বিকাল ০৫:৩২ ; মঙ্গলবার ;  ২১ মে, ২০১৯  

ভূত দেখতে ভারতে!

প্রকাশিত:

লাইফস্টাইল ডেস্ক॥

দার্জিলিংয়ে বরফ পাহাড়, ব্যাঙ্গালুরুর টয় ট্রেন, কাশ্মিরে শিকারায় ঘোরা কিংবা আগ্রার তাজমহল; ভারত ভ্রমণে উপলক্ষ আর জায়গার শেষ নেই বললেও চলে। কিন্তু ভ্রমণপিপাসুদের খপ্পরে পড়ে এসব জায়গা এখন পুরনো হওয়ার যোগাড়। বেড়ানোর নতুন জায়গা খুঁজছে ভ্রমণবিলাসীরা। তাদের জন্য এবার ভিন্ন ধরনের কিছু বেড়ানোর স্থানের খবর জানাবে বাংলা ট্রিবিউন লাইফস্টাইল। গা শিউরে ওঠা সেসব ভ্রমণস্থানে আপনাকে রোমাঞ্চ আর বিনোদনের পাশাপাশি পিলে চমকানো কিছু অভিজ্ঞতাও দিবে। সেই সঙ্গে ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে পেয়ে যেতে পারেন দু'চারটা ভূতের দেখাও!

রাজস্থান

ভারতের এ রাজ্য বলা হয় 'দ্য রয়াল স্টেট'। অনেক রাজা-মহারাজার শাসন দেখেছে এই রাজ্য। রাজস্থানজুড়ে প্রাসাদ আর লেকের ছড়াছড়ি। রাস্তা, ভবন, এলাকার নাম নবাব আর রাজা-রানীর নামে নামকরণ করা হয়েছে। এমনই একটি প্রাসাদের নাম 'ভানগড় ফোর্ট'। কথিত আছে, এই প্রাসাদে ঘুরে বেড়ায় নবাবী আমলের কিছু প্রেতাত্মা। তাই প্রাসাদটি দিনের বেলা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকলে, সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধ হয়ে যায় এর দরজা। কারণ সূর্য ডোবার পর যদি ঘাড় মটকে দেয়!

দিল্লি

দিল্লির শাহী অতীত তো সবারই কম বেশি জানা। সেসব গত হয়েছে অনেক আগে। কিন্তু শাহী আত্মারা এখনো বোধহয় ছাড়তে পারেনি দিল্লির মায়া। এখনও নাকি দিল্লির ক্যান্টনমেন্টে নাকি সাদা শাড়ি পরে কোনো নারী পথ আটকে দাঁড়ায়। ক্যান্টনমেন্ট ছাড়াও কুতুব মিনার, লালকেল্লাসহ দিল্লির পুরনো সব দূর্গের আশেপাশে তাকে প্রায়ই দেখা যায়।

রামুজি ফিল্ম সিটি

হায়দ্রাবাদ

কোনও পুরনো দূর্গে নয়, হায়দ্রাবাদে ভূতের বসবাস ফিল্ম সিটিতে! হ্যাঁ, সেখানকার রামুজি ফিল্ম সিটিতে নাকি ভূতের আনাগোনা অনেক। সন্ধ্যা নামলেই সেখানে বেড়ে যায় ভূতের প্রকোপ। বিশেষ করে নারীদের ওপর নাকি ভূতের হামলা চালায় প্রায়শই। দেখা যায়, হঠাৎ অদৃশ্য কোনো কিছুর আঁচড়ে ছিঁড়ে যায় নারীদের পোশাক। তাছাড়া সেখানকার ভূতের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে হরহামেশাই উত্যক্ত করে থাকে। যেমন পেছন থেকে ধাক্কা দেয়, ফুটপাতের বাতি নিভিয়ে দেয়, ঘটায় আরো নানান অঘটন!

মুম্বাই

ভারতের স্বপ্নের শহর মুম্বাই। কিন্তু স্বপ্নের বেশে কিছু দুঃস্বপ্ন প্রায়ই তাড়া করে ফেরে শহরের বাসিন্দা কিংবা পর্যটকদের। কথিত আছে, শহরের মাহিম এলাকায় ডি'সুজা চালের মানুষের ভূতের জ্বালায় অতিষ্ট হয়ে থাকে। এই চালের কুয়ায় পড়ে এক নারী মারা যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় ভূতের উৎপাত। চালের বাসিন্দারা, এমনকি সেখানে বেড়াতে যাওয়া অতিথিরাও প্রায়শ পেয়ে থাকেন সেই ভূতের অস্তিত্বের আভাস।

শনিরওয়ার্দা কেল্লা 

পুনে

এ শহরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছড়াছড়ির কারণে পুনেকে বলা হয় 'হার্ভার্ড অব ইন্ডিয়া'। কিন্তু শুধু শিক্ষা-দিক্ষাতে তো বটেই ভৌতিক ঘটনার বেলায়ও পিছিয়ে নেই এ শহর। প্রচলিত আছে, পুনের শনিওয়ারওয়াদা ফোর্টে প্রতি পূর্ণিমার রাতে শোনা যায় এক বাচ্চা ছেলের কান্নার আওয়াজ। ধারণা করা হয়, এ বাচ্চাটি হলেন রাজপুত্র নারায়ণ, যাকে তারা চাচা-চাচির নির্দেশে খুন করা হয়।

রাইটারর'স বিল্ডিং 

কলকাতা

'সিটি অব জয়' বলে যে কলকাতার প্রতি অধ্যায়েই মিশে আছে আনন্দ আর উল্লাস, এমন নয়। ভূতও আছে বিস্তর। গা শিউরে ওঠা অনেক কাহিনী আছে এ শহরকে ঘিরেও। কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিং ভূতের জন্য বেশ পরিচিত। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে সে বিল্ডিংটি স্থাপিত হয়। বর্তমানে রাজ্য সরকারের কর্তাব্যক্তিরা কাজ করেন। কিন্তু সন্ধ্যার আগেই কাজকর্ম গুটিয়ে সবাই বেরিয়ে পড়েন রাইটার্স বিল্ডিং থেকে। তা না হলে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সময়কার রাইটরা উৎপাত শুরু করে দেয় সূর্য ডোবার পর থেকে।

/এএলএ/এফএএন/ 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।