সকাল ১০:১৬ ; রবিবার ;  ২১ এপ্রিল, ২০১৯  

বড় হয়ে পড়ালেখা করবেন রাসয়াত রহমান জিকো

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

তারুণ্য রিপোর্ট॥

একজন তরুণ মানুষকে গল্প বলার স্বপ্ন দেখেন। তিনি গড়গড় করে বলে চলেন নানা গল্প। নিজের গণ্ডির ভেতরে ভীষণ জনপ্রিয় তিনি এই গল্প বলার জন্য। আগাগোড়া স্বপ্নই তার গল্প বলাকে ঘিরে। এমনি করেই একদিন লেখক হয়ে উঠেছেন রাসয়াত রহমান জিকো। এপর্যন্ত চারটি বই বের হয়েছে। এই বইমেলাতেও বের হয়েছে একটি উপন্যাস। রাফখাতা নামের সেই উপন্যাস কিনতে আদী প্রকাশনীর ২৬৪ নং স্টলে ছোটোখাটো ভীড়ও দেখা যাচ্ছে।

নিজেকে নিয়ে ইচ্ছামতো বলার সুযোগ দিলে জিকো যা বলবে সেটা খুবই সামান্য। ব্যাংকার মানুষ বেশ বুঝেশুনে হিসাব করে কথা বলেন। পাছে ডেবিট-ক্রেডিটে গড়মিল হয়ে যায়। নিজেকে দাবি করেন,গড় বুদ্ধির মানুষ হিসেবে। আরও বলেন, তিনি পরিশ্রমী তবে চাপের সময় একটু ঘাবড়ে যান। সবচেয়ে বড় গুণ যেটা সেটা হচ্ছে শিখতে চান তিনি। স্বপ্ন দেখার বিষয়েও তিনি বেশ হিসেব মেনে চলেন। মোটে বাস্তবতা বিবর্জিত নয়। হঠাৎ করে অলৌকিক কিছু হওয়ার প্রত্যাশা করেন না তিনি। খেটেখুটেই করতে চান।

রাসয়াত রহমান জিকোর পড়াশোনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগ থেকে। এর পর তিনি পেশায় ব্যাংকার, নেশায় লেখক। সবকিছুতে এত পার্থক্য কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “পদার্থবিদ্যার তেমন কোন জ্ঞান আমি রাখি না। সার্টিফিকেট পাওয়াই তো আসলে সব কিছু না। ফিন্যান্সে এমবিএ করেছি সেটারও একই অবস্থা। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনটা উপভোগ্য ছিল। পেশা ব্যাংকার কারন কিছু একটা করে খাওয়া লাগবে। লেখালেখি নিয়ে দেখা স্বপ্ন হচ্ছে, এমন কিছু লিখব যা সাধারন মানুষ পড়ে আনন্দ পাবে, তৃপ্তি পাবে। এতটুকুই। নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝি কাজেই এর থেকে বেশি আশা আপাতত নাই।”

তরুণদের মধ্যে তিনি ভীষণ জনপ্রিয়। এই জনপ্রিয়তার কারণ জানতে চাইলে একদম এড়িয়ে গেলেন। নিজে থেকেই বললেন, “লেখালেখি আমি পছন্দ করি। নতুন গল্পের সাথে সবাইকে পরিচিত করতে চাই। তবে আমার মনে হয় না আমি খুব বেশি জনপ্রিয়। আর যদি সেটা থেকে থাকে সেটার কারণ আমি খুঁজতে যাব না। কারণ আমি যা, আমি তাই করে যাব। এই আমার আমিকে যদি কিছু মানুষ পছন্দ করে তবে তাদের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।”

এবারের বইমেলায় রাসয়াত রহমানের একটি বই এসেছে, সেটা উপন্যাস নাম রাফখাতা। যেহেতু লেখালেখি করেন অন্যকে আনন্দ দেওয়ার জন্য এটাও ঐ কারণেই লিখেছেন। এটি আদৌও সমাজ বা তরুণ প্রজন্মের কি উপকারে আসবে সেটি তিনি জানেন না। গল্পের চরিত্র সবাইকে যে কোন পরিস্থিতিতে ঘুরে দাড়ানোর কথা বলে, প্রতিকূল পরিবেশেও নেতিবাচক সিদ্ধান্ত যেন কেউ না নেয় সেই কথা বলে। এখন এই মেসেজে যদি সমাজের কারো উপকার হয় তাহলে তো তিনি মহাখুশী। আর খুব একটা কিছু চাওয়ার নেই।

জিকোর সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে নাম। নামের প্রথমাংশের ইংরেজী বানানটা এমন যে এটিকে রাশাত পড়া উচিত কিন্তু সেটির বাংলা বানান লিখেন রাসয়াত। রাসয়াত বলেন, সে এক বিরাট ইতিহাস। ইংরেজীতে Rashat Rahman বাংলায় কেন রাসয়াত নামটা তার প্রয়াত আম্মার রাখা। সেটার ইংরেজি বানান আমার জীবনের প্রথম স্কুল বেইলি প্রিপারেটরী হাই স্কুলের এক শিক্ষিকার রাখা। শুরু থেকেই সেরকম চলে আসছে। মাঝে মাঝে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়। মাঝে মাঝে না, বেশিরভাগ সময়েই হয়। এই জন্যই ভাল নামের ঝামেলায় না গিয়ে সবাই “জিকো” নামেই ডাকে। অফিসেও।

নাম নিয়েই ঘটে গেছে নানা মজার ঘটনা। রাসয়াত বলেন, তখন গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলে ক্লাস এইটে পড়েন তিনি। ক্লাস শিক্ষক যিনি ছিলেন তিনি প্রথম দিন নাম ডাকার খাতা দেখে সবার নাম ডাকছেন। আমাকে ডাকলেন বাশজাত রহমান। ঐ রাসয়াত নামে র আর য় এর নিচের দুটি পুটুলি সে দেখেনাই। আমি চিৎকার দিয়ে বলি, হায়হায় স্যার কি বলেন! আরও কতশত গল্প আছে বলার। সেগুলো লিখেই জানাতে চান, মুখে বলা একদম নিষেধ।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা তেমন করে না গোছালেও বড় হয়ে পড়ালেখা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন তিনি। সামনের বছরের বই নিয়েও চিন্তা করছেন কিছুটা। তবে যেহেতু ব্যাংকে চাকরি করেন, সেহেতু সেই সম্পর্কিত কিছু পড়ালেখার কথা ভাবছেন।

রাসয়াত রহমান জিকো বলেন, প্রতি মুহূর্ত নিজেকে উন্নত করতে না পারলে শুধু ভবিষ্যতের কথা ভেবে কি করব বলুন। যারা আমার লেখা পড়বে তারা যেন আনন্দ পায় এটাই আমার চেষ্টা থাকবে।

নিজের সাফল্য নিয়ে বলেন, বলার মত কিছু তো এখনও করিনাই যা আমাকে অন্য কিছুর থেকে আলাদা করবে। এমনকি আমাকে নিয়ে আমার আশেপাশের মানুষের প্রত্যাশাও কখনও পূরণ হয়নি। কোথাও আন্তরিকতার অভাব ছিল, কোথাও হয়ত পরিশ্রমের সাথে ভাগ্যের সহায় ছিল না। তবে তাতে কোন সমস্যা নাই। পরাজয় মেনে নেওয়ার মানসিকতা রাখতে হয়।

তবে কিপ গোয়িং অন- তার লেখালেখি চলবেই।এখন পর্যন্ত রম্য বেকায়দা, গল্পসমগ্র কলম ও শিশুতোষ বই পিকু প্রকাশিত হয়েছে। এই বছর প্রকাশ হয়েছে উপন্যাস রাফখাতা। এই চারটা বই একদিন ৪০ হবে সেখান থেকে ৪০০ হবে। আর মানুষ লাইন দিয়ে অটোগ্রাফ নিবে এমন স্বপ্ন এখনও রাসয়াত রহমান জিকো না দেখলেও তার ভক্তকূল দেখে প্রতিনিয়ত।

/এফএএন/  

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।