সকাল ০৮:১৪ ; রবিবার ;  ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯  

হাকালুকি হাওরে এক বছরে পাখি কমেছে দেড় হাজার

প্রকাশিত:

সাইফুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল থেকে ॥

প্রতিবেশ সংকটাপন্ন হওয়ায় দেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকিতে এবার পাখির সংখ্যা কমেছে। গত বছরের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার কম। কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলায় হাওরের ৩৩টি বিলে দুই দিনের জলচর পাখিশুমারি শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডির জলবায়ু সহিষ্ণু প্রতিবেশ ও জীবিকায়ন প্রকল্প (ক্রেল) উদ্যোগে এই শুমারিতে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব। এছাড়াও ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে বার্ড রিংগিং কার্যক্রম।

ক্রেল সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকাজুড়ে হাকালুকি হাওর বিস্তৃত।

১৯৯৯ সালে সরকার এ হাওরকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে। ক্রেলের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বার্ড ক্লাবের সভাপতি ইনাম আল হকের নেতৃত্বে ১৮ সদস্যের একটি দল হাওরের বিভিন্ন বিলে পাখিশুমারি কার্যক্রম চালায়।

এসব বিলের মধ্যে রয়েছে নাগুয়া-ধলিয়া, গৌড়কুড়ি, উজানতুরল, নামাতুরল, চাতলা, জলা, ফোয়ালা, বালিজুড়ী, ফুটবিল, হাওয়াবন্যা, হাওরখাল, হিঙ্গাইজোড়, নাগুয়া-লরিবাই, কালাপানি, রঞ্চি, হারামডিঙ্গা, বাইয়া, বালিকুড়ী, পলোভাঙা, দুধাই, নিমু, পরতি, গুজুয়া, তেকোনা, পিংলা, কুকুরডুবি, মাইছলারডাক, কাংলি, মেধা, চকিয়া, কইয়েরকোনা, মইয়াজুড়ী ও বোয়ালজোড়।

শুমারিতে ৫৬ প্রজাতির ২১ হাজার ৬৩১টি জলচর পাখি দেখা গেছে। বেশি পাখি দেখা গেছে পাঁচটি বিলে। এর মধ্যে চাতলা বিলে ৪ হাজার ১৭৮টি, চকিয়ায় ২ হাজার ১৩২, পিংলায় ২ হাজার ৬৩, কইয়ের কোনায় ১ হাজার ৪৮৩ এবং হাওয়া বন্যায় ১ হাজার ১০৮টি পাখি দেখা গেছে।

শুমারিকালে প্রজাতির মধ্যে বেশি দেখা গেছে শামখোল পাখি (৪ হাজার ৯২৮টি), ছোট পানকৌড়ী (১ হাজার ৯৪৭), পিয়াং হাঁস (১ হাজার ৬৯৯), মরচেরং ভূতিহাঁস (১ হাজার ৫৪৯) ও পাতিকুট পাখি (১ হাজার ৪৮০টি)।

উল্লেখযোগ্য পাখিদের মধ্যে ১টি কালাঘাড় মানিকজোড়, ২৭টি খয়রা কাস্তেচড়া, ৪টি ফুলুরি হাঁস, ৩৬৬টি প্রশান্ত সোনাজিরিয়া ও ২৪টি উত্তরে টিটি দেখা গেছে।

শুমারিতে অন্যদের মধ্যে ছিলেন ক্রেল প্রকল্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা পল থম্পসন ও পরিবেশ অধিদফতরের সমাজভিত্তিক জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন (সিবিএ-ইসিএ) প্রকল্পের কুলাউড়া কার্যালয়ের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা বশির আহমেদ। গত বছর হাকালুকিতে পাখির শুমারিকালে ৬০ প্রজাতির ২৩ হাজার ৪২টি জলচর পাখি দেখা গিয়েছিল।

পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বশির আহমেদ জানান, এবার হাওরের অধিকাংশ বিলে মাছ ধরা চলছে। সেখানে মানুষের আনাগোনা রয়েছে।

এ কারণে খাবারের খোঁজে পাখিরা সেদিকে ভিড়ছে না। এ ছাড়া অনেক সময় বিষটোপ ছিটিয়ে বা ফাঁদ পেতে পাখি হত্যা করে শিকারিরা। এসব কারণে এবার পাখির সংখ্যা একটু কম।

আরও জানান, বার্ড ক্লাবের উদ্যোগে হাকালুকি হাওরে বিভিন্ন জাতের জলচর পাখি ধরে তাদের পায়ে বিশেষ ধরনের রিং পরানোর কাজ শুরু হয়েছে।

এ কার্যক্রম আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। পাখিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

/টিএন/

 

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।