রাত ০৯:৫৬ ; সোমবার ;  ২২ জুলাই, ২০১৯  

৮ বছরে ফুরিয়ে যাবে গ্যাসের মজুদ

পেট্রোবাংলার জরিপ

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

শফিকুল ইসলাম॥

অচিরেই ফুরিয়ে যাবে দেশে বিদ্যমান প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ। বর্তমানে এ গ্যাসের মজুদ রয়েছে মাত্র ৮ দশমিক ২৩ টিসিএফ। প্রতি বছর ব্যবহৃত হচ্ছে প্রায় ১ টিসিএফ গ্যাস। এভাবে চললে আগামী ৮ বছরেই ফুরিয়ে যাবে দেশের গ্যাসের মজুদ। পেট্রোবাংলার করা সর্বশেষ জরিপ প্রতিবেদন অনুসারে এ তথ্য জানা গেছে।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা যায়, দেশের মোট ২৬টি গ্যাসক্ষেত্রের মজুদ হিসাব পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনটি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। সূত্রমতে, আবাসিক গ্রাহকদের চলতি বছর দৈনিক প্রয়োজন হবে ৩১৬ মিলিয়ন ঘনফুট। ২০১৯ সালে এর চাহিদা গিয়ে দাঁড়াবে ৩৯৬ মিলিয়ন ঘনফুটে। বর্তমানে সিএনজিতে দৈনিক ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস লাগলেও ২০১৯ সালে এ চাহিদা দাড়াবে ১৬০ মিলিয়ন ঘনফুটে। একইভাবে চা বাগান ও ইটভাঁটায় বর্তমানে দৈনিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যসের চাহিদা রয়েছে। যা ২০১৯ সালে গিয়ে দাঁড়াবে ৯ মিলিয়ন ঘনফুটে। বাণিজ্যিক গ্রাহকদের চলতি বছর দৈনিক লাগবে ২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। ২০১৯ সালে এ চাহিদা দাড়াবে ৩১ মিলিয়ন ঘনফুটে এবং ক্যাপটিভ বিদ্যুতে চলতি বছর দৈনিক ৪৭২ মিলিয়ন ঘনফুট লাগছে যা ২০১৯ সালে লাগবে ৪৮৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে এলএনজি আমদানি শুরু হবে ২০১৭ সালে। প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হলে দ্বিতীয় পর্যায়ে আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিল্প কারখানায় চলতি বছর গ্যাস লাগবে দৈনিক ৪৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট। ২০১৯ সালে এ পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ৬০৫ মিলিয়ন ঘনফুটে।

প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, বিকল্প সৃষ্টি না করলে বর্তমান মজুদ দিয়ে অদূর ভবিষ্যতে দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। এতে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ফারাক বাড়তেই থাকবে। দেশে উৎপাদিত গ্যাসের চেয়ে আমদানিকৃত তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজির) দাম অনেক বেশি।

আগামী ৫ বছরের গ্যাসের চাহিদা পর্যবেক্ষণ করে বিদ্যুৎ খাত সম্পর্কে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয় দৈনিক ২ হাজার ৯৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হবে। চলতি বছর লাগবে ১ হাজার ৫১২ মিলিয়ন ঘনফুট। এছাড়া সার উৎপাদনে ২০১৯ সালে দৈনিক গ্যাস প্রয়োজন হবে ৩১৭ মিলিয়ন ঘনফুট। এ খাতে গ্যাসের ব্যবহার বাড়বে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত গ্যাসের মজুদ ২০ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। এর ভেতর ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হয়ে গেছে ১২ দশমিক ৪১ টিসিএফ।

পেট্রোবাংলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, এখন থেকে সম্ভাব্য স্থানগুলোয় ব্যাপক অনুসন্ধান চালাতে হবে। নয়তো নিকট ভবিষ্যতে গ্যাস সংকট বাড়বে। আমদানি করা এলএনজি দিয়ে এ সংকট পূরণ করতে গেলে গ্যাস ব্যবহারে ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। যার মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আমদানি করা এলএনজি দিয়ে এ সংকট পূরণ করা সম্ভব নয়। গ্যাসের অপচয়রোধ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার অচিরেই কিছু পদক্ষেপ নেবে। দেশে গ্যাস সংকট বাড়লে অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে বলেও জানান তিনি।

প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্যানুযায়ী, আবিষ্কৃত ও সম্ভাব্য সব মিলিয়ে বর্তমানে গ্যাসের মজুদ ৩১ দশমিক ২৪ টিসিএফ। ইতোমধ্যে আবিষ্কৃত ও মজুদকৃত গ্যাসের পরিমাণ ২৭ দশমিক ০৭ টিসিএফ। বর্তমানে সর্বাধিক মজুদ আছে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে; প্রায় ৪ টিসিএফ। এরপরই তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে মজুদের পরিমাণ ২ দশমিক ৫ টিসিএফ। একই সঙ্গে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের বিষয়টিও প্রতিবেদনে যুক্ত হয়েছে। বলা হয়েছে, ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে গ্যাসের অনুসন্ধানের মাত্রা বাড়াতে হবে। সমুদ্র ও উপকূলবর্তী অধিকাংশ স্থানেই এখনও অনুসন্ধান হয়নি। প্রতিবেদনে গ্যাসের উত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা, অপচয় রোধ এবং গ্যাসের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সচেতনতা বাড়ানো এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম সহনীয় পর্যায়ে হলেও বৃদ্ধি করার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের চাহিদার তুলনায় গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। এ ঘাটতি ভবিষ্যতে বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে দৈনিক ৬শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। ২০১৭ সাল পর্যন্ত এভাবেই চলবে। ২০১৯ সালে এ ঘাটতি গিয়ে দাঁড়াবে ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটে। অর্থাৎ প্রতিদিন ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি দেখা দেবে। ২০১৭ সাল পর্যন্ত উৎপাদন বাড়বে, বাড়বে চাহিদাও। কিন্তু এরপর চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন কমতে থাকবে। ফলে চাহিদা ও যোগানের মধ্যে ফারাক ক্রমশ বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে দৈনিক ২ হাজার ৫শ মিলিয়ন ঘনফুট। চাহিদা ৩ হাজার ১শ মিলিয়ন ঘনফুট। ২০১৯ সালে চাহিদা হবে ৪ হাজার ১শ মিলিয়ন ঘনফুট।

/এসআই/ এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।