সন্ধ্যা ০৬:৫৭ ; রবিবার ;  ১৯ মে, ২০১৯  

সাংবাদিক হোসাইন জাকির আর নেই

ডিআরইউতে জানাজা সম্পন্ন

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

সাংবাদিক হোসাইন জাকির আর নেই। দুরারোগ্য ক্যান্সারে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার বিকাল ৫টায় রাজধানীর ডেল্টা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। (ইন্নালিল্লাহে... রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪০ বছর।

ক্যান্সার ধরা পড়ার পর গত ১৪ অক্টোবর প্রথমে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৯ অক্টোবর তাকে ভারতের মুম্বাই টাটা মেমোরিয়াল ক্যান্সার হাসপাতাল নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সেখান থেকে তাকে ৬ নভেম্বর দেশে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে ফেরত আসার পর কিছুদিন তিনি বাসায় থেকে কেমো থেরাপি দেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর মিরপুরের ডেল্টা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে শনিবার রাত সোয়া ৯টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে হোসাইন জাকিরের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সেখানে লাশ চট্টগ্রামের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।

হোসাইন জাকির ও ফরিদা ইয়াসমিন দম্পতির এক মেয়ে নিলয় (১৪), শিশু আকাশ (১১) ও দেড় বছরের শিশুপুত্র স্বপ্ন রয়েছে। তারা পশ্চিম মনিপুরের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশের গাছবাড়িয়া গ্রামে।

হোসাইন জাকির দীর্ঘ দেড়যুগ আগে চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদী দিয়ে সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরে তিনি দৈনিক আজকের কাগজ, মানবজমিন ও যুগান্তরে কাজ করেন। এরপর দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অসুস্থ হওয়ার কয়েক মাস আগে তিনি প্রকাশিতব্য দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদকের দায়িত্ব নিয়েছিলেন।

পেশাগত জীবনে সাংবাদিকতায় সেরা প্রতিবেদনের জন্য ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ২০০৪, ২০০৬, ২০০৭, ২০০৯ এবং ২০১১ সালে ইউনিসেফ পুরস্কার পান হোসাইন জাকির। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স ও মাস্টার্স শেষে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন পেশাজীবী, সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি।

পরে সেখান থেকে রাতেই তাকে নিয়ে যাওয়া হবে গ্রামের বাড়ি চন্দনাইশের গাছবাড়িয়ায়। সেখানে দ্বিতীয় নামাজে জানাযা শেষে বাবা ডা. আবদুল হাফিজ ও মা আনোয়ারা বেগমের কবরের পাশেই পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

/জেইউ/টিএন/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।