সন্ধ্যা ০৬:২৮ ; রবিবার ;  ১৯ মে, ২০১৯  

রাজধানীর ১২ এলাকায় বসছে গ্যাসের প্রি-পেইড মিটার

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

রাজধানীর দুই লাখ গৃহস্থ গ্যাসের প্রি-পেইড মিটারিং সিস্টেমের আওতায় আনার কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। এই কর্মসূচির আওতায় রাজধানীর ১২টি এলাকায় গ্যাসের প্রি-পেইড মিটার পদ্ধতি চালু করা হবে। এ কর্মসূচি চালু হলে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় গৃহস্থালী পর্যায়ে ব্যবহৃত গ্যাসের অপচয় রোধের মাধ্যমে সিস্টেম লস কমে আসবে। সেই সঙ্গে মূল্যবান প্রাকৃতিক গ্যাসের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত হবে। যা টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এ উদ্যোগটি বাস্তবায়নে সরকারের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭১৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ২৩৬ কোটি ৭৪ লাখ, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণ সহায়তা থেকে পাওয়া যাবে ৪৫৩ কোটি ১১ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ২৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। মঙ্গলবার গ্যাসের প্রি-পেইড মিটারর এ অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

সূত্র জানায়, রাজধানীর যে সব এলাকা প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আসছে সেগুলো হল- ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার বাড্ডা, গুলশান, তেজগাঁও, ক্যান্টনমেন্ট, মিরপুর, কাফরুল, খিলক্ষেত, উত্তরখান, দক্ষিণখান, উত্তরা, পূর্বাচল এবং ঝিলমিল এলাকা। চলতি ২০১৫ সালেই শুরু হবে সরকারের এই কর্মসূচি। ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এর বাস্তবায়নের কাজ শেষ করবে টিজিটিডিসিএল।

মঙ্গলবার এই কর্মসূচির প্রাথমিক উদ্যোগ হিসেবে রাজধানীর এই ১২টি এলাকায় গ্যাসের প্রি-পেইড মিটার পদ্ধতি চালুসহ ৬টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৫ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ৪ হাজার ৯১৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ব্যয় করা হবে ৪৫৩ কোটি ১১ লাখ টাকা।

এ ছাড়াও সরকার দেশের ৫৩ জেলার ২১৭ উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ৪২ লাখ ৪৪ হাজার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির আওতায় এনেছে। এ জন্য একনেক সভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত এ প্রকল্পের নাম ‘সেকেন্ডারি এডুকেশন স্টাইপেন্ড প্রজেক্ট ২য় পর্যায় (এসইএসপি)।’

জানা গেছে, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ৭৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সালের জুন মেয়াদে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করবে। দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের মাসে কত টাকা করে উপবৃত্তি দেওয়া হবে সে সম্পর্কে বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণির ক্ষেত্রে মাসিক উপবৃত্তি হবে ১০০ টাকা, ৮ম শ্রেণির ক্ষেত্রে তা ১২০ টাকা এবং ৯ম ও ১০ম শ্রেণির ক্ষেত্রে মাসিক উপবৃত্তি ১৫০ টাকা।

অপরদিকে, ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত মাসিক ১৫ টাকা হিসেবে টিউশন ফি দেওয়া হবে। ৯ম ও ১০ম শ্রেণির ক্ষেত্রে তা ২০টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও এসএসসি পরীক্ষা ফি বাবদ বার্ষিক এককালীন ৭৫০ টাকা করে দেওয়া হবে।

এই উপবৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্য শর্ত হলো- এসএসসি অথবা দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা পর্যন্ত একজন শিক্ষার্থীকে অবিবাহিত হতে হবে। সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই প্রথম মোবাইল ব্যাংকিং বা বিকাশ বা অন্য কোনও সহজ পদ্ধতিতে সরাসরি যোগ্য শিক্ষার্থীদের মাঝে এই উপবৃত্তি দেওয়া হবে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আজম, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য আরাস্তু খান উপস্থিত ছিলেন।

একনেক অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পগুলো হলো- বৃহত্তর ফরিদপুর গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়), ব্যয় হবে ১ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। বৃহত্তর ফরিদপুর গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প দ্বিতীয় (সংশোধিত), এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা এবং খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প দ্বিতীয় পর্যায় (প্রথম সংশোধিত), বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ২৪৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা ও ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়ক নির্মাণ প্রকল্প, এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৪৩৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

/এসআই/এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।