রাত ০৪:৫৫ ; রবিবার ;  ২১ জানুয়ারি, ২০১৮  

ধানের বদলে গম চাষে আগ্রহী ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষক

প্রকাশিত:

জাকির মোস্তাফিজ মিলু, ঠাকুরগাঁও॥

ভালো ফলন ও বাড়তি দামের আশায় চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ে গমচাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। রংপুর বিভাগের কৃষি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত এ জেলায় এবার ব্যাপক গম আবাদে কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কৃষিপণ্যের দাম বেশি হওয়ায় এবং গত বছরে ধানের কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় এ অঞ্চলে গমের চাষাবাদ দিনে দিনে বৃদ্ধি পেয়েছে। অার গত কয়েক বছর ধরে দেশের সর্বোচ্চ গম আবাদ হচ্ছে এই জেলায়।

ঠাকুরগাঁও জেলায় এ বছর ৫৮ হাজার ৪২৭ হেক্টর জমিতে গম চাষে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫৯৬ টন গম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ফলন বেশি হওয়ায় ও ধানের কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় জেলায় গম আবাদ বেড়েই চলেছে। এবার কৃষকরা গম চাষ করেছেন ৬৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। ডিজেলের দাম এবং অন্যান্য সামগ্রীর দাম বেশি হওয়ায় গত মৌসুমে ধান চাষ করে লোকসানে পড়লেও এ জেলার কৃষকরা পিছিয়ে থাকেননি। তবে বোরো আবাদের চেয়ে গম চাষে খরচ কম হওয়ায় গম চাষে দাম ভালো পাওয়ার আশা করছেন কৃষক।

জানা যায়, বেলে দোআঁশ মাটি, কম সেচের ব্যবহার, দীর্ঘ সময় শীত থাকা, অতিরিক্ত কুয়াশা পড়া, ভালো ফলনে কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়াসহ অারও অনেক কারণে এ জেলায় গমের আবাদ বেশি হচ্ছে। জেলার ৯৮ হাজার ১৫৫জন চাষী গম আবাদ করেন। এর মধ্যে ৮ হাজার ৯৯০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ প্রদর্শনী প্লট করে অধিক ফলনে কৃষকদের আগ্রহী করে তুলছেন।

কৃষিবিভাগ সূত্র জানায়, রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ১ লাখ ৮ হাজার ৪২৩ হেক্টর জমিতে ৩ লাখ ৩ হাজার ৫৮৪ টন গম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এরমধ্যে পঞ্চগড় জেলার ১১ হাজার ৩৫৮ হেক্টর জমিতে ৩১ হাজার ৮০২ টন, ঠাকুরগাঁও জেলায় ৫৮ হাজার ৪২৭ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫৯৬ টন, দিনাজপুর জেলায় ১৬ হাজার ৪৪৬ হেক্টর জমিতে ৪৬ হাজার ৪৯ টন, নীলফামারী জেলায় ৪ হাজার ১১৬ হেক্টর জমিতে ১১ হাজার ৫২৫ টন, লালমনিরহাট জেলায় ১ হাজার ৪০৭ হেক্টর জমিতে ৩ হাজার ৯৪০ টন, কুড়িগ্রাম জেলায় ১১ হাজার ৪৯১হেক্টর জমিতে ৩২ হাজার ১৭৫ টন, গাইবান্ধা জেলায় ২ হাজার ৬৭ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার ৭৮৮ টন ও রংপুর জেলায় ৩ হাজার ১১১ হেক্টর জমিতে ৮ হাজার ৭১১ টন গম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষি বিভাগের ৮ জেলার লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে শুধু ঠাকুরগাঁও জেলায় আবাদ হয়েছে শতকরা ৬৪ ভাগ। হেক্টর প্রতি ফলন পাওয়া যাবে ৩ দশমিক ৫ টন। যার মোট ফলন পাওয়া যাবে ২ লাখ ৩০ হাজার টন। প্রতি হেক্টরে জাতীয় ফলন লক্ষ্যমাত্রার পরিমান ৩ দশমিক ১ টন।

কৃষকরা জানায়, বোরো ধান আবাদে খরচ ও পরিশ্রম অনেক বেশি। ধানের বাজার পড়ে যাওয়ায় ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠছে না। তাই অনেক চাষী এবার বোরো ধান চাষের পরিবর্তে গমের আবাদ করেছেন। প্রশিক্ষণ নিয়ে চাষ করায় তারা আগের চেয়ে অনেকে দ্বিগুণ ফলন পাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক আরশেদ আলী জানান, এ বছর গমের ব্যাপক আবাদ হয়েছে। যা দেশের সর্বোচ্চ।

/এমডিপি/টিএন/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।