বিকাল ০৫:০০ ; বৃহস্পতিবার ;  ২৩ মে, ২০১৯  

সাকিবের চোখে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

মুসা ইব্রাহীম, সিডনি থেকে ॥

বাংলাদেশ ইন, ইংল্যান্ড আউট। প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ২৭৫ রান করার পর জবাবে খেলতে নেমে ইংল্যান্ড ২৬০ রানেই অলআউট হয়ে গেছে। সুতরাং কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ। কঠিন প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডকে সম্মুখ হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ১৫ রানে হারিয়ে বাংলাদেশ তাদের স্বপ্নের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করলো। আর সেই সঙ্গে ইংল্যান্ডের কোয়ার্টার ফাইনালের খেলার স্বপ্নে পানি ঢেলে দিয়েছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচের রেজাল্টটাই এমন হওয়ার কথা ছিল। যে দল জিতবে, সে দলই খেলবে কোয়ার্টার ফাইনালে। যদিও বাংলাদেশ হারলে একটা ‘যদি’ বাকি থাকতো – বাংলাদেশ ইংল্যান্ডের সঙ্গে হারলে শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে যদি হারাতে পারে, তাহলেও বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে যাবে। কিন্তু সেই হিসেবে আর যেতে হলো না। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা নিশ্চিত করলো। আর আজকের বাঁচামরার লড়াইয়ে ইংল্যান্ড হেরে গিয়ে টুর্নামেন্ট থেকেই এক প্রকার ছিটকে পড়লো। এখন তারা আগামী ১৩ই মার্চে আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচে আফগানিস্তানের সঙ্গে খেলতে নামবে।

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ওভালে জিতে বাংলাদেশ যোগ্যতর দল হিসাবে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে। অবশ্য আয়ারল্যান্ড বনাম জিম্বাবুয়ের ম্যাচে ধারাভাষ্যকার হিসাবে সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার নাসের হুসেইন কথায় কথায় ঠারে ঠোরে বাংলাদেশকে আইসিসি’র সহযোগী দলগুলোর চেয়েও খারাপ দল হিসেবে অভিহিত করার চেষ্টা করছিলেন। তার একটা যোগ্য জবাব এবার বাংলাদেশ মাঠে থেকেই দিয়ে দিল। পরপর দু’টি বিশ্বকাপেই সম্মুখ সাক্ষাতে বাংলাদেশ ইংল্যান্ডকে হারালো। ইংল্যান্ডকে নিশ্চিতভাবেই এর জবাবদিহিতা বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্নভাবেই করতে হবে। বিদায় ইংল্যান্ড, শুভ হোক তোমাদের আগামী বিশ্বকাপ।

সাকিব আল হাসান গতকাল তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছিলেন: “উষ্ণ এবার মঞ্চ! উদ্দীপনায় সিক্ত সকল ভক্ত, আর নৈপুণ্যতায় সম্ভার টাইগাররা। আর একটি মাত্র জয়, সেই সঙ্গে পৌছে যাব আমরা কোয়ার্টার ফাইনালে। '১১ এর বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে আবারো দমিয়ে দিবো ইংলিশদের, সেই অপেক্ষায় আছি। সবার ভালবাসা, দোয়া আর মাঠে সেরাটা দিতে পারলে, জয় আমাদেরই হবে”। তার স্ট্যাটাসটা এখন সাক্ষ্য দিচ্ছে পরিস্থিতির।

আর ম্যাচ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি ফের তার স্ট্যাটাস আপডেট করে বলেন, “জাস্ট থ্রি স্টেপস অ্যাওয়ে ফ্রম দি চ্যাম্পিয়ান্স। কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল অ্যান্ড ফাইনাল। ওয়েল, ইট হ্যাজ বিন আ গ্রেট ডে ফর দি টাইগার্স ইন ক্রিকেট হিস্টরি। থ্যাংকস টু অল ফর সাপোর্ট আস অ্যান্ড মেক ইওর নাইট উইথ পার্টি। চিয়ার্স!!! লাভ – সাকিব”। তার মানে এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছে টাইগাররা।

নিশ্চিত করে বলা যায়, এই জয়ের আনন্দে মেতেছে পুরো বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড, সিডনি, মেলবোর্ন – সব জায়গায় যেখানে বাংলাদেশীরা আছেন, তারা জয়ের আনন্দে রাস্তায় নেমে মিছিল করেছেন। সিডনি’র লাকেম্বায় প্রায় তিনশ বাংলাদেশী ম্যাচ শেষে রাতের বেলা রাস্তায় নেমে পড়েন। তাদের মিছিল সামাল দিতে পুলিশকে গাড়ি থামাতে হয়েছে। মেলবোর্ন ও অ্যাডিলেডেও বাংলাদেশীরা সমান আনন্দে মেতেছিলেন।

আগামী ১৩ই মার্চ নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ভারমুক্ত হয়েই খেলবে বাংলাদেশ। পুল ‘এ’র বাকি ম্যাচগুলোর ফল যাই হোক না কেন, বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচের পরপরই নিশ্চিত হয়ে গেছে, কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা।

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।