সকাল ০৮:৫৩ ; রবিবার ;  ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯  

তার অাছে স্বপ্ন তৈরির একটি কারখানা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

তিনি মানুষকে স্বপ্ন দেখান, স্বপ্ন দেখতে না জানলে স্বপ্ন দেখার পথ তৈরি করে দেন। এমনকি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি সহায়তার হাতও বাড়িয়ে দেন। কারণ তার একটি স্বপ্ন তৈরির কারখানা অাছে! সেই কারখানার অবস্থান তার মাথায়। তিনি মুনির হ‌‌াসান।

মুনির হাসান কোথায় নেই? গণিতে, বিজ্ঞানে, মুক্ত দর্শনে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, মুক্তকোষে... বলে শেষ করা যাবে না এই কর্মবীরের কথা।

শিক্ষার্থীদের গণিত ভীতি দূর করতে তিনি গণিতের অলিম্পিয়াড চালু করেছেন, বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করতে কাজ করছে দীর্ঘদিন ধরে। মুক্ত দর্শনের পথে হেঁটেছেন বাংলায় উইকিপিডিয়া তৈরি এবং মুক্ত সফটওয়্যার (ওপেন সোর্স) নিয়ে অান্দোলনে নেমে। তরুণদের অনুপ্রাণিত করছেন উদ্যোক্তা হওয়ার অাহ্বান জানিয়ে। তাদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন, 'অামরা চাকরি খুঁজব না, চাকরি দেব' এই মন্ত্র।

মুনির হাসান একাধারে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি এবং বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) এর সাধারণ সম্পাদক, উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ স‌‌‌মিতির সহ-সভাপতি। তিনি সমানভাবে সক্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও। তার রয়েছে নিজস্ব ব্লগ মুনির হাসান ডট কম

মুনির হাসান পড়াশোনা করেছেন বুয়েটে (ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং) । বুয়েটের অাইসিটি সেন্টারে কর্মজীবনে শুরু করলেও পরবর্তীতে জাতীয় ও অান্তর্জাতিক অনেক প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি দেশের শীর্ষ দৈনিকে যুব কর্মসূচির সমন্বয়ক।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হিটলার এ. হালিম

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার 'উদ্যোক্তা তৈরির প্রকল্প' বিষয়ে জানতে চাই। আসলেই কী উদ্যোক্তা তৈরি করা যায়?

মুনির হাসান: আমরা আগে একটু প্রক্ষাপটটা দেখে নিই। তাহলে প্রশ্নের জবাব পেতে সুবিধা হবে। আমাদের দেশে ১৯৮০'র শেষের দিকে প্রতি বছর প্রায় ২৪-২৫ লাখ শিক্ষার্থী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হত। হিসাব করে দেখলাম, ২০-২২ লাখ শিক্ষার্থী তাহলে ২০১০ সাল নাগাদ ওয়ার্কফোর্স হিসেবে আসতে শুরু করেছে। পরে কাগজপত্র ঘেঁটে তার প্রমাণও পেলাম। যেমন, বিশ্বব্যাংকও বলেছে ২২ লাখ প্রতিবছর কর্মবাজারে আসে। এর মধ্যে ৭-৮ লাখ চলে যায় বিদেশ। সরকারি চাকরি আর ক'জন পায়, বছরে এক লাখও সরকারি চাকরি পায় না। বেসরকারি খাতে আরও ২-৩ লাখ লোক চাকরি পায়। তখন হিসাব করলাম কত লোক তাহলে চাকরি পায় না। সবমিলিয়ে দেখি এটা ১০-১২ লাখের ঘরে। তার মানে অন্তত ১০ লাখ কর্মপ্রত্যাশী প্রতি বছর বেকার থেকে যাচ্ছে। হয় তারা কোনও কাজ পাচ্ছে না অথবা এমন কাজ করছে যা কি না তার উপযোগী নয়।

এ সংখ্যাটা আশঙ্কাজনক। আমরা ভাবলাম, কী করা যায়। পরে ২০১১ সালের গণিত অলিম্পিয়াডে আমরা 'আত্মকর্মসংস্থান' -এর একটা স্লোগান রাখলাম। সব জেলায় একজন উদ্যোক্তাকে সংবর্ধনা দিব বলে সিদ্ধান্ত নিলাম। সব জায়গায় এটা করলাম। এটি নিয়ে গবেষণাও অব্যাহত রাখলাম। কারণ, সব দেশকেই এই সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়েছে, আগে বা পরে।

এ ধরনের সমস্যায় পড়েছিল চীন। পরে দেখলাম চীন এটা কীভাবে সমাধান করেছে। ওরা একটা চেইন বানানোর চেষ্টা করেছে। হিসাব খুব পরিষ্কার। একজন লোক যদি ১০ জনকে চাকরি দিতে পারে তাহলে আমাদের মোট বেকারের ১০ ভাগ লোককে উদ্যোক্তা বানাতে হবে। নিঃসন্দেহে ১০ লাখ লোককে চাকরি দেওয়ার চাইতে ১ লাখ লোককে উদ্যোক্তা বানানো সহজ! এটা চীন ও তাইওয়ানের অভিজ্ঞতা। তারপর আমরা খুঁজলাম আমাদের দেশের সমস্যা কী?

আমরা একটা গবেষণা করলাম। গবেষণায় যেটা পেলাম সেটা হচ্ছে আমাদের দেশে উদ্যোক্তাদের মানুষ পছন্দ করে না। এটা একটা বড় সমস্যা। সমস্যা সচেতনতার। কিন্তু অন্যদিকে আমাদের গ্রামীণ হাটগুলো প্রতিবছরই কমপক্ষে তিনজন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করে ফেলে! তার মানে কোথাও একটা সমস্যা আছে। সমস্যাটা হলো আমরা আমাদের কর্পোরেট সেক্টরের বিকাশের পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির ব্যাপারে মনোযোগ দিইনি। যেমন ধরা যাক, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায় সবকয়টাতে চাকরি সংক্রান্ত ক্লাব আছে, জব ফেয়ার হয় কিন্তু উদ্যোক্তা হতে বলা হয় না। অন্যদিকে বাইরের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যদি একটা ক্লাব থাকে সেটা হয় এন্টারপ্রিনিয়রশীপের ক্লাব। হার্ভার্ডের ছাত্ররা এমবিএ করে বের হয়েই চেষ্টা করে একটা কোম্পানি করতে। না পারলে সে চাকরি খোঁজে। এটার একমাত্র কারণ হচ্ছে ওদের পড়ানোর পদ্ধতি। আমাদের এখানে থিওরি নির্ভর পড়া শিক্ষার্থীদের পুস্তকনির্ভর করে দেয়। এজন্য আমরা প্রথমে চিন্তা করলাম, সচেতনতা তৈরি করতে হবে। তখনও কীভাবে করব এটা মাথায় আসেনি।

ভাবলাম কাজে নেমে পড়ি একটা না একটা রাস্তা হয়ে যাবে।

একজন উদ্যোক্তার আসলে কী লাগে? প্রথম লাগে সমস্যা দেখার চোখ। এটা হয় শিক্ষা থেকে, পড়ালেখা থেকে। লাগে প্রবলেম সলভিং টেকনিক, এটাও পড়ালেখা আর চর্চা থেকে হয়। তারপর লাগে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, কমিউনিকেশন। লাগে সেলসম্যানশিপ। হিসাব নিকাশ করতে পারা। এর কোনটি মানুষ মায়ের পেট থেকে শিখে আসে? তার মানে ঠিকমত চেষ্টা করলে উদ্যোক্তা তৈরি করা যাবে।

একজন উদ্যোক্তার আসলে কী লাগে? প্রথম লাগে সমস্যা দেখার চোখ। এটা হয় শিক্ষা থেকে, পড়ালেখা থেকে। লাগে প্রবলেম সলভিং টেকনিক, এটাও পড়ালেখা আর চর্চা থেকে হয়। তারপর লাগে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, কমিউনিকেশন। লাগে সেলসম্যানশিপ। হিসাব নিকাশ করতে পারা। এর কোনটি মানুষ মায়ের পেট থেকে শিখে আসে? তার মানে ঠিকমত চেষ্টা করলে উদ্যোক্তা তৈরি করা যাবে।

বাংলা ট্রিবিউন: 'চাকরি খুঁজব না, চাকরি দেব' বিষয়টি কী ব্যাখ্যা করবেন?

মুনির হাসান: ২০১১ সালের গণিত অলিম্পিয়াডের শেষে আমি এই নিয়ে একটা লেখা লিখলাম 'চাকরি খুঁজব না, চাকরি দেব'। আমরা যখন ক্যাম্পেইন শুরু করি তখন 'আমরা চাকরি করব না, আমরা চাকরি দেব' স্লোগানটা ব্যবহার করা হত। তবে লেখার সময় ওটাকে আরও একধাপ এগিয়ে আনা হয়। লেখাটা ছাপা হওয়ার সাতদিন পর, ২০১১ সালের ১৩ এপ্রিল, আমি ফেসবুকে ওই নামে একটা গ্রুপ খুললাম। কীভাবে কী করা যায় আলোচনা করা শুরু করলাম।

এখােন প্রথমে দেখলাম কেউ কিছু শেযার করতে চায় না। আইডিয়া চুরি যাওয়ার একটা ভয়। বললাম, আইডিয়া চুরি করার কিছু নেই। যে আইডিয়া বাস্তবায়ন করে আইডিয়া তার। ধীরে ধীরে ওই গ্রুপে লোকজন বাড়তে শুরু করে। সবাই জিজ্ঞেস করে এটা কীভাবে করব, ওটা কীভাবে করব। দেখলাম যে কিছু কিছু লোক উদ্যোক্তা হতে চায় কিন্তু সাহস পায় না। আমরা সাহস দিতে শুরু করলাম। এরপর এটা আস্তে আস্তে বাড়তে শুরু করল। অনেকেই নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে শুরু করল, অনেকেই সাপ্লাইচেইনের খবর দিতে শুরু করল।

আমরা চাই তুমি তোমার আইডিয়াটা শেয়ার কর। আইডিয়া শেয়ার করলে কিছু হয় না। অনেকটা 'মুক্ত দর্শনের' মতো। যেমন, টি-শার্টের ক্ষেত্রে দেখা গেল একজন টি-শার্ট বানাতে চায়। সে জিজ্ঞাসা করল, কোথায় কী পাবে। তখন ১০ জন তাকে বলে দিচ্ছে। কারণ, তারা দেখেছে এতে কিছু যায় আসে না।

এরপর আরেকটা সমস্যা সৃষ্টি হলো, কথা বলে সব সমস্যার সমাধান হয় না। এক বছর পর সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা এখন ফেসবুক থেকে বের হই। এর মধ্যে দেখলাম কিছু কিছু সমস্যা আবার ব্যবহারিকভাবে দেখিয়ে দিতে হয়। যেমন, হিসাব বা লেজার বুঝানোর জন্য ৩০ মিনিটের লেকচার দিলেই হয়। তাই প্রথম শুরু করলাম কর্মশালা দিয়ে। আরও কিছু সমস্যা ধরা পড়ল যেমন, বাংলাদেশের মানুষের আইডিয়া নেই। এজন্য কেউ কিছু করলে সবাই সেটা নকল করে। আরেকটা হলো, আইডিয়া পেলেও এরপর কী করতে হবে এটা জানে না। কোথা থেকে কাঁচামাল পাবে এটাও জানে না। কীভাবে মার্কেটিং করতে হবে জানে না।

একটা কর্মশালার মাধ্যমে আমরা পুরো বিজনেস সাইকেলটা বোঝাতাম। আমাদের স্লোগান হলো 'পথে নামলে পথ চেনা যায়'। আমাদের গ্রুপের এক সদস্য, সাইফুল ইসলাম তখন একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। সে আমাদের কথা শুনে বাসায় গিয়ে সেদিনই পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করে। এখন সে বেশ বড় উদ্যোক্তা হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে।

এভাবে আমাদের এখানে উদ্যোক্তা গ্রুপ তৈরি হতে শুরু করলো। এর মধ্যে তারা ই-কমার্স সাইট বানাতে লাগলো। অনেকেরই অভিযোগ ছিল আমাদের তো কুরিয়ারে সমস্যা। তখন আরেকজন বললো আমি তাহলে কুরিয়ার বানাই। এভাবে বিপ্লব ঘোষ রাহুল শুরু করলো ই-কুরিয়ার। আরেকটা সমস্যা দেখা দিল উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে। পার্সোনালাইজড ভিউ তো দেওয়া যায় না। তখন একজন দাঁড়ালো। তারা মগের গায়ে 'আপনার' ছবি ছাপিয়ে দেবে। এভাবে অনেকই কাজে নেমে পড়তে শুরু করল। আমাদের গ্রুপে এখন ৩৫ হাজারের বেশি সদস্য আছে। আমরা সারাদেশে কাজ শুরু করেছি। এটা এখন একটা প্লাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

দ্বিতীয় বছর শেষে আমরা নতুন উদ্যোক্তাদের সম্মাননা দিলাম। উদ্দেশ্য অণুপ্রাণিত করা। আমরা এখন সম্ভব হলে বাড়তি সাপোর্ট দিই। যেমন মার্কেটিং সাপোর্টটা আমরা দিই। বিভিন্ন জায়গায় পরিচয় করিয়ে দিই। এরপর আমাদের উদ্যোক্তা যখন বেশ বড় সংখ্যায় পৌঁছে তখন ২০১৪ সালে আমরা দেখতে পাই উদ্যোক্তারা কোনও মেলায় অংশ নিতে পারে না। কারণ, প্রচলিত মেলায় অংশ নিতে অনেক টাকা লাগে, একটা স্টল নিতে। তখন সিদ্ধান্ত নিলাম আমরাই একটা মেলা করব, নাম দিলাম 'উদ্যোক্তা হাট'। ওই মেলা থেকে কয়েকজনকে আবার বড় ব্যবসায়ীরা পছন্দ করল এবং তাদের সঙ্গে বড় চুক্তিও করল। এভাবে কিছু দাঁড়িয়ে গেছে।

মূল কথা যেটা দাঁড়ালো তা হচ্ছে, তুমি একজনকে জোর করে উদ্যোক্তা বানাতে পারবা না, কিন্তু কেউ উদ্যোক্তা হতে চাইলে তুমি তাকে হেল্প করতে পারবা যাতে সে পিছিয়ে না পড়ে। যে কেউ উদ্যোক্তা হতে পারে। তাকে পথ দেখিয়ে দিতে হবে। তাকে সাপোর্ট দিতে হবে। আমেরিকায় অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা নতুন উদ্যোক্তাদের সহায়তা করে। এজন্যই তারা সবচেয়ে বড় উদ্যোক্তার দেশ। অমাদের ২০১৫ সালের লক্ষ্য হচ্ছে যে ক'জন উদ্যোক্তা হয়েছে তাদের কীভাবে আরও সফল করা যায় তার জন্য চেষ্টা করা। আমাদের একটা বড় সমস্যা হচ্ছে সেকেন্ড স্টেজ ফান্ডিং। বিদেশে এটা ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টরা করে। আমাদের তো সেরকম কেউ নেই। তাই ব্যাংকের দরকার। কিন্তু ব্যাংক থেকে কোনও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার লোন পাওয়াটা 'আকামের চাঁদ' পাওয়ার মতো ব্যাপার।

প্রথমত তার আইডিয়া থাকতে হয়। উদ্যোক্তা হওয়া বলে কিছু নেই। প্রকৃতপক্ষে আমাকে একটা সমস্যার সমাধান করতে হবে। যেমন আমাদের সমাজে অনেক ধরনের অভাব আছে। ওগুলোর যেকোনও একটা সমাধান করতে পারা মানেই উদ্যোক্তা হওয়া। যেখানেই অভাব সেখানেই সম্ভাবনা। তাকে প্রচুর পড়াশোনা করতে হবে। কারণ উদ্যোক্তা হওয়া কিন্তু কঠিন। কেউ ব্যবসা করতে এলেই বলে টাকা কোথায় ব্যবসা করার? আমি বলি টাকা লাগে না ব্যবসা করতে।

বাংলা ট্রিবিউন: উদ্যোক্তা হতে হলে কী করতে হয়?

মুনির হাসান: প্রথমত তার আইডিয়া থাকতে হয়। উদ্যোক্তা হওয়া বলে কিছু নেই। প্রকৃতপক্ষে আমাকে একটা সমস্যার সমাধান করতে হবে। যেমন আমাদের সমাজে অনেক ধরনের অভাব আছে। ওগুলোর যেকোনও একটা সমাধান করতে পারা মানেই উদ্যোক্তা হওয়া। যেখানেই অভাব সেখানেই সম্ভাবনা তাকে প্রচুর পড়াশোনা করতে হবে। কারণ উদ্যোক্তা হওয়া কিন্তু কঠিন। কেউ ব্যবসা করতে এলেই বলে টাকা কোথায় ব্যবসা করার? আমি বলি টাকা লাগে না ব্যবসা করতে।

উদ্যোক্তাকে প্রথমে প্রমাণ করতে হয় যে তার ধারণাটা সঠিক। এটি করার জন্য বড় অংকের টাকা লাগে না। এদিক সেদিক থেকে যোগাড় করা যায়। আমাদের তামিম শাহরিয়ার মুক্ত সফট শুরুর সময় নিজের ফ্রিল্যান্সিং-এর টাকা দিয়ে শুরু করেছে। অন্য একজন ৮০ জনের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা করে নিয়েছে। পরে ফেরৎ দিয়েছে।

আমাদের দেশে শুরু করতে হয় 'ওয়ান ম্যান' আর্মি হিসেবে। কাজে প্রায় সবকিছু জানতে হবে। বিশেষ করে মার্কেটিং এবং সেলস। কারণ ওইটা না হলে ব্যাপারটা হবে অন্ধকার ঘরে একটা সুন্দরী মেয়ের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে হাসা। তবে, যে সার্ভিস বা পণ্য তৈরি হবে সেটার পেছনেই জীবনপাত করতে হবে। সেটাকে বিকশিত করতে হবে। প্রথম ধাপটা পেরোতে পারাটাই আসল। পরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অনেক সঙ্গী পাওয়া যাবে।

আমাদের দেশে শুরু করতে হয় 'ওয়ান ম্যান' আর্মি হিসেবে। কাজে প্রায় সবকিছু জানতে হবে। বিশেষ করে মার্কেটিং এবং সেলস। কারণ ওইটা না হলে ব্যাপারটা হবে অন্ধকার ঘরে একটা সুন্দরী মেয়ের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে হাসা। তবে, যে সার্ভিস বা পণ্য তৈরি হবে সেটার পেছনেই জীবনপাত করতে হবে। সেটাকে বিকশিত করতে হবে। প্রথম ধাপটা পেরোতে পারাটাই আসল। পরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অনেক সঙ্গী পাওয়া যাবে। 

বাংলা ট্রিবিউন: বাংলায় মুক্ত তথ্যকোষ বা উইকিডিয়ার সঙ্গেও অাপনি জড়িত। অামরা এ মাধ্যমটিতে কতদূর এগিয়েছি?

মুনির হাসান: উইকিপিডিয়াতে আমাদের এখন ৩৪ হাজারের বেশি কনটেন্ট আছে। কিন্তু আমাদের নির্বাচিত এন্ট্রি আছে মাত্র কয়েকটা। মানেটা হচ্ছে আমাদের ভালো ও অসাধারণ মানের এন্ট্রি নেই। সবাই এন্ট্রি করতে চায়। কিন্তু এটাকে বলিষ্ঠ করে তোলার ক্ষেত্রে আমাদের ঘাটতি আছে। ওই জায়গাগুলোতে আমরা কাজ করার চেষ্টায় আছি। উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন দিয়ে আমরা চেষ্টাটা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা সংখ্যা বাড়াতে চাই না। তার চেয়ে কোয়ালিটি বাড়াতে চাই। ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এসে জিমি ওয়েলস আমাদের আরও সাহস দিয়ে গেছেন। কারণ তিনি জানিয়েছন, নিবন্ধের ডেপথ হিসাবে আমরা বিশ্বের তিন নম্বরে!

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি তো অনেক পরিচয়ে পরিচিত। কোন পরিচয়টা আপনি ব্যবহার করেন।

মুনির হাসান: ম্যাথ অলিম্পিয়াডের (সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি) পরিচয়ে। এখন পর্যন্ত যত কাজ করেছি এটা করেই সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি পেয়েছি। ওটাকে একটা জায়গায় নিতে পেরেছি। পরের প্রজন্মকেও লাইন আপ করে ফেলতে পেরেছি যাতে আমাদের অবর্তমানে এটি এগিয়ে যেতে পারে।

আল্লাহর রহমতে আমি মনে হয় আমার প্রজন্মের সবচেয়ে সৌভাগ্যবান কারণ আমি আমার আগের এবং পরের দুই প্রজন্মেরই অভূতপূর্ব সহায়তা পেয়েছি। তবে যেতে হবে আরও অনেক দূর। এখন এটা একটা সিস্টেমের মধ্যে এসেছে। এখন আমি অনেক খুশি। ওটা দাঁড়িয়ে গেছে। গণিত অলিম্পিয়াডে একেবারে বাচ্চাদের নিয়ে গভীর থেকে কাজ করা যায়। গণিত অলিম্পিয়াড নিয়ে কাজের জন্য ২০০৮ সালে আমি অশোকা ফেলো হয়েছি। কেমব্রিজ থেকে করা স্যোসাল এন্টারপ্রিনিয়রশিপের একটি পাঠ্যপুস্তকের জন্য আমার কেসটাকে বিবেচনা করা হয়েছে। গবেষকরা সেখান থেকে এসে আমার ইন্টারভিউ করে পরে সেটাকে তাদের বইয়ে স্থান দিয়েছেন। আর দেশের মানুষও আমার এই পরিচয়টাই সবচেয়ে বেশি জানে।

ইদানিং বিজ্ঞান নিয়েও কাজ করছি। নিজেকে একজন বিজ্ঞান আন্দোলনের কর্মী হিসাবেও ভাবতে ভাল লাগে।

বাংলা ট্রিবিউন: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মকে নিয়ন্ত্রণের কথা উঠেছে জোরে-সোরে। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখেন?

মুনির হাসান: আমার কাছে মনে হয় ফেসবুককে নিয়ন্ত্রণ করা ঠিক নয়। এটা একটা সামাজিক মিডিয়া। বরং আমি তথ্যের উন্মুক্ততার পক্ষে। যত বেশি তথ্য উন্মুক্ত হবে যত বেশি তথ্য পাওয়া যাবে। একজন মানুষ তত ভালো একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। আইন করে, ছকে ফেলা হলে যারা এগুলো আনতে চাচ্ছে তাদের জন্যই সমস্যা হবে।

আমাদের যেমন একটা প্রোগ্রাম আছে তিন-‘স’: সচেতনতা, সতর্কতা ও সক্ষমতা। সচেতন হতে হবে, পাসওয়ার্ড কাউকে দিয়ে যদি আমি বলি যে কেউ আমার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করেছে তাহলে তো হবে না। সতর্ক থাকতে হবে। আমাকে বুঝতে হবে, আমার ব্যক্তিগত জিনিস কোনটা আর পাবলিক জিনিস কোনটা। যেমন ধরা যাক, আমাদের জেনারেশন পর্যন্ত বিয়ের ছবি আমরা বাসায় কেউ বেড়াতে এলে তাকে দেখতে দিতাম। কিন্তু কখনও রাস্তার মোড়ে গিয়ে সবাইকে ডেক ডেকে দেখাতাম না। মাধ্যম বদলালেও এই বোধটা কিন্তু থাকতে হবে কোনটা আমার প্রাইভেট, কোনটা পাবলিক। ফেসবুকের মতো মাধ্যমগুলো কিন্তু সবকিছু পাবলিক করতে আমাকে প্ররোচিত করে। কারণ সেটাই তার ব্যবসা। সে আমাকে, আপনাকে, আমাদের সম্পর্ককে বিক্রি করে। কাজে সেটা তো সে চাইবেই। আমাকে তাই সতর্ক থাকতে হবে। এটা বুঝতে হলে শিক্ষাটা ঠিক থাকতে হবে। 

বাংলা ট্রিবিউন: কীভাবে এ মাধ্যমটিকে নিরাপদ রাখা সম্ভব। যদি বলি আমরা এ মাধ্যমে কীভাবে নিরাপদ থাকব?

মুনির হাসান: আমাদের নিরাপদ থাকার কৌশল দরকার। আমাদের যেমন একটা প্রোগ্রাম আছে তিন-‘স’: সচেতনতা, সতর্কতা ও সক্ষমতা। সচেতন হতে হবে, পাসওয়ার্ড কাউকে দিয়ে যদি আমি বলি যে কেউ আমার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করেছে তাহলে তো হবে না। সতর্ক থাকতে হবে। আমাকে বুঝতে হবে, আমার ব্যক্তিগত জিনিস কোনটা আর পাবলিক জিনিস কোনটা। যেমন ধরা যাক, আমাদের জেনারেশন পর্যন্ত বিয়ের ছবি আমরা বাসায় কেউ বেড়াতে এলে তাকে দেখতে দিতাম। কিন্তু কখনও রাস্তার মোড়ে গিয়ে সবাইকে ডেক ডেকে দেখাতাম না। মাধ্যম বদলালেও এই বোধটা কিন্তু থাকতে হবে কোনটা আমার প্রাইভেট, কোনটা পাবলিক। ফেসবুকের মতো মাধ্যমগুলো কিন্তু সবকিছু পাবলিক করতে আমাকে প্ররোচিত করে। কারণ সেটাই তার ব্যবসা। সে আমাকে, আপনাকে, আমাদের সম্পর্ককে বিক্রি করে। কাজে সেটা তো সে চাইবেই। আমাকে তাই সতর্ক থাকতে হবে। এটা বুঝতে হলে শিক্ষাটা ঠিক থাকতে হবে।

ফেসবুকসহ অন্যান্য সেবাধর্মী প্ল্যাটফর্ম আটকানোর চেষ্টা না করে যদি লোকজনকে সঠিক শিক্ষা দেওয়া যায় তাহলেই সমস্যার সমাধান হবে। এরপরেও যদি কোনও সমস্যা হয় যায় তখন তাকে সক্ষম হতে হবে সে যেন এগুলো মোকাবেলা করতে পারে। কোথায় অভিযোগ করতে হবে, ফেসবুককে কীভাবে জানাতে হবে, পুলিশকে কীভাবে জানাতে হবে। কীভাবে প্রমাণ যোগাড় করতে হবে সে সম্পর্কেও সক্ষমতা থাকা জরুরি। অথবা এমন কাউকে নিজের নেটওয়ার্কে রাখতে হবে যে কি না এ ব্যাপারে সাহায্য করতে পারে।

বাংলা ট্রিবিউন: বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করতেও আপনি আন্দোলনে নেমেছেন। সেই অান্দোলনে অাপনি কতটা সফল? বিজ্ঞান শিক্ষাকে কী জনপ্রিয় করা গেল?

মুনির হাসান: গণিত অলিম্পিয়াডের পর আমাদের টার্গেট হচ্ছে বিজ্ঞান। আমাদের দেশে ১৯৯৪ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে ১৮-২০ ভাগের মতো বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী কমে গেছে এবং তা ক্রমেই কমছিল। তখন আমরা ভাবলাম যে এটাকে জনপ্রিয় করা দরকার। দেখা গেল, আমাদের মূল সমস্যাটা হচ্ছে শিক্ষা। বিজ্ঞানকে যদি আপনি মুখস্ত করান তাহলে তো আর বিজ্ঞান আনন্দময় থাকে না। আর আমাদের দেশে হাতে কলমে করার কোনও সুযোগ শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে না। আমাদের দেশে যে প্রচলিত বিজ্ঞান মেলাটা আছে সেখানেও বলতে গেলে বিজ্ঞান নেই, আছে শুধু মেলা।

বিজ্ঞানের একটা বড় বিষয় হচ্ছে মাপামাপি। মেজারমেন্ট বিজ্ঞানের অনেক বড় পার্ট। এগুলো সূচনা করতে আমরা শুরু করেছি চিলড্রেন সায়েন্স কংগ্রেস। আমরা দেখেছি, আমাদের ছেলেমেয়েদের শেখালে তারা খুব ভালো শেখে। বিজ্ঞানটা হচ্ছে আসলে পর্যবেক্ষণ, পরিক্ষণ এবং প্রমাণ। এর বাইরে যেন বিজ্ঞানকে না সরানো হয়। ছেলেমেয়েক সমস্যা বোঝা ও সমাধানের পদ্ধতিটা শেখাতে হবে। তবে আশার কথা হচ্ছে, বিজ্ঞান নিয়ে অনেকে কাজ করছে।

আমি অবশ্য আমার কোনও কাজের সাফল্য ব্যর্থতা হিসাব করি না। আমি মনে করি নিজের কাজটা ঠিকঠাক মতো করাটাই আমার কাজ। চালিয়ে নিয়ে যাওয়াটাই আসল।

বিজ্ঞানের একটা বড় বিষয় হচ্ছে মাপামাপি। মেজারমেন্ট বিজ্ঞানের অনেক বড় পার্ট। এগুলো সূচনা করতে আমরা শুরু করেছি চিলড্রেন সায়েন্স কংগ্রেস। আমরা দেখেছি, আমাদের ছেলেমেয়েদের শেখালে তারা খুব ভালো শেখে। বিজ্ঞানটা হচ্ছে আসলে পর্যবেক্ষণ, পরিক্ষণ এবং প্রমাণ। এর বাইরে যেন বিজ্ঞানকে না সরানো হয়। ছেলেমেয়েক সমস্যা বোঝা ও সমাধানের পদ্ধতিটা শেখাতে হবে। তবে আশার কথা হচ্ছে, বিজ্ঞান নিয়ে অনেকে কাজ করছে।

বাংলা ট্রিবিউন: দেশে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অাপনার কাছে জানতে চাই। এ শিক্ষার সংকট কোথায়?

মুনির হাসান: আমাদের দেশে তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রতি বছর ৯ হাজার শিক্ষার্থী বের হয়। প্রথম এক হাজার বিদেশে চলে যায়। এর পরের ২ হাজারকে ঘষামাজা করে কাজে লাগানো যায়। কিন্তু বাকি ছয় হাজারই কিন্তু নির্দিষ্ট কোনও মান নিয়ে বের হয় না বলে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি অভিযোগ করে যাচ্ছে। অথচ ওদের অনেকই আবার ফ্রিল্যান্সিং-এ ভাল করছে। তার মানে একটা বৈপরীত্য আছে। এটার সমাধার করা দরকার।

আমাদের শিক্ষার্থীদের কমপ্লিট সফটওয়্যার লাইফ-সাইকেল বুঝতে হবে। কী কী সাবজেক্ট আছে সেগুলো জানতে হবে এবং সবগুলোই করতে হবে। খালি যেগুলোর বাজার মূল্য বেশি সেটি না। যেমন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বা অ্যালগরিদমের সুফল ছাত্র জীবনে বোঝা মুশকিল। সেজন্য অনেকেই এগুলোতে মনোযোগ দেয় না। তাদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে এমন বিষয় যা থেকে এখুনি টাকা কামানো যায়। যেমন ওয়েব ডিজাইন। এগুলো করে ফ্রিল্যান্সিং করলে হাজার বিশেক টাকা পাওয়া যায় বটে তবে সেটি আখেরে কাজ লাগে না। যেখানে তার শিক্ষাজীবন শেষ করে দুই লাখ টাকা আয়ের পোটেনশিয়ালিটি অর্জন করার কথা সেখানে সে সাময়িকভাবে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে আটকে যায়। সে নিজেকে 'ডেভেলপ' করে না। এই একটা চক্রের মধ্যে আমরা পড়ে গেছি। আমাদের দেশে অ্যাডভান্সড ট্রেনিং ইন্ডাস্ট্রি নেই। এখন আমাদের দেশে একমাত্র ভালো ট্রেনিং করায় বেসিস। তাদের একার পক্ষে কয়জনকে ট্রেনিং করানো সম্ভব?

বাংলা ট্রিবিউন: অামাদের দেশে তথ্যপ্রযুক্তির বাজার নিয়ে কেন গবেষণা হয় না?

মুনির হাসান: কিছু গবেষণা তো হয়ই। কিছু গবেষণা বড় বড় ইন্ডাস্ট্রি প্লেয়াররা করে দেয়। আমার মতে আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের দুই ধাপ এগোতে এক পা পেছানোর নীতিতে যাওয়া উচিত। এক পা পেছনোটা হচ্ছে আমরা স্বীকার করে নেব আমাদের দেশের তথ্যপ্রযুক্তিতে ঝামেলা আছে। এক বছর আমরা দক্ষ মানুষ তৈরি করব। মধ্যম মানের আইটি সার্ভিসের যে গ্যাপটা রয়েছে তা পূরণ করবে তারা। এগুলো হতে পারে ছোট ছোট আইটি প্রতিষ্ঠান, যারা বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য লোক তৈরি করবে। আরেকটা হচ্ছে ট্রেনিং ইন্সটিটিউট, যারা সরাসরি লোক তৈরি করে দেবে।

এছাড়া নির্দিষ্ট সেক্টরে 'বেস্ট' লোককে ফাইনান্স করতে হবে সরকারের তরফ থেকে যে, তুমি কিছু লোক তৈরি করে দাও। টাকা আমি দিচ্ছি। এতে পরের পদ্ধতিটা অনেক সহজ হয়ে যাবে এবং ইন্ডাস্ট্রি অনেক দ্রুত এগিয়ে যাবে। আর একটা কাজ করতে হবে সেটা হলো দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহার করা।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার এসব কর্মকাণ্ড ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে কতটা সহায়ক?

মুনির হাসান: আমার ধারণা বাংলাদেশে ডিজিটাল বৈষম্য কমবে। আমাদের দেশে কম টাকায় ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করতে হবে, ইন্টারনেটে কনটেন্ট বাড়াতে হবে। যেমন, একটা ছেলে ইন্টারনেটে ফেসবুকিং না করে কী করবে? আমাদের তো তার জন্য কনটেন্ট বানাতে হবে। আমি আমার ছেলের উদাহরণ দিতে পারি। সে যখন বেশি টেলিভিশন দেখত তখন আমি বিজ্ঞানের নানান মজার বই এনে দিলাম। সে ওগুলো নিয়ে এত ব্যস্ত হয়ে পড়ল যে টিভি দেখা বন্ধ করে দিল।

কিছুদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একটা ইন্টারভিউতে তিনি বলেছিলেন, 'নেক্সট টাইম ভিডিও গেমস না কিনে তৈরি করো। অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড না করে নিজেই ডিজাইন কর।'

ওটাই আসল। আমাদের শিক্ষার্থীদের সামনে হাজারো চ্যালেঞ্জ দিতে হবে যাতে তারা নিজেদেরকে মাপতে পারে। ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত তো আছেই, সেই সঙ্গে মুক্তচিন্তার বাংলাদেশ চাই। যেখানে কোনও ছেলেমেয়েকে কিছু করতে বাধ্য করা হবে না। যে যেটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে সে সেটাই করবে। যার যা পড়তে ইচ্ছে সেটা পড়বে। বাংলায় অনার্স করে ১০ বছর চাকরি করার পর কারও যদি মনে হয় কম্পিউটার সায়েন্সে একটা ডিগ্রি করবে তখন লাল দালানের কেউ যেন তাকে না বলে - তুমি কম্পিউটার সায়েন্সের কী বোঝ?

বাংলা ট্রিবিউন: কেমন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন?

মুনির হাসান: ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত তো আছেই, সেই সঙ্গে মুক্তচিন্তার বাংলাদেশ চাই। যেখানে কোনও ছেলেমেয়েকে কিছু করতে বাধ্য করা হবে না। যে যেটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে সে সেটাই করবে। যার যা পড়তে ইচ্ছে সেটা পড়বে। বাংলায় অনার্স করে ১০ বছর চাকরি করার পর কারও যদি মনে হয় কম্পিউটার সায়েন্সে একটা ডিগ্রি করবে তখন লাল দালানের কেউ যেন তাকে না বলে - তুমি কম্পিউটার সায়েন্সের কী বোঝ?

বাংলা ট্রিবিউন: তরুণদের স্বপ্ন দেখা এবং দেখতে সাহায্য করার জন্য অাপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

মুনির হাসান: বাংলা ট্রিবিউনকেও ধন্যবাদ। সবার জীবন পাইয়ের মতো সুন্দর হোক।

শ্রুতি লিখন: এম. এম রহমান

/এইচএএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।