রাত ০৫:০৯ ; শনিবার ;  ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯  

বিরল প্রজাতির নাগলিঙ্গম

প্রকাশিত:

সাইফুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল॥

শাখায় নয়, ফুল ফোটে গাছের গুঁড়িতে। গুঁড়ি ফুঁড়ে বের হয় ছড়া। তারপর ফুল। অনিন্দ্যসুন্দর নাগলিঙ্গম। পাপড়ি, রেণু, ফুলের গঠন নাগলিঙ্গমকে করেছে আরও মোহনীয়। বিরল প্রজাতির এই ফুল বেশির ভাগ মানুষের কাছে অপরিচিত।

দৃষ্টিনন্দন নাগলিঙ্গম ফুলটি ফোটে মার্চ থেকে ডিসেম্বরে। দীর্ঘ বৃক্ষ। ছাতিম গাছের মতো পাতা। ফুল উজ্জ্বল গোলাপি, পাপড়ি ছয়টি, পাপড়ি গোলাকার কুল্লিপাকানো। প্রস্ফুটিত ফুলের পরাগ কেশর অবিকল সাপের ফণার মতো। আর সে কারণেই নাম নাগলিঙ্গম হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। নাগলিঙ্গম গাছের রয়েছে ব্যাপক ঔষধি গুণ।

নাগলিঙ্গম এখন চোখে পড়ে না বললেই চলে। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সংরক্ষিত এলাকা বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্র (বিটিআরআই) বেশ কয়েকটি গাছ আছে। এসব গাছ এখন প্রায় গোড়া থেকে পুরো কাণ্ডে ফুলে ও ফলে ভরা। সকাল-বিকাল বিটিআরআই ভিতরে হাঁটতে গিয়ে বাতাসে নাগলিঙ্গমের সৌরভ মনে অন্য রকম আবেশ ছড়িয়ে দেয়।

দ্বিজেন শর্মা তার শ্যামলী নিসর্গ বইয়ে লিখেছেন, ‘আপনি বর্ণে, গন্ধে, বিন্যাসে অবশ্যই মুগ্ধ হবেন। এমন আশ্চর্য ভোরের একটি মনোহর অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই অনেক দিন আপনার মনে থাকবে।’ তিনি জানাচ্ছেন, নাগলিঙ্গমের আদিনিবাস দক্ষিণ আমেরিকার উষ্ণ অঞ্চলে। নাগলিঙ্গম আমাদের দেশে বেশ দুর্লভ।

পৃথিবীর অপর প্রান্ত থেকে গাছটি কবে, কেমন করে এ অঞ্চলে এসেছিল, ভারতবর্ষের কোথায় তার জন্ম হলো প্রথম, সেসব রহস্য উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের কাছেও দুর্ভেদ্য।

/এমআর/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।