বিকাল ০৪:৫৮ ; বৃহস্পতিবার ;  ২৩ মে, ২০১৯  

ক্যাসিনো বিতর্কে সুজন

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

মুসা ইব্রাহীম, মেলবোর্ন থেকে॥

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ‘মেলবোর্ন জুজু’ যেনও আর কাটছেনই না। এবার সমালোচনার তীর দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনের দিকে। অভিযোগ তিনি মেলবোর্নের এইট হুইটম্যান স্ট্রিটের ক্রাউন ক্যাসিনোতে গেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে ক্রিকেট দলের খেলা সাইক্লোন আর বৃষ্টিতে ভেসে যেতে না যেতেই দলে আসে ‘আলআমিন ধাক্কা’। অভিযোগ– তিনি কাউকে না জানিয়ে ১৫ মিনিট হোটেলের বাইরে ছিলেন। দল যখন ব্রিসবেন থেকে মেলবোর্নে আসে, তিনিও দলের সঙ্গে ছিলেন ঠিকই। কিন্তু মেলবোর্ন থেকে তাকে ঢাকাগামী ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হয় – দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে। এর পরপরই দল গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে যায় ৯২ রানে। পরদিন শুক্রবার দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার সঙ্গে মেলবোর্নের হান্টিংডেলের এক মসজিদে জুমার নামাজের পর প্রবাসী নজরুল ইসলাম বাদানুবাদে জড়িয়ে ‘মেলবোর্ন জুজু’ তুঙ্গে তুলে দেন। এবার সেই আগুনে ঘি ঢেলেছে ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতেই ক্রাউন ক্যাসিনোতে তোলা খালেদ মাহমুদের একটা ছবি।

যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচ হাতুরাসিংহে আর ম্যানেজার খালেদ মাহমুদের মধ্যে বিরোধের একটা খবর দলের প্রস্তুতিমূলক খেলার সময় সংবাদ মাধ্যমে এসে এই ‘জুজু’র ঢেউয়ে প্রাথমিক বাতাস লাগিয়েছিল– সেটাও একেবারে শুরুর কথা। এবার দল মেলবোর্ন থেকে নিউজিল্যান্ডের নেলসনে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে যাওয়ার পর খালেদ মাহমুদের সেই ছবি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ফেসবুকে অনেকেই মন্তব্য করছেন– 'হোটেলে ফিরতে ১৫ মিনিট দেরি করলে যদি আল আমিনকে দেশে ফিরতে হয়, তাহলে খালেদ মাহমুদকে তো আরও বেশি করে দলীয় শৃঙ্খলা মানা উচিত। যাতে করে অন্যরা তাকে দেখে শিখতে পারে।'

এ প্রসঙ্গে নেলসনে অবস্থানরত দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, এটা নিয়ে তিনি মোটেই ভাবছেন না। কারণ তিনি জানেন যে, আসলে কী কারণে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।

তাহলে কেন গিয়েছিলেন ক্যাসিনোতে, যা নিয়ে কয়েকটি অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এবং ফেসবুকে সমালোচনা হচ্ছে? তার ভাষ্য– 'সেদিন দল হারার পর সবারই মন খারাপ ছিল। সবাই দলের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা করছিলাম। এজন্য রাতের খাবার খাওয়ার সময় পার হয়ে যায়। অনেক রাতে যখন দলের সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রাতের খাবার খেতে বের হয়েছি, তখন ওই ক্যাসিনোর রেস্টুরেন্ট ছাড়া কাছাকাছি আর কিছু খোলা ছিল না। এজন্যই সেখানে গিয়েছি। এ সময় কয়েকজন ছবি তুলেছে। তবে এ নিয়ে আমি মোটেই চিন্তিত নই।'

এ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাবেন কিনা জানতে চাইলে খালেদ মাহমুদ বলেন, 'প্রশ্নই ওঠে না। আমাদের চিন্তা সামনের দিকে, আগামী ম্যাচগুলো নিয়ে। দল যাতে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে ভালো খেলে জিততে পারে এবং পূর্ণ পয়েন্ট পেতে পারে, আমরা এখন এসব নিয়ে আছি। কোন জায়গায় কে কি ছবি তুললো, এ নিয়ে সময় ব্যয় করার কোনও মানে নেই।'

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখনই খালেদ মাহমুদের ক্যাসিনো যাওয়া নিয়ে এখনই শক্ত কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন দল বিশ্বকাপ শেষে দেশে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পক্ষপাতি। তিনি একটা বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে এ ব্যাপারে বলেন, ‘আমি কখনোই চাই না সে ক্যাসিনোতে যাক। তবে কত রাতে গিয়েছিল, কী করেছে –এসব আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও শুনিনি। তাই মন্তব্য করতে পারছি না। এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নয়। তারা দেশে ফিরলে ব্যাপারটা দেখা যাবে।’

উল্লেখ্য, মাত্র ক’দিন আগে নিউজিল্যান্ডের এক ক্যাসিনোতে সস্ত্রীক যাওয়ার অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার হন পাকিস্তান বিশ্বকাপ দলের ম্যানেজার মঈন খান।

দলের মনোবল চাঙ্গা

নেলসনে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমামের সঙ্গে আগামী ৫ মার্চ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা নিয়ে দলের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছেলেরা বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছে। আল আমিনের ঘটনা দলের সদস্যদের ওপর কোনও প্রভাব ফেলেছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ যুগে কারও জন্য ক্রিকেট থেমে থাকে না। সবাই সবার দায়িত্বটুকু জানে। কাজেই দলে কে থাকলো বা কে গেল, এ নিয়ে আমরা মাথা ঘামাচ্ছি না বরং আগামী ম্যাচে ভালো করার জন্য সবাই মুখিয়ে আছে।

দলে সদস্যদের কোনও ইনজুরি বা অন্য কোনও সমস্যা নেই জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ৫ মার্চের জন্য দল গোছানোর জন্য এখনও সময় আছে। সবার প্রস্তুতি দেখে ম্যাচের আগে দল চূড়ান্ত করা হবে বলে তিনি জানান। অস্ট্রেলিয়া আর নিউজ্যল্যান্ডের বাউন্সি উইকেটে দল পুরনো মুখগুলো নিয়েই খেলবে বলে জানান তিনি। তবে দল কেমন হবে, এ ব্যাপারে ম্যাচের আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

/এফঅাইঅার/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।