সকাল ০৮:৪১ ; মঙ্গলবার ;  ২৩ জুলাই, ২০১৯  

টাইগারদের বাধা তিন ‘ল্যান্ডে’!

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

মুসা ইব্রাহীম, সিডনি থেকে॥

এবারের বিশ্বকাপের আসরের গ্রুপ পর্বে এ পর্যন্ত যতগুলো খেলা হয়েছে তাতে প্রথম ৩ ম্যাচ থেকে বাংলাদেশের পয়েন্ট এখন ৩। গ্রুপেও অবস্থান তৃতীয়। পুল ‘এ’-তে এখন পর্যন্ত পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষ চারটি দল হল নিউজিল্যান্ড (৪ খেলায় ৪ জয়, ৮ পয়েন্ট, নেট রান রেট ৩.৫৮৯); শ্রীলঙ্কা (৪ খেলায় ৩ জয়, ৬ পয়েন্ট, নেট রান রেট ০.১২৮); বাংলাদেশ (৩ খেলায় ১ জয়, ৩ পয়েন্ট, নেট রান রেট ০.১৩০) এবং অস্ট্রেলিয়া (৩ খেলায় ১ জয়, ৩ পয়েন্ট, নেট রান রেট -০.৩০৫)।

যদি এই অবস্থাতেই চলে, তাহলে আর কোনও কথাই নেই। বাংলাদেশ কোনও বাধা ছাড়াই চলে যাবে দ্বিতীয় রাউন্ড বা কোয়ার্টার ফাইনালে। কিন্তু বাংলাদেশের সামনে এখন বাধা হয়ে আছে ইংল্যান্ড। কারণ ইংল্যান্ডের অবস্থান পুল এ-তে ছয় নম্বরে (৪ খেলায় ১ জয়, ২ পয়েন্ট, নেট রান রেট -১.২০১)। তারপরও দলটি তার পরবর্তী দু’টি খেলায় জিতে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার আশা জিইয়ে রাখতে চাইবে। কাজেই বাংলাদেশকে তার বাকি তিন ম্যাচে অন্তত দু’টিতে জিততেই হবে।

নেট রান রেট দিয়ে এখন আর কোনও কাজ হবে না, দু’টি খেলায় পূর্ণ পয়েন্ট পেলেই শুধু দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারবে। এর কোনও বিকল্প নেই।

কাকতালীয়ভাবে বাংলাদেশের বাকি তিনটি খেলা তিন ‘ল্যান্ড’র বিপক্ষে। ৫ মার্চ স্কটল্যান্ড, ৯ মার্চ ইংল্যান্ড ও ১৩ মার্চ নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে। যদিও গ্রুপের অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল স্কটল্যান্ডের সঙ্গে জয়ের আশাতেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। তারপরও বাংলাদেশের পারফরম্যান্স এখন পর্যন্ত ‘জয় অবশ্যম্ভাবী’ ধরে নেওয়ার মতো নয়। বড় দলগুলোর বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স যতো ভালো, পুঁচকে দলগুলোর বিপক্ষে ততোটাই খারাপ। তবে স্কটল্যান্ড এখন পর্যন্ত ততোটা অঘটনঘটনপটিয়সী হয়ে ওঠেনি। কাজেই এই ম্যাচ জিততে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন অনেকটাই উজ্জ্বল হবে বাংলাদেশের।
মাশরাফি-সাকিব-মুশফিক-রিয়াদ ঠিকঠাক জ্বলে উঠতে পারলে কাজটা সহজই হবে বলা যায়। অন্তত আফগানিস্তানের সঙ্গে ম্যাচের সুখস্মৃতি নিয়েই মাঠে নামবে এদিন বাংলাদেশ।

আর ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের খেলা ৯ মার্চ। স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে এ ম্যাচে ইংল্যান্ডকে কুপোকাত করলেই বাজিমাত। নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনাল। গত বিশ্বকাপে নিজেদের মাটিতে ইংল্যান্ডকে ধরাশায়ী করেছিল মুশফিক বাহিনী। সেটা দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগানোর কথা। তবে ইংল্যান্ডকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনও কারণ নেই। গত ম্যাচে যদিও তারা শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ৯ উইকেটে হেরেছে তারপরও ইংল্যান্ড কিন্তু প্রথমে ব্যাট করে ৩০৯ রান সংগ্রহ করেছিল। এটা অবশ্য ইংল্যান্ডের শক্তিমত্তার সঠিক পরিচয় হতে পারছে না। কারণ তারা এখন পর্যন্ত চারটি খেলায় ৩টিতেই হেরে গেছে। কাজেই ইংল্যান্ডের বর্তমান ভঙ্গুর অবস্থা সহায়ক হতে পারে টাইগারদের জন্য। স্কটল্যান্ডকে ৫ মে ম্যাচে হারাতে পারলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লাল-সবুজের দল আরও উজ্জীবিত মনোবল নিয়েই মাঠে নামতে পারবে।

বাংলাদেশিদের এখন কায়মনো বাক্যে প্রার্থনা অন্তত দু’টি ম্যাচে জয়। বিশেষ করে স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এখানে উল্লেখ্য যে আগামী ১৩ মার্চ বাংলাদেশের খেলা পয়েন্ট টেবিলের সবচেয়ে ওপরে থাকা স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। যদিও দলটিকে সর্বশেষ সাক্ষাতে দেশের মাটিতে ‘বাংলাওয়াশ’ করার অভিজ্ঞতা আছে টাইগারদের। এবার কিন্তু লড়াই হবে নিউজিল্যান্ডে। যেখানে দলটির পারফরম্যান্স শুধু 'আকাশচুম্বী' বললে কম বলা হয়। দলের সদস্যরা একের পর এক রেকর্ড নিজের করে নেওয়ার প্রতিযোগিতায় মেতেছেন। যদি বাংলাদেশের বিপক্ষেও তাই হয়, তাহলে বলা চলে টাইগারদের কপালে ‘শনি’ আছে।

টাইগাররা অবশ্য বর্তমানের নিউজিল্যান্ড দলের পারফরম্যান্স নয়, গত সাক্ষাতের সেই ‘বাংলাওয়াশ’ স্মৃতিকেই মাথায় রেখে মাঠে নামতে চাইবে। তারপরও স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় নিশ্চিত হলে নির্ভার হয়েই মাঠে নামতে পারবে টাইগাররা। আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে গেলে ইংল্যান্ডের পয়েন্ট হবে চার। সেক্ষেত্রে শেষ ম্যাচে সহজ প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানকে হারিয়ে ছয় পয়েন্ট নিয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে চাইবে ইংল্যান্ড। তখন বাংলাদেশকে জিততেই হবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।

/এসটি/টিএন/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।