সকাল ১১:৪৪ ; শনিবার ;  ২১ জুলাই, ২০১৮  

কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর : অকাল মৃত্যুর শোকবয়ান || জাকির তালুকদার

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

‘‘বছর বছর বইমেলায় ঢাকায় দেখা হতো। রাতের ট্রেনে ঢাকায় আসতেন। বিকেল এবং সন্ধ্যাটা বইমেলায় কাটিয়ে সেই রাতের ট্রেনেই আবার ফিরে যেতেন চট্টগ্রামে। আমি ঠাট্টা করে বলতাম- ভাবির হাতের চর্ব্য-চোষ্য-লেহ্য-পেয় আপনাকে এতই মুগ্ধ করে রেখেছে যে, একবেলার জন্যেও তা মিস করতে আপনার খুব আপত্তি।’’


কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীরের সাথে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল খুবই উষ্ণ; সাহিত্যিক সম্পর্ক ছিল দ্বান্দ্বিক। সাহিত্যে অভিজাত ঘরানার লেখকদের প্রতি পক্ষপাত ছিল তার। অন্যদিকে আমি সাহিত্যে তো বটেই, জীবনের সবক্ষেত্রেই অভিজাততন্ত্রের বড় সমালোচক। প্রথমে এই এড়িয়ে চলা ছিল আমার সচেতন প্রয়াস। এখন তা পুরোপুরি আমার স্বভাবের অঙ্গ। সেই কারণেই জাহাঙ্গীর ভাইয়ের পত্রিকা ‘কথা’র কোনো সংখ্যাতেই আমার লেখা সম্ভব হয়নি। আর তিনিও সেভাবে জোর দিয়ে আমার কাছ থেকে লেখা চাননি কখনো। কিন্তু তার পত্রিকার প্রতিটি সংখ্যা আমি আদ্যোপান্ত পাঠ করতাম। না পড়ে উপায় নেই। কারণ সব লেখাই উঁচু মানের এবং চিন্তাউদ্রেকী। তিনি যে তার পত্রিকায় আমাকে লেখার জন্য উদ্বুদ্ধ করেননি, তা নিয়ে আমার কোনো ক্ষোভ ছিল না। ‘কথা’ পত্রিকাটি জাহাঙ্গীর ভাইয়ের একক কাজের ফসল। লেখা বাছাই, ছাপা, বাঁধাই, বিপণন- সব তিনি একাই করতেন। অতএব তার ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানানো আমার কর্তব্য বলেই আমি মনে করতাম। বছরে একটির বেশি সংখ্যা তিনি বের করতেন না। তার বেশি করা সম্ভবও ছিল না হয়তো। প্রতিটি সংখ্যা নিয়ে আমি ফোনে বা সামনা-সামনি তাকে মতামত জানিয়েছি। দারুণ খুশি হতেন এই রকম আলাপে। 
সমকালীন লেখকদের লেখা, জাহাঙ্গীর ভাইয়ের মতো আর কাউকে দেখিনি আমি এত গভীর মনোযোগের সাথে পাঠ করতে। শুধু সমবয়সের নয়, অগ্রজ, অনুজ সকলের সদ্য প্রকাশিত লেখা খুব অভিনিবেশের সঙ্গে পাঠ করতেন তিনি। সমকালীন লেখা আমিও পড়ি। আমার একটা মানসিক গঠন তৈরি হয়ে গেছে। কোনো লেখা, সে অনুজ-অগ্রজ-সমবয়সী-বিখ্যাত-অখ্যাত যারই হোক না কেন, ভালো না লাগলে অচিরেই সেটি আমার স্মৃতি থেকে মুছে যায়। কিন্তু জাহাঙ্গীর ভাই নিতান্ত গৌণ লেখাও স্মৃতিতে ধরে রাখতেন অনেকদিন। এটি বিরল একটি গুণ কি না সে বিষয়ে আমি নিঃসন্দেহ নই। তবে তা যে একটি ক্ষমতা, সে কথায় দ্বিমতের অবকাশ নেই। 
কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীরের সঙ্গে ‘সমকালীনতা’ খুব প্রাসঙ্গিক। সমকালীনতা অনেক সময়ই আচ্ছন্ন করত তাকে। তীব্রভাবে সমকালীন হবার প্রবণতা ছিল তার। কিছুদিন হাওয়া উঠেছিল প্রমিত ভাষার পরিবর্তে মিশ্র ঢাকাইয়া ভাষায় লেখালেখি করার। এর পেছনে একটি ভূয়া জাতীয়তাবাদী চেতনা প্রচার করার জন্য বলা হতো- গঙ্গাতীরের পরিবর্তে বুড়িগঙ্গা তীরের ভাষায় লেখালেখি। জাহাঙ্গীর ভাই এই প্রচারণায় আকৃষ্ট হয়েছিলেন। তিনি নিজে ২/৩ টি গল্প সেই ভাষাতে লিখেছিলেন। আমাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিলেন- এই ব্যাপারটিকে আমি কীভাবে দেখি। আমি বলেছিলাম, আপনার ঐ লেখাগুলো যদি সত্যিকারের গল্প হয়ে থাকে, তাহলে আপনি কোন ভাষায় বা কোন আঙ্গিকে লিখছেন তা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। কিন্তু শুধু তথাকথিত ‘বুড়িগঙ্গার তীরের’ ভাষায় লেখার জন্যই যদি লিখে থাকেন, তাহলে তাতে আমার সায় নেই। আলাপ আরো অনেকদূর গড়িয়েছিল। এই ব্যাপারটি যে নতুন বা অভিনব নয় আমাদের ভূখণ্ডে, সেই কথাটাও উঠেছিল। আবুল মনসুর আহমদ কয়েকজন চ্যালাচামুণ্ডা নিয়ে এই কাজেই নেমেছিলেন। সেটি টেকেনি। টেকেনি যে, তার কারণ একাধিক হতে পারে। একটা কারণ হতে পারে যে, টেকার মতো আর্থ-সামাজিক-মানসিক অবস্থা দেশে ছিল না। অন্য একটি কারণ হচ্ছে লেখকের প্রতিভার অভাব। এখনও আবার পঞ্চাশের দশকের সেই চেষ্টা নতুনভাবে উঠে আসছে। এর উদ্যোক্তারা কতখানি সৎ, কতখানি মৌলিক, কতখানি শক্তিমান- তার ওপর নির্ভর করছে এটির স্থায়ীত্ব। ক্ষমতাবান লেখক কোনো ঘোষণা না দিয়েই মৌলিক কাজ করতে পারেন। আঞ্চলিক ভাষায় প্রেমের সনেট ‘পরানের গহীন ভিতর’ লিখে, ‘নূরলদীনের সারাজীবন’ কিংবা ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ কাব্যনাটক লিখে সৈয়দ শামসুল হক দেখিয়ে দিয়েছেন যে প্রতিভাবানের পক্ষে সবকিছুই সম্ভব। উন্নত এবং সত্যিকারের সাহিত্যের সামনে দাঁড়িয়ে কোনো পাঠক-সমালোচক ধর্তব্যের মধ্যেই আনে না তা কোন ধরনের ভাষাভঙ্গিতে রচিত। অন্যদিকে গৌণ লেখকরা এই ধরনের ডগমা তৈরি করেই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান।
জাহাঙ্গীর ভাই একমত হয়েছিলেন। তারপরেও আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন- আমি নিজে তেমনভাবে লেখার কোনো পরিকল্পনা করছি কি না। উত্তর দিয়েছিলাম, আমার কোনো গল্প বা রচনা যদি বুড়িগঙ্গাতীরের ভাষা দাবি করে, তবে আমি অবশ্যই সেই ভাষায় লিখব। কোনো ফতোয়াবাজিতে প্রভাবিত হয়ে নয়।
আমার নিজের এক ধরনের প্রচ্ছন্ন গর্ব ছিল যে, সমকালীন লেখকদের বিভিন্ন বই এবং রচনা নিয়ে অনেক বেশি লেখালেখি করেছি আমি। কিন্তু জাহাঙ্গীর ভাইয়ের লেখার খোঁজ নিতে গিয়ে সেই গর্ব আমার অনেকটাই হোঁচট খেয়েছে। আর তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ তো অতুলনীয়। কোনো লেখক সম্পর্কে এতটা হোমওয়ার্ক করে আর কেউ সাক্ষাৎকার নিতে পারেনি। জাহাঙ্গীর ভাইয়ের আগে দুই-একজন লেখকের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহাদুজ্জামান। কিন্তু তিনি নিয়েছেন কেবলমাত্র বিখ্যাত ব্যক্তি এবং লেখকদের সাক্ষাৎকার। অনতিবিখ্যাত কোনো লেখক বা কবি জাহাঙ্গীর ভাইয়ের কাছ থেকে যে পরিমাণ মনোযোগ পেয়েছেন, তা অন্য কারও কাছ থেকে পাওয়ার আশা দুরূহ।

২.
বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তার প্রশংসা ভুবনব্যাপী। কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর সেইক্ষেত্রে আরও বেশি বাঙালি। তার স্ত্রীও একই রকম। মনে হয় আরেক কাঠি সরেস। চট্টগ্রামে গেলে তাদের সুপরিসর রেলওয়ে কোয়ার্টারে অন্তত একরাতের খাবারের জন্য হলেও খেতে যেতে হয়েছে। ভুরিভোজ। কিন্তু মূল কারণ ছিল তাদের সঙ্গ পাওয়া। আর অফুরন্ত গল্প। শুধু আমি নই, আমার পরিবারের সকল সদস্যই তার বাড়িতে আপ্যায়িত হয়েছে। অবস্থানও করেছে। এ ছাড়াও চট্টগ্রামে থাকার সময় তিনি যতদূর সম্ভব সঙ্গ দিতেন আমাদের। এই একই অভিজ্ঞতা অন্য অনেকেরই আছে। হয়তোবা চাকরির কারণেই চট্টগ্রাম থেকে বেশি বাইরে যেতেন না। ঢাকায় আসতেন খুবই কম। বছরে একবার হয়তো শ্বশুরবাড়ি রংপুরে। অনেক অনুরোধ করেও তাকে বা ভাবিকে আমার বাসায় নিতে পরিনি। সম্ভব হয়নি। সময় এবং ভ্রমণ-পরিকল্পনায় মেলেনি। বছর বছর বইমেলায় ঢাকায় দেখা হতো। রাতের ট্রেনে ঢাকায় আসতেন। বিকেল এবং সন্ধ্যাটা বইমেলায় কাটিয়ে সেই রাতের ট্রেনেই আবার ফিরে যেতেন চট্টগ্রামে। আমি ঠাট্টা করে বলতাম- ভাবির হাতের চর্ব্য-চোষ্য-লেহ্য-পেয় আপনাকে এতই মুগ্ধ করে রেখেছে যে, একবেলার জন্যেও তা মিস করতে আপনার খুব আপত্তি। তাকে এবং ভাবিকে বলতাম, আমার বউকে অন্তত একবার সুযোগ দিন। তারও রান্নার হাত যথেষ্ট ভালো। তিনি হেসে বলতেন- সেটা আমার মতো আপনাকে দেখলেই বোঝা যায়। উল্লেখ্য, আমরা দুজনেই গড় বাঙালির চাইতে বেশি লম্বা এবং স্বাস্থ্যবান।
জাহাঙ্গীর ভাই কতখানি স্বাস্থ্য সচেতন ছিলেন জানি না। লেখালেখির কারণে দিনযাপনে অনিয়ম তাকে অবশ্যই করতে হতো। গদ্যলেখকদের অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। মানসিক খাটুনি তো আছেই, সেইসাথে শারীরিক খাটুনিও অনেক বেশি। কাগজ-কলমে বা কমপিউটারে অনেক বেশি সময় ধরে নুয়ে থাকতে হয় দিনের পর দিন। রাতের পর রাত। লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিরলপ্রজতায় বিশ্বাসী ছিলেন না। বড় লেখকরা বেশি বা কম লেখা নিয়ে মাথা ঘামান না। তারা সবসময় লেখালেখির মধ্যে থাকতে চান। কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর সবসময় লেখালেখির মধ্যেই থাকতেন। ডাক্তার হিসাবে তো বটেই, লেখক হিসাবেও আমরা জানি যে, লেখালেখির জন্য অন্য কোনো নেশার দ্বারস্থ হবার দরকার নেই। বরং তা লেখার ক্ষতিই করে। জাহাঙ্গীর ভাইয়ের তেমন কোনো নেশার খবর আমি জানি না। সিগারেটটাও খেতেন না। নিজে তো খেতেনই না, আমাকেও না খাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন। বলতেন, অনেক কাজ করতে হবে আমাদের। সেইজন্য যতদূর সম্ভব শারীরিক-মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে হবে। জানি না, তার শরীরে কোলেস্টরেল বা হাইপারটেনশন বাসা বেঁধেছিল কি না। আসলে হার্ট অ্যাটাকের জন্য অনেক কারণ যেমন দায়ী। তেমনই অভিজ্ঞতা থেকে এটাও জানি যে, অনেক ক্ষেত্রেই হার্ট অ্যাটাকের জন্য কোনো দৃশ্যমান কারণই দরকার হয় না।
দায়িত্বশীল স্বামী এবং পিতা ছিলেন। পুত্র এবং কন্যাকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি সত্যিকারের মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার চেষ্টায় কোনো ঘাটতি ছিল না। কথায় কথায় বলতেন- সন্তানদের কাছ থেকে আমি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের চাইতে বেশি আশা করি সত্যিকারের মানুষ হওয়ার প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ।
পেশাতে তিনি ঠিক কতখানি সময় দিতেন আমি জানি না। রেলওয়ে হাসপাতালের ডিউটি যে ঠিকমতো পালন করতেন, এটা জানি। দেখেওছি। কিন্তু অন্য সময় প্রাইভেট প্র্যাকটিসের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনে খুব একটা মনোযোগী ছিলেন বলে মনে হয় না। একবার কথায় কথায় বলেছিলেন- কী আর প্র্যাকটিস করব! আমি যেখানেই রোগী দেখার জন্যে বসি, সেই প্রতিষ্ঠানই কিছুদিনের মধ্যেই উঠে যায়।  মামুন হুসাইনের কথা উঠত। আমরা যারা লেখক-ডাক্তার, মামুন ভাইকে আমাদের সবারই হিংসা হয়। চাকুরি এবং প্র্যাকটিসে একসঙ্গে এতটা মনোযোগী এবং ডিসিপ্লিনড হয়েও কেউ যে এত দাপটের সঙ্গে লেখালেখি করতে পারে, মামুন ভাই ছাড়া আর দ্বিতীয় কোনো উদাহরণ আমাদের সামনে নেই। জাহাঙ্গীর ভাই নিজের অর্থনৈতিক বিষয়ে কোনো কথা বলতেন না। আমাকেও জিজ্ঞেস করতেন না। এদিক থেকে তিনি ছিলেন পারফেক্ট ভদ্রলোক।

৩. 

রাজনীতি নিয়ে নিরন্তর ভাবতেন কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর। কোনো দলের অন্ধ সমর্থক ছিলেন না। কিন্তু মৌলবাদী রাজাকারদের দল জামায়াতের সাথে সর্বাত্মক সংযোগের কারণে বিএনপি-র সমালোচনা করতেন। বিএনপি-র কাঁধে ভর দিয়েই যে মৌলবাদ এবং জঙ্গিবাদীরা বাংলাদেশের রাজনীতির মূলধারায় প্রবেশ করেছে এবং অবস্থান নিয়েছে, একথা উল্লেখ করতেন ক্ষোভের সঙ্গে। বিএনপি-র এই জামায়াত-প্রীতিই যে এদেশের চিন্তাশীল, মননশীল, মুক্তচিন্তার মানুষদের বাধ্য করেছে আওয়ামী লীগকে মেনে নিতে, সে ব্যাপারে তার বিশ্লেষণ ছিল সঠিক। আবার আওয়ামী লীগের প্রতিও প্রচণ্ড অসন্তুষ্ট ছিলেন অনেকগুলি কারণে। তেল-গ্যাস ব্লকগুলো বহুজাতিকদের কাছে লিজ দেওয়া, সুন্দরবনকে হুমকিতে ফেলে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের জন্য ওকালতি, ভারতকে বিনাশর্তে ট্রানজিটের নামে করিডোর প্রদান- এইসব নিয়ে তার ক্ষোভের অন্ত ছিল না। আওয়ামী লীগ সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ বহাল রেখে যে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা প্রচার করে, সেটা তার কাছে ছিল কাঁঠালের আমসত্ত্ব। আওয়ামী লীগের সিংহভাগ নেতাকর্মীর নীচু সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক মানের কারণে শেখ হাসিনা যে বাড়তি ঝুঁকিতে পড়ছেন, সেটাও তিনি উদ্বেগের সাথে বলতেন।
শাহবাগ আন্দোলন তাকে আশান্বিত করেছিল। করপোরেট-সংস্কৃতির প্রলোভন থেকে বেরিয়ে এসে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী এই প্লাটফর্মটি গড়ে তুলেছিল স্বতস্ফুর্তভাবে। পরবর্তীতে রাজনীতিবিদদের পাশা খেলায় এই আন্দোলন খেই হারালেও শাহবাগ আন্দোলনের স্পিরিট সামনের প্রজন্মকে পথ দেখাবে বলে তিনি আশা পোষণ করতেন। ‘ঘরবাড়ি শাহবাগ’ বইটি তার এই আশাবাদকে ধারণ করে রেখেছে।

২৬ ফেব্রুয়ারি অভিজিত রায় গুপ্তঘাতকের হাতে নিহত হলে তিনি ফেসবুকে লিখেছিলেন- হাজার বছর বাঁচার চাইতে অভিজিতের মতো একদিনের বাঁচাও অনেক সম্মানের।
কিন্তু আমি মনে করিয়ে দিতে চাই যে, কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর তো অভিজিতের মতোই বেঁচেছিলেন দ্রোহ নিয়ে, নিরন্তর সাহিত্যিক-সাংস্কৃতিক সংগ্রাম নিয়ে। নিরহঙ্কার জাহাঙ্গীর ভাই ভাবতেই পারেননি যে, প্রগতিশীল মুক্তমনের মানুষদের কাছে লেখক হিসাবে তার গুরুত্ব অভিজিত রায়ের চাইতে কোনো অংশেই কম নয়। সৃজনশীলতার দিক থেকে বরং বেশি। অন্তত আমার মতে।  

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।