রাত ০৯:৫৪ ; সোমবার ;  ২২ জুলাই, ২০১৯  

রুবেলের শেষ দুটি ডেলিভারি 'ড্রিম ডেলিভারি' ছিল

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

হাবিবুল বাশার॥

প্রথমেই জয়ের জন্যে বাংলাদেশকে অভিনন্দন। এই ম্যাচটি দেখার জন্যে ভোর বেলায় ঘুম থেকে উঠে অপেক্ষা করছিলাম। মাশরাফিরা দিনটি আমার এবং বাংলাদেশের জন্যে স্মরণীয় করে রাখলো। এর আগে বিশ্বকাপ আসরে আমরা দ্বিতীয় রাউন্ডে খেললেও এবারের অনুভূতিটা ভিন্ন মাত্রার। সমীকরণটা সহজ ছিল কারণ আমরা জিতলেই কোয়ার্টার ফাইনালে চলে যাবো। তবে দলটি যেহেতু ইংল্যান্ড ছিল, চিন্তার ভাঁজ ফেলতেই হয়েছিল। ওদের কিন্তু বেশ কিছু বিশ্বমানের খেলোয়ার আছে। যেটা অামরা অাজকেও দেখেছি।

ম্যাচে জিতলেও ব্যাটিংয়ে আমাদের শুরুতে দু'টি উইকেট পড়ে যাওয়ায় একটু হোঁচট খেয়েছিলাম। অনেকেই বলছিল হয়তো বাংলাদেশ খুব দ্রুত গুটিয়ে যাবে। খাদের কিনারা বলবো না তবে বিপদে পড়া দলকে সেখান থেকে টেনে তুলেন মাহমুদউল্লাহ এবং সৌম্য সরকার। দুজনেই জুটিবন্ধ হয়ে ইনিংসে রং ফেরান।

সৌম্যর ইনিংসটা ছোট হলেও কার্যকরী ছিল। অার বিশ্বকাপে আমাদের সবার শতকের আক্ষেপ পূরণ করেন রিয়াদ। আশা করি দ্বিতীয় শতকটির জন্য এখন আর বেশী ‌‌‌অপেক্ষা করতে হবে না।

রিয়াদকে নিয়ে বিশেষভাবে বলতেই হয়। তার ক্যারিয়ার শুরুর দিকে ছয় কিংবা সাত নম্বরে ব্যাট করতো। তখন বড় রান করার সুযোগ কম থাকতো। উপরের দিকে ব্যাট করায় তার ব্যাটিং নতুন রূপ পেয়েছে। এখন ব্যাটিং ভালো হচ্ছে। এই ম্যাচে অামাদের জয়ে অারেকজন পারফরমার ছিলেন মুশফিকুর রহিম। মুশফিক কিন্তু আমাদের ধারাবাহিকতার অারেক নায়ক। সে প্রতি ম্যাচেই অালো ছড়িয়ে খেলেছে। আজও তার গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসের সুবাদে অামরা ২৭৫ রান সংগ্রহ করতে পেরেছি। বলতেই হয় যে কোন দলের জন্য এখন মুশফিক খুব ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যান।

বাংলাদ‌‌‌েশের দেয়া ২৭৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ইংল্যান্ড কিন্তু উইকেটে থিতু হয়ে খেলার চেষ্টা করেছিল। সঙ্গে তারা দ্রুত রানও তুলে নিয়েছিল। যেহেতু পিচটা নিষ্প্রাণ ছিল তাই বল কম বাঁক খাচ্ছিল। নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে একটু সমস্যা হচ্ছিল। তবে আজকে বাংলাদেশের জন্য খুব ভালো দিক ছিল মাশরাফিরা কিন্তু কখনো খেলার রাশ ছেড়ে দিয়ে খেলেনি। ধরেই খেলেছে। আমাদের পেসাররা নিয়মিত উইকেট তুলে নিয়ে কাজ অনেক সহজ করে দিয়েছে।

অামাদের বোলারদের মধ্যে আজ মাশরাফি দুটি মহামূল্যবান উইকেট নিয়েছে। একই সঙ্গে তার ‌‌দেখিয়ে দেওয়া পথে এগিয়ে তাসকিনও খুব ভালো বল করেছে। রুবেলকে নিয়ে বলবো ওর শেষ দুটি উইকেটের ডেলিভারি 'ড্রিম ডেলিভারি' ছিল। আমার দেখা তার করা সর্বশ্রেষ্ঠ দুটি বল।

শেষ পর্যন্ত অামরা কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছি। আমাদের প্রতিপক্ষ কে হবে এ নিয়ে এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে আমাদের খেলা বাকি প্রতিপক্ষদের কপালে ভাঁজ ফেলতে শুরু করে দিয়েছে। সবাইকে ধন্যবাদ।

 

/এনএস/এফআরআই/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।