রাত ১১:৩৫ ; মঙ্গলবার ;  ২১ নভেম্বর, ২০১৭  

দুর্নীতির প্রধান শিকার নারী: টিআইবি

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

নারীরা কেবল নারী হওয়ার কারণেই পরিবারে, সমাজে ও রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন। আর এর পেছনে রয়েছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ক্ষমতার অপব্যবহার। দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা টিআইবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

‘দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে নারী সাংবাদিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় গতকাল বুধবার টিআইবি এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করে।

টিআইবি'র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপ-নির্বাহি পরিচালক অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, পরিচালক রিজওয়ান-উল-আলম এবং ব্যবস্থাপক কাজী শফিকুর রহমান এ কর্মশালায় বক্তব্য ও প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০১৫ উপলক্ষে টিআইবি এ কর্মশালা আয়োজন করে।

টিআইবি’র জাতীয় খানা জরিপ ২০১২ অনুযায়ী, বাংলাদেশে অত্যাবশ্যকীয় সেবাখাত বিশেষ করে শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ, শ্রম অভিবাসন, সামাজিক নিরাপত্তা প্রভৃতি খাতে পুরুষের তুলনায় নারী বেশি দুর্নীতির শিকার হন। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সেবা নিতে মোট ৪২.৭ শতাংশ নারী দুর্নীতির শিকার হন যেখানে পুরুষের হার ২৯.৮ শতাংশ।

অন্যদিকে, টিআইবি’র বৈশ্বিক দুর্নীতি পরিমাপক-২০১৩ অনুযায়ী পুরুষের চেয়ে নারী তুলনামূলক বেশি বিশ্বস্ত এবং কম দুর্নীতিগ্রস্ত। ঘুষ দেওয়ার ক্ষেত্রের বিশ্বব্যাপী নারীরা পুরুষের চেয়ে বেশি অনাগ্রহী। ওই পরিমাপক অনুযায়ী বৈশ্বিকভাবে ২০১৩ সালে ২৭ শতাংশ পুরুষ যেখানে কমপক্ষে একটি প্রতিষ্ঠানে ঘুষ দিয়েছে, সেখানে নারীর ক্ষেত্রে এই হার ২২ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পৃথিবীর যেসব দেশ দুর্নীতিকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সফল হয়েছে, সেসব দেশে জাতীয় ও স্থানীয় উভয় পর্যায়ে রাজনীতি, জনপ্রতিনিধিত্ব, নীতিকাঠামো, প্রশাসন ও সেবা খাতে নারীর অবস্থানই উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষমতায়িত।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন ও নারীর ক্ষমতায়নের আন্দোলন একসূত্রে গাঁথা। একটিকে বাদ দিয়ে আরেকটি অর্জন সম্ভব নয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে নারীর সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করতে হবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার, অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকরী ভূমিকাই প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত করতে পারে। তিনি দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনকে জোরদার করতে দেশের সুশীল সমাজ, সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানান।

কর্মশালায় ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের নারীকর্মীরা অংশ নেন। তারা দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনে নারী সাংবাদিকদের অবস্থানকে সুদৃঢ় করতে সচেতন নাগরিক সমাজ গড়ে তোলার ওপর আলোকপাত করেন।

/এফএস/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।