সন্ধ্যা ০৬:৪১ ; রবিবার ;  ২০ অক্টোবর, ২০১৯  

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের ৭৯তম জন্মবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

বীরশ্রেষ্ট শহীদ ল্যান্সনায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের ৭৯তম জন্মবার্ষিকী আজ।

১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা (বর্তমান নূর মোহাম্মদ নগর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

এ উপলক্ষে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ট্রাস্টের আয়োজনে নড়াইলের নূর মোহাম্মদ নগরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- কোরআনখানি, র্যালি, পুষ্পমাল্য অর্পণ, গার্ড অব অনার প্রদান, আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল।

নূর মোহাম্মদের শেখ পিতা মো. আমানত শেখ ও মাতা মোসা. জেন্নাতা খানমের আশা ছিল ছেলে বড় হয়ে লেখাপড়া শিখে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। কিন্তু ডানপিটে নূর মোহাম্মদের লেখাপড়ায় বেশিদূর আগায়নি।

স্থানীয় বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় তার শিক্ষাজীবনের অবসান ঘটে। এরপর ১৯৫৯ সালের ১৪ মার্চ নূর মোহাম্মদ তৎকালীন ইস্ট পাকিস্থান রাইফেলসে (ইপিআর) যোগদান করেন এবং কৃতিত্বের সঙ্গে প্রশিক্ষণ শেষ করে একই বছরের ৩ ডিসেম্বর দিনাজপুর সেক্টরে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ১৯৭০ সালের ১ জুলাই যশোর সেক্টর হেড কোয়ার্টারে বদলি হন।

মুক্তিযুদ্ধকালে ল্যান্সনায়েক নূর মোহাম্মদ ৮নম্বর সেক্টরে সাবেক ইপিআর ও বাঙ্গালি সেনাদের নিয়ে গঠিত একটি কোম্পানিতে যোগদান করেন।

'৭১’র ৫ সেপ্টেম্বর নূর মোহাম্মদ যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার গোয়ালহাটি গ্রামে একটি টহলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। সঙ্গী ছিলেন আরও ৪ সৈন্য। তারা পার্শ্ববর্তী ছুটিপুর পাক হানাদার বাহিনীর ঘাঁটিতে নজর রাখছিলেন। পাকবাহিনী টের পেয়ে বিপদজনক অবস্থার মুখে টহলদার মুক্তিযোদ্ধাদের ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনা করে।

পাকিস্তানের পরিকল্পনা বুঝে উঠতেই নূর মোহাম্মদ সঙ্গীদের নিয়ে হানাদার বাহিনীর ঘাঁটি আক্রমণ করেন। শুরু হয় সম্মুখযুদ্ধ। মারাত্মক আহত হন সঙ্গী নান্নু মিয়া। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে হানাদারদের মর্টার শেল জখম করে নূর মোহাম্মাদকে। মৃত্যু আসন্ন বুঝে তিনি সিপাহী মোস্তফা কামালকে বলেন নান্নু মিয়াকে নিয়ে সবাই নিরাপদ স্থানে চলে যেতে।

উপায়ান্তর না পেয়ে তারা তাই করলেন। কিন্তু একটি এসএলআর রেখে যান আহত কমান্ডারের কাছে। নূর মোহাম্মাদ মৃত্যুপথযাত্রী হয়েও এসএলআর নিয়ে শেষবারের মত ঝাঁপিয়ে পড়েন হানাদারদের উপর।

নিকটবর্তী একটি ঝোঁপের মধ্যে এই বীরের মৃতদেহ পাওয়া যায়। শত্রুর বেয়নটে তার দেহ ছিল ক্ষত-বিক্ষত, চোখ দু’টি কোটর থেকে উপড়ে ফেলেছিল তারা।

ল্যান্সনায়েক নূর মোহাম্মদকে তার আত্মদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধি প্রদান করা হয়।

/এএ/এসএস/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।