বিকাল ০৫:০৩ ; বৃহস্পতিবার ;  ২৩ মে, ২০১৯  

রাজনীতিতে নারী

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

নাতাশা ইসরাত কবির॥

একজন উন্নয়ন কর্মী হিসেবে ২০১২ সালে মাঠ পর্যায়ের প্রান্তিক নারীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। তখন তাদের রাজনৈতিক ভাবনা সম্পর্কেও অনেক কিছু জানতে পারি। ওই সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ বিষয়ে আমার বেশ আগ্রহ জন্মে। এজন্য অবশ্য গবেষণার কাজও শুরু করে দেই। তখন জানতে পারি ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য নারী প্রার্থীর ১ তৃতীয়াংশ বাড়াতে স্থানীয় এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে দাবি উঠেছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠ পর্যায়ের নারী কর্মীরা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে দেখার অনুরোধও করছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বড় রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে খুব বেশি আগ্রহী নয়।

শুধু যে সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন নারীরা তা নয়, যারা সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত তারাও সহযোগিতামূলক পরিবেশ তেমন পায়না বলেই আমি লক্ষ্য করেছি।

নারী ক্ষমতায়নের দুটি প্রভাবযুক্ত স্তর আছে। একটি হলো পরিবারিক অন্যটি হলো সামাজিক। আমাদের দেশে নারীর এই দুই স্তরকেই আমরা গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। নারীর মাতৃত্ব, নারীর কর্মজীবন এসবকেই আমরা উৎসাহিত করি। অথচ বাংলাদেশে রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নারীর যথেষ্ঠ ভূমিকা রয়েছে এবং ভূমিকা রাখারাও সুযোগ আছে। সমস্ত সামাজিক বাধাকে টপকে নারীর রাজনীতিতে অংশগ্রহণকে আমরা কোনোভাবেই উৎসাহিত করছি না।

সমীক্ষা/ বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায় নারী প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়ে যায় কোনও আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে। আবার কোনও কোনও নারীকে আশির্বাদপ্রাপ্ত বা সহানুভূতিশীল প্রার্থী হিসেবে দেখা যায়। অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় যখন রাজনৈতিক পরিবারের পুরুষটি অযোগ্য হিসাবে বিবেচিত হয় তখন নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিংবা রাজনৈতিক বিয়ে, রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুর পর তার স্থান রাখতে কখনও স্ত্রী কখনও সন্তানের মাধ্যমে দলীয় গণতন্ত্রে ধাক্কা হিসেবেই অামি করি।

যদিও কেউ কেউ আপত্তি করতে পারে নারীর তো ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হচ্ছে তাহলে সমস্যা কোথায়? প্রশ্নটা এখানেই। অদৌ কি নারীরা ক্ষমতায়ন হচ্ছে? ক্ষমতার পেছনের মানুষগুলো কারা এবং যাকে বসানো হলো তিনি কি প্রস্তুত ছিলেন? এগুলোকে বিবেচনায় আনতে খুব একটা দেখা যায় না।

এমনকি গণমাধ্যমেও নারী প্রার্থীরা কখনোই গঠনমূলক আলোচনার বিষয়বস্তু হয় না বরং হয়ে ওঠে শোভাবর্ধনকারী। রাজনৈতিকভাবে নতুনদের জায়গা এখানেই সীমিত।

উইমেন চেম্বার অফ কর্মাসের সমীক্ষা অনুযায়ী দেখা গেছে- রাজনীতিতে সংখ্যাগতভাবে নারীর সংখ্যা বাড়াতে অবশ্যই জরিপ ও তথ্য অনুসন্ধান করে নীতি এবং আইনগত সংস্কার সাধন করতে হবে। যা ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক, নির্বাচনী এবং সামাজিক স্তরে যে শূন্যতা আছে তা অনুসন্ধান করে নারীদের মূলধারার রাজনীতিতে অর্ন্তভূক্ত করতে অনুপ্রাণিত হবে।

সর্বশেষ, মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোর নির্বাচনী পরাজয়, কোনও পশ্চিমা শক্তির হস্তক্ষেপ, কর্তৃত্ববাদী সরকার বা পশ্চিমা মদদপুষ্ট সাহায্যে হয়নি বরং হয়েছে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যেখানে অধিকাংশ ভোটারই মুসলিম এবং মুসলিমপ্রধান দেশ বলে। পশ্চিমা দেশগুলোর উচিত মুসলিম দেশের গণতন্ত্র বিকাশ করার ক্ষেত্রে চেষ্টা করা, জয়ী এবং পরাজিত প্রার্থী নির্ণয় নয়। মৌলবাদীরা বাংলাদেশে তাদের প্রভাববিস্তার করে পশ্চিমা মদদপুষ্ট হয় ১৯৭৫ সালের পর থেকে। গণতন্ত্র ফিরে পাওয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

আমার মনে হয় স্থানীয় এনজিওতে, নারীদের আন্দোলন ক্রমাগত আন্তর্জাতিক চাপই পারে নারীর প্রতি তথাকথিত বদ্ধমূল ধারণা ভেঙে যে অরাজনৈতিক বা রাজনীতির জন্য উপযুক্ত নয়, এছাড়া যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো রাজনৈতিক দল/গোষ্ঠী সমূহের মধ্যে বিদ্যমান যে নেতাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানী, ধর্ষণ এবং নারীর প্রতি সহিংসতার অভিযোগ আসে, তাদের নাম জনসম্মূখে প্রকাশ এবং তাদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত করা এবং প্রয়োজনে বহিস্কারও করা।

লেখক: গবেষক ও উন্নয়ন কর্মী

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।