রাত ০২:৪১ ; রবিবার ;  ১৬ জুন, ২০১৯  

বনানী থেকে এরশাদের কার্যালয় অপসারণের দাবিতে উত্তপ্ত সংসদ

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানী থেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের কার্যালয় সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনএফ প্রধান আবুল কালাম আজাদ। তার এই দাবি জানিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠে সংসদ।

সোমবার সন্ধ্যায় পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জাসদের সংসদ সদস্য শিরীন আক্তার গুলশান থেকে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয় সরিয়ে ফেলতে সরকারের প্রতি দাবি জানান। পাশাপাশি বোমা মেরে মানুষ মারার অভিযোগে হুকুমের আসামি হিসেবে খালেদা জিয়াকে দ্রুত গ্রেফতারেরও দাবি জানান তিনি।

পরে ফ্লোর নিয়ে বিএনএফ’র সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'ডিপ্লোম্যাটিক জোন থেকে সকল রাজনৈতিক কার্যালয় সরিয়ে ফেলতে হবে। এর আগেও আমি একথা সংসদে বলেছি। ওই এলকায় আরও একটি রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টির কার্যালয় রয়েছে। সেটাও সরিয়ে ফেলা হোক।'

তার এ বক্তব্যের পরপরই জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ করেন। পার্টির কয়েকজন সংসদ সদস্য মাইক ছাড়াই বলতে থাকেন, 'ওরে ধর, ধর। ওখান থেকে নামা।' কয়েকজন নিজের আসন ছেড়ে আজাদের দিকে তেড়েও যান।

এসময় আজাদ জাতীয় পার্টিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'অনুগত বিরোধী দল, অনুগত বিরোধী দল, অনুগত বিরোধী দল, অনুগত বিরোধী দল। স্বৈরাচারী।'

এরশাদের কার্যালয় আবুল কালাম আজাদের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্ভূক্ত। ওই আসনের এই এম আরও বলেন, 'আমাকে বাধা দেবেন না। প্রতিবাদ করতে পারেন, আমি আমার কথা বলে যাবো। আমার সংসদীয় এলাকা থেকে সকল রাজনৈতিক এলাকা সরিয়ে নিতে হবে।'

এসময় ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যদের থামানোর চেষ্টা করেও বিফল হন। কিছুক্ষণ পরে জাতীয় পার্টির শওকত চৌধুরী ফ্লোর নিয়ে বলেন, 'উনার (আজাদ) বিএন.. না কি যেনও দল। নামও জানি না। এরশাদ সাহেবের অনুগ্রহের কারণে উনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। মাননীয় স্পিকার তার এই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করতে হবে। না হলে আমরা সংসদ থেকে ওয়াক আউট করবো।'

জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, 'এখানে খালেদা জিয়া আর এরশাদের কার্যালয় এক করে ফেলা হচ্ছে। উনার ওই কথা আপত্তিকর। খালেদা জিয়ার অফিস থেকে বোমার মারার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এরশাদ সাহেবের অফিস থেকে নয়।'

বাবলু এসময় আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার পাশাপাশি তাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া এসময় বলেন, 'জনাব আবুল কালাম আজাদ যে বক্তব্য রেখেছেন ওই সময় হইচইয়ের কারণে আমি সব শুনতে পারিনি। উনি যদি অসংসদীয় বা আক্রমণাত্মক কিছু বলে থাকেন আমি সেগুলো পরীক্ষা করে দেখে এক্সপাঞ্জ করবো।'

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনে আগে ঢাকা-১৭ আসন থেকে নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য এইচ এম এরশাদ।

/ইএইচএস/এএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।