন আসলে তাদের নিজের শহরকেই বুঝিয়ে থাকেন। আমার আসলে নিজের শহর বলতে কিছু নেই। আমার সেরকম স্মৃতি-কাতরতা নেই। থাকলেও খুব অল্পই, ততোটা তীব্র নয়। আমি অবশ্য আমার ভাষার অভাবটা খুব বোধ করি। চীনা ভাষায় কথা বলতে পারলে মনের ভেতর খুব হালকা লাগে। তবে এখানে তো সেটা খুব একটা সম্ভব নয়। কাজেই আমাকে মেনে নিতে হয়। ব্যাকুলতাও আছে। তবে চীন এখন বদলে যাচ্ছে। আমিও বদলে যাচ্ছি। 

জেসিকা কিনার : আমি যখন হাঙ্গেরিতে ছিলাম মনের মধ্যে প্রচণ্ড রকমের ব্যাকুল হয়ে উঠতাম আমার মাতৃভাষায় কথা বলার জন্য। সত্যিই খুব কষ্ট হতো। 
হা জিন : হ্যাঁ, প্রথম দিকে বেশ কয়েক বছর আমারও মনে হতো আমার অস্তিত্বের উপাদানগুলো থেকেই আমি ছিটকে পড়েছি। এমন কি এখানে কারো সঙ্গে কথা বলার সময়ও চীনা ভাষা মুখ দিয়ে বের হয়ে যেত। যাদের ভাষা ইংরেজি নয় তাদের ক্ষেত্রে এমন ঘটা খুবই স্বাভাবিক। তবে দিন যত যাচ্ছে আমি এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারছি। লেখালেখির জন্য অনেক সময় ব্যয় করতে হয় বলে এখানকার ভাষার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠছি। 

জেসিকা কিনার : বাড়িতে কি মাতৃভাষাতেই কথা বলেন? 
হা জিন : আধাআধি। কারণ ছেলের ইংরেজিতে কথা বলতে হয়। সে চীনা ভাষায়ও কথা বলতে পারে। তবে পড়তে এবং লিখতে পারে না।  

জেসিকা কিনার : আপনার বিচ্ছিন্নতা বোধের দিকে ফিরে যাই। আপনার অনেক গল্পের পটভূমি অতীতের চীন। এরকম লেখার মাধ্যমে কি আপনার ভেতর তেমন কোনো অনুভূতি আসে আপনি সময়ের ক্যাপসুলের মধ্যে ঢুকে পড়েছেন, মানে চীনের যে সময়ের কথা বলছেন সেটা এখন আর নেই তবু সেটাই আপনার নিজের ভুবন? 
হা জিন : প্রথম দিকে আমার লেখার বিষয়বস্তু সেরকমই ছিল। অন্য কিছু আসতো না। সেখান থেকে আমি শক্তি সঞ্চয় করে নিয়েছি। যতক্ষণ সত্যি কথাটা বলা চলছে ততক্ষণ মনে হবে দর্শক শ্রোতারা- সংখ্যায় লক্ষ লক্ষ হলেও- বাইরেই আছেন। তবে আমেরিকা বিষয়ে লিখতে গেলে আমেরিকার পাঠককে বাইরে রাখা যাবে না। ধরুন আমি কফি বিষয়ে কথা বলছি। তখন আমাকে কোন ধরনের কফি সেটা তো উল্লেখ করতেই হবে। খেয়াল খুশি মত বানানো কফির কথা বললে তো আর চলবে না। গল্প যখন বলা হচ্ছে সে সময়ের কফির কথাই বলতে হবে। সময়ের সেরকম ক্যাপসুলের বিষয়টা একটা অসুবিধা। তবে এখান থেকে লেখার শক্তি যোগার করা সম্ভব। কারণ বাইরের জগৎটা তখন কম প্রাসঙ্গিক। 

জেসিকা কিনার : আপনার দর্শন এভাবে আরো বেশি শাণিত হয়। কারণ বাইরের কিছু তখন আপনার লেখার মধ্যে উটকো ঝামেলা তৈরি করে না।  
হা জিন : হ্যাঁ, তখন সমসাময়িক পাঠককে নিয়ে চিন্তা থাকে না। তারা আঙ্গুল তুলে বলবেন না এটা সত্যি নয়। কারণ লেখক নিজে যা লিখছেন তার বিচারক শুধু তিনিই। 

জেসিকা কিনার : আপনার স্বদেশি পাঠকদের প্রসঙ্গে বলুন। 
হা জিন : এটাই সবচেয়ে কঠিন বিষয়। তাদেরকে মনে রেখেই লিখতে হয়। আর লেখার অনুবাদের বিষয়টা হচ্ছে মানদণ্ড। যে সুবিধা আমার আছে সেটাকে যেন অপব্যবহার না করি তার নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে অনুবাদের বিষয়টা। তার মানে যদি কোনো দিন লেখাটা চীনা ভাষায় অনূদিত হয় তাহলে ওখানকার পাঠক বলতে পারেন: হ্যাঁ এই কথাটা ঠিক আছে। অন্যথায় লেখার মধ্যে যা খুশি তা বলা যেতেই পারে। কিন্তু যা খুশি বলাটাই তো ঠিক নয়। তাছাড়া সাহিত্যের লেখা লিখবার সময় আরো একটা বিষয় মাথায় রাখতেই হয়। সেটা হল আমার আগে আরো লেখক ছিলেন। তাদের মুখোমুখিও হতে হয় আমাকে। সুতরাং মিথ্যের আশ্রয় নেয়ার সুযোগ কিংবা কারণ কোনোটাই থাকতে পারে না। 

জেসিকা কিনার : আপনার সব লেখাই চীনা ভাষায় অনূদিত হয়েছে। আপনি কি অনুবাদের সময় নিজেও সক্রিয় ছিলেন? 
হা জিন : হ্যাঁ, থাকতে হয়েছে। কারণ অনেক সামরিক বিষয়াদি ছিল এবং ছোটখাটো অনেক বিষয়ে কথা বলতে হয়েছে।

জেসিকা কিনার : তাহলে আপনি সব সময় প্রথমে ইংরেজিতেই লিখেছেন? 
হা জিন : হ্যাঁ।  

জেসিকা কিনার : প্রথমে চীনা ভাষায় লেখার কথা আপনার মাথায় আসেনি কখনও?
হা জিন : না, আমি ইংরেজিতে প্রথমে লিখে থাকি। কারণ বইটা একবার চীনা ভাষায় অনূদিত হয়ে গেলে প্রকাশক একটা নির্দিষ্ট সময় বেধে দেয়। আমি সবকিছু সময় নিয়ে করি বলে এতো অল্প সময়ে তাল মেলাতে পারি না। কাজেই আমার একজন অনুবাদক আছেন। এযাবৎ যে লেখাগুলো প্রকাশ করা হয়েছে সেগুলো চীনের মূল ভূখণ্ডে প্রকাশ করা হয়নি; হয়েছে তাইওয়ানে। প্রকাশক তাইওয়ানেরই।

জেসিকা কিনার : ইংরেজিতে লেখার কারণে আপনাকে নিজের থেকে বাইরে সরিয়ে রাখার মত কোনো স্তর তৈরি হয়েছে কি, মানে অনেকটা দ্বিতীয় ত্বকের? 
হা জিন : হ্যাঁ, শুরুর দিকে এরকম হয়েছে যেন রক্ত বদলে যাচ্ছে। ব্যাপারটা আসলে শুধু একটা বই লেখার মত বিষয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। আমাকে দেখতে হয়েছে এই ভাষায় কোন জিনিসটা সবচেয়ে সুন্দর হতে পারে এবং এই ভাষায় কী করে একটা সাহিত্যিক ধারা তৈরি করতে পারি। সবচেয়ে চমৎকার একটা বিষয় আমার মনে হয়েছে- এই ভাষায় অনেক বিখ্যাত লেখক আছেন যাদের মাতৃভাষা ইংরেজি ছিল না। যেমন কনরাড, নবোকভ এবং আরো অনেকে। তারা এই ভাষার অপরিহার্য লেখকে পরিণত হয়েছেন। তাদের পথ অনুসরণ করা যেতে পারে। 

জেসিকা কিনার : এতদিনে আপনি যথেষ্ট দৃঢ়তা লাভ করেছেন। আপনার কি কখনও মনে হয়েছে ইংরেজি ভাষায় কাজ করতে যাদের অসুবিধা হয়ে থাকতে পারে তাদের প্রতিনিধি আপনি?  
হা জিন : একদিক থেকে সেরকমই মনে হয়। তবে প্রত্যেকটা ভালো লেখার ক্ষেত্রে ভাষার প্রসঙ্গটা বড় বিষয় নয়; শুরুতে অনিশ্চয়তা থাকেই। বিশেষ করে আমার ক্ষেত্রে এই অনিশ্চয়তার চাপ বহন করা খুব কঠিন ছিল। আমার জীবন এলোমেলো হয়ে যেতে পারতো। আমি অস্তিত্বহীন হয়ে পড়তে পারতাম। সেটাই ছিল আমার লেখালেখির কঠিন অংশ। এখনও অনেক অনিশ্চিত বিষয় আছে। তবে সেগুলোকে আমি কাজের শর্ত হিসেবেই মেনে নিয়েছি। 

জেসিকা কিনার : কালেক্টেডস্টোরিজ.কম নামের একটা অনলাইন সাক্ষাৎকারে আপনি একটা কথা বলেছিলেন। কথাটা আমার ভাবনায় টোকা দিয়েছে। আপনি বলেছিলেন লেখক হতে হলে ব্যর্থতাকে সাদরে গ্রহণ করতে হবে। একথায় আপনি কী বুঝাতে চেয়েছেন? 
হা জিন : যে যত উচ্চাভিলাষী ব্যর্থতার বোধটা তার তত বেশি। কারণ এযাবৎ অনেক উচ্চমানের বই লেখা হয়েছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে আমি কাফকার একটা গল্প পড়াতাম। গল্পটার নাম ‘দ্য হাঙ্গার আর্টিস্ট’ নামের ওই গল্পটাতে লেখকের মনোজগতের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বেশিরভাগ সময় আমরা সফলতা অর্জন করবো এই মানসে লিখি না। কিছুটা প্রত্যাশা অবশ্য থাকতে পারে। অনেক সময় দেখা যায় আমরা উৎরে যেতে পারি না। তবু আমাদের লিখে যেতেই হয়। কাজেই প্রথম থেকেই ব্যর্থতার বোধটা থাকা অপরিহার্য।  

জেসিকা কিনার : আপনার যে সব ছাত্র লেখালেখির ওপর কোর্স করছে তাদের যখন এসব বিষয় বলেন তখন তারা কি নিজেদেরকে মুক্ত মনে করে?  
হা জিন : বলা না বলাতে তেমন কোনো হেরফের হয় না। পেশা হিসেবে লেখালেখিকে বেছে নেয়ার ব্যাপারে তাদেরকে খুব বেশি উৎসাহ না দেয়াই ভাল। কারণ লেখালেখির চেয়ে আরো অনেক ভালো ভালো পেশা রয়েছে। লেখালেখি না করলে ভালো জীবন যাপন করা যায় না- একথা আমি বিশ্বাস করি না। ব্যক্তি হিসেবে আপনাকে সন্তুষ্ট করার মত অনেক পেশা রয়েছে। সেগুলো বেছে নিলে অন্যদের কাছেও নিজেকে প্রয়োজনীয় করে তোলা যায়। অনেক লেখক লেখার কাজটাকে যতটা মহান বলে দাবি করেন কাজটা আসলে ততটা মহান বলে মনে হয় না আমার। আমি লেখালেখি করি কারণ এই কাজটা আমি পারি। আরেকটা বিষয়- আমার প্রায়ই মনে হয় অনেক লেখক লেখাকে বেছে নিয়েছেন। কারণ তারা অন্য পেশায় ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছেন বলে। কতজন লেখক গাড়ি চালাতে পারেন না? অনেকেই। দৈনন্দিন জীবন ঠিক মত চালানোর মত যথেষ্ট বাস্তববাদী তারা নন। 

জেসিকা কিনার : এখন কী নিয়ে কাজ করছেন, ছোটগল্প, কবিতা, নাকি উপন্যাস? 
হা জিন : সাম্প্রতিক সময়ে উপন্যাস নিয়ে অনেক কাজ করেছি। পরবর্তীটাও একটা উপন্যাস। তবে এটার মধ্যে কবিতার অনেক মিশেল আছে। কবিতা লেখাও চলবে। এছাড়া ছোটগল্প লেখার পরিকল্পনাও রয়েছে। উপন্যাস লিখতে অনেক শ্রমের দরকার হয়। কাজেই বুড়িয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত উপন্যাস নিয়েই বেশি কাজ করতে চাই। 

জেসিকা কিনার : চীনে তো আর ফিরে যাননি, না?
হা জিন : না। 

জেসিকা কিনার : আপনার কি যাওয়ার ইচ্ছে আছে? গেলে কি আপনাকে গ্রেফতার করতে পারে? 
হা জিন : মনে হয় না। আমি এখন আমেরিকার নাগরিক। আমাকে গ্রেফতার করে জেলে দিতে গেলে তাদের খবর হয়ে যাবে। আমাকে গ্রেফতার করতে গেলে কুটনৈতিক জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।