রাত ০৪:৪২ ; রবিবার ;  ২১ জুলাই, ২০১৯  

পেট্রোলবোমা থেকে রক্ষার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করলেন ইয়ামিন

প্রকাশিত:

গাজীপুর প্রতিনিধি॥

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) তরুণ বিজ্ঞানী ফারুক বিন হোসেন ইয়ামিন এবার পেট্রোলবোমার আগুন থেকে গাড়ির যাত্রীদের রক্ষার নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন।

বৃহস্পতিবার বারি’র চত্বরে সাংবাদিকদের সামনে ইয়ামিন তার উদ্ভাবিত ওই প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক ও প্রয়োগ পদ্ধতি তুলে ধরেন। পরে তিনি বারি চত্বরে খোলা মাঠে জানালার একটি ফ্রেমের পেছনে বিশেষ পর্দা টানিয়ে নিজে পেট্রোল বোমা ছুড়ে তা পরীক্ষা করে দেখান।

ইয়ামিন জানান, পেট্রোলবোমার আগুন থেকে বাঁচতে কম মূল্যের কোনও প্রযুক্তি বর্তমানে দেশে নেই। এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে পেট্রোলবোমার আঘাত ও আগুন সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এতে আগুন যানবাহনের ভিতর ছড়াতে পারবে না। ফলে যাত্রীরা পেট্রোলবোমার ক্ষতি থেকে সহজেই রক্ষা পাবে। আর এ প্রযুক্তি একটি বড় বাসে ব্যবহারের জন্য খরচ হবে মাত্র ৪০০-৫০০ টাকা।

ইয়ামিন তার প্রযুক্তির বিবরণও তুলে ধরেন সবার সামনে।

তিনি জানান, যানবাহনের জানালার কাঁচের দু’পাশই ৩ ইঞ্চি চওড়া স্বচ্ছ স্কচটেপ দিয়ে লেমিনেশন করে নিতে হবে যা পেট্রোলবোমায় নিক্ষেপ করলে জানালার কাঁচ ভেঙ্গে টুকরো হয়ে ভিতরে ছিটকে পরা এবং পেট্রোল ও আগুন ছড়িয়ে পরা রোধ করবে। এভাবে নিক্ষিপ্ত পেট্রোলবোমার ক্ষতি ৭০ শতাংশ রোধ করা সম্ভব।

দ্বিতীয় পর্যায়ে জানালার ভেতরে বিশেষ পর্দা ব্যবহার করতে হবে। হার্ডওয়ারের দোকানে কাঠে বার্নিশ করার জন্য যে পাতলা জালি কাপড় পাওয়া যায় তার উপরে চক পাউডার সঙ্গে স্টেশনারির দোকান থেকে কেনা আঠা বা গাম (স্বচ্ছ) ও পানি মিশিয়ে তৈরি করা কাই দিয়ে প্রলেপ দিতে হবে। পরে রোদে শুকিয়ে ওই কাইয়ের প্রলেপযুক্ত কাপড় পর্দা হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। কাইয়ের মিশ্রণটি তৈরি করতে এক কেজি চক পাউডারের সঙ্গে এক লিটার পানি ও ২৫০ গ্রাম আঠা বা গাম প্রয়োজন হবে। আর পরিমাণ বেশি প্রয়োজন হলে ওই অনুপাত ঠিক রেখে মিশ্রনটি তৈরি করে নেওয়া যাবে।

তিনি বলেন, বিশেষ পর্দাটি অতি উচ্চ শোষণ ক্ষমতা সম্পন্ন হওয়ার কারণে নিক্ষিপ্ত পেট্রোলবোমার পেট্রোল বা অকটেন দ্রুত শুষে নেবে ও তেল কম ছড়িয়ে পরবে। বোমার কিছু অংশ বাসের জানালার কাঁচ ভেঙে ভেতরে ঢুকলেও তা পর্দায় বাধা পাবে। চক পাউডার (কার্বনেট) আগুনে তাপে কিছু জ্বলে সাময়িক কার্বন- মনোক্সাইড ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে আগুনের দাহ্য ক্ষমতা কমিয়ে ও আগুন দ্রুত নিভিয়ে ফেলে। এ বিশেষ পর্দাটি দাহ্য নয় এবং অন্যকে জ্বলতেও বাধার সৃষ্টি করে। এ দুটি পদ্ধতি একসঙ্গে যানবাহনে ব্যবহার করলে যাত্রীদের জীবন এবং যানবাহন রক্ষা করা যাবে।

এসময় বারি’র মহাপরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম মন্ডল, পরিচালক (গবেষণা) ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন, পরিচালক (সেবা ও সরবরাহ) ড. রওশন আলী, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান, ড. মিয়ার উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ইয়ামিন সমুদ্র বা নদীতে অনাকাঙ্ক্ষিত তেল শোষণের প্রযুক্তি, পানিতে ডুবে যাওয়া জাহাজ, নৌকা বা অন্যকোনও বস্তুর অবস্থান নির্ণয়ের প্রযুক্তি, মাটির আর্দ্রতা নির্ণয়ের প্রযুক্তি, এক টাকায় ফরমালিন পরীক্ষার প্রযুক্তি ও শাক-সবজি, ফল-মূল টাটকা রাখার মাটির ফ্রিজ উদ্ভাবন করেন।

/বিএল/এফএস/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।