রাত ১০:২৫ ; শুক্রবার ;  ১৯ অক্টোবর, ২০১৮  

'কমলা সুন্দরী' মন কেড়েছে কৃষকদের

ঝালকাঠিতে বাড়ছে মিষ্টি আলুর চাষ

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

ঝালকাঠি সংবাদদাতা॥

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত মিষ্টি আলুর নতুন জাত 'কমলা সুন্দরী' মন কেড়েছে ঝালকাঠি এলাকার কৃষকদের। দেশি জাতের মিষ্টি আলুর চেয়ে ফলন ভালো হওয়ায় জেলায় এই জাতের চাষ দ্রুত বাড়ছে। এমনকি গোল আলুর চাষকেও টেক্কা দিয়ে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে 'কমলা সুন্দরী'র চাষ।

জেলার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছন, এ বছর জেলায় গোল আলুর চাষ হয়েছে ২৮০ হেক্টর জমিতে। আর মিষ্টি আলুর চাষ হয়েছে এর প্রায় দ্বিগুণ, ৫১০ হেক্টর জমিতে। কৃষকরা মিষ্টি আলুর বীজ রোপণ প্রায় শেষ করে ফেলেছে।

তারা জানান, এই অঞ্চলে স্থানীয় জাতের মিষ্টি আলু আবাদের চেয়ে কৃষি গবেষণায় উদ্ভাবিত জাতের আবাদ বেশি হচ্ছে। এই অঞ্চলে বারি-১ (তৃপ্তি) ও বারি-৩ দৌলতপুরি জাতের সঙ্গে এবছর বারি-২ (কমলা সুন্দরী) জাতের আবাদ সম্প্রসারণ শুরু হয়েছে।

কৃষি বিভাগ আরও জানায়, স্থানীয় জাতের আবাদ হেক্টর প্রতি সর্বোচ্চ ২০ মেট্রিক টন হলেও বারি জাতের আবাদ থেকে হেক্টর প্রতি ৩৫-৪০ মেট্রিক টন উৎপাদন হচ্ছে। কৃষি বিভাগ আরও দাবি করেছে, এই জাতের পরেও নতুন আরও কিছু জাতের উদ্ভাবন হয়েছে। তবে এই অঞ্চলে এর সম্প্রসারণের চেষ্টা হচ্ছে। বারি-২ জাতের কমলা সুন্দরী জাত ইতিমধ্যেই কৃষকদের মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। কমলা সুন্দরী জাতের উৎপাদন বারি-১ ও ২ এর চেয়ে হেক্টর প্রতি প্রায় ৩ টন বেশি। এই মিষ্টি আলুর জাত অত্যন্ত পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এবং উৎপাদন বেশি হওয়ার পাশাপাশি এই জাত দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। এই জাতের মিষ্টি আলুর ওপরের আবরণ লালচে রংয়ের এবং ভেতরে হালকা হলদে রংয়ের হয়। কমলা সুন্দরী মিষ্টি আলু খেতেও স্বাদ ভাল। ঝালকাঠির শেখের হাট ইউনিয়নের বারুহার গ্রামের আদর্শ কৃষক সতীশ চন্দ্র মণ্ডল সিলেট অঞ্চল থেকে ১ বছর আগে কমলা সুন্দরী মিষ্টি আলুর লতা সংগ্রহ করে এক বিঘা জমিতে রোপণ করেছে এবং এবছর সে এক বিঘা জমিতে চাষের পাশাপাশি এলাকার আরও কিছু চাষীর মধ্যে কমলা সুন্দরী মিষ্টি আলুর বীজ সরবরাহ করেছে। এসব কৃষক দেশিজাতের মিষ্টি আলুর পাশাপাশি পরীক্ষামূলক ভাবে নুতন জাতের কমলা সুন্দরী চাষ করেন। এই অঞ্চলে মিষ্টি আলুর বাজার দরও ভাল। এলাকার কৃষকরা মাঠ থেকে ৫শ থেকে ৬শ টাকা মণ দরে এসব আলু বিক্রি করছেন।

জেলায় এবছর ৪টি উপজেলার মধ্যে ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ১৪০ হেক্টর, নলছিটি উপজেলায় ১২২ হেক্টর, রাজাপুর উপজেলায় ৫০ হেক্টর এবং কাঁঠালিয়া উপজেলায় ১৩৫ হেক্টরে মিষ্টি আলুর চাষ হয়েছে।

ঝালকাঠির বারুহার গ্রামের কৃষক সতীশ চন্দ্র মণ্ডল জানান, তিনি এক বছর ধরে মিষ্টি আলুর চাষ করে আসছেন। গত বছর সিলেট অঞ্চল থেকে কমলা সুন্দরী জাতের মিষ্টি আলুর বীজ এনে তার এক বিঘা জমিতে চাষ করে ভালো ফলন পান। এবছর তিনি এই জাতের বীজ অন্য কৃষকদের কাছেও সরবরাহ করেন।

একই এলাকার মজিবুর রহমান জানান, এই আলুর চাষ লাভজনক হওয়ায় তিনি গোল আলুর বদলে মিষ্টি আলুর চাষ করেছেন।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন জানান, স্থানীয় জাতের চেয়ে বারি উদ্ভাবিত জাতের মিষ্টি আলুর ফলন প্রায় দ্বিগুন এবং লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা মিষ্টি আলুর চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কৃষি বিভাগ বারি উদ্ভাবিত জাতটি কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করে মিষ্টি আলুর চাষ সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে।

/টিএন/এসটি/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।