বিকাল ০৫:০৩ ; বৃহস্পতিবার ;  ২৩ মে, ২০১৯  

অাফগানিস্তানের বিপক্ষে সেরা একাদশ নিয়েই নামবে টাইগাররা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

মুসা ইব্রাহীম, ক্যানবেরা থেকে॥

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল গত ১৩ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে রাজধানী ক্যানবেরায় পৌঁছেছে। সেখানে এখন তারা আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপের মূল মিশন শুরুর অপেক্ষায়। বাংলাদেশ দলের সদস্যদের ক্যানবেরায় দ্বিতীয় দিন কেমন কাটছে, এটা দেখতে সিডনি থেকে চ্যানেল টুয়েন্টি ফোরের সাংবাদিক কাওসার খান এবং ইত্তেফাকের সাংবাদিক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের সঙ্গে গাড়ি যোগে চললাম ক্যানবেরা। একেবারে ভোরে শুরু হলো যাত্রা। উদ্দেশ্য টাইগারদের সঙ্গে সাক্ষাত করে বিশ্বকাপে তাদের প্রস্তুতির সর্বশেষ আপডেট নেয়া। সেই সঙ্গে সিডনিতে ফেরার তাড়াও ছিল। তার মানে ক্যানবেরায় পৌঁছে সর্বোচ্চ আড়াই কি তিন ঘণ্টা সময় ব্যয় করা যাবে। অবশ্য এই সময়টাও যথেষ্ট। আগের দিনই দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনের সঙ্গে কথা বলে তারা কোন হোটেলে উঠেছেন এবং তাদের দিনের বিস্তারিত কর্মসূচী সম্পর্কে জেনে গিয়েছিলাম।

 

সকাল সাড়ে ছ’টায় শুরু হলো যাত্রা। পথে শুধু একবার এক ফাস্টফুডের দোকান থেকে নাশতা কিনে ফের গাড়িতে উঠে বসেছি। প্রায় তিনশ কিলোমিটার পথ গাড়ি একশ দশ কি বিশ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে চালিয়ে সাড়ে তিন ঘণ্টায় পৌঁছে গেলাম ক্যানবেরায়। তখন ঘড়িতে দশটা বাজে। হাতে বেশ ভালো সময়ই থাকছে তাহলে।

ফোনে কথা হলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমামের সঙ্গে। তিনি জানালেন ক্রিকেটাররা এদিন হোটেলের বাইরে কোথাও প্র্যাকটিসে যাবে না। তারা হোটেলের জিমনেসিয়ামেই শারিরীক কসরৎ করে সময় কাটাবে।


হোটেলে পৌঁছে সংলগ্ন টেনিস কোর্টে পাওয়া গেল মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, আল আমিন, তাসকিন আর রুবেলকে। তারা টেনিস খেলছেন আর খুনসুটি চলছে একই সঙ্গে। খুব সিরিয়াস টেনিস খেলা নয়, তবে হারজিত আছে। কিছুটা সময় এখানে কাটানোর পর তারা চললেন জিমনেসিয়ামে। বাহু আর পায়ের পেশীর শক্তি বাড়াতে বেশ কিছু ট্রেনিং করলেন এখানে। এরই ফাঁকে হোটেলের লবিতে পাওয়া গেল খালেদ মাহমুদ সুজনকে। তার সঙ্গে বাংলাদেশ দলের বর্তমান হালহকিকত জানা গেলো।

ক্যানবেরায় পৌঁছার পরে বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রথমদিন ১৪ ফেব্রুয়ারি কেটেছে হোটেল জিমনেসিয়ামে শারীরিক কসরৎ করে, টেনিস খেলে আর সাঁতার কেটে। সেই অর্থে বলা চলে দলের এদিন বিশ্রাম। সবাইকে চাপমুক্ত হয়ে জিমনেসিয়ামে সময় পার করতে দেখা গেলো। রাতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে দাওয়াত দিয়ে রেখেছেন হাইকমিশনার কাজী ইমতিয়াজ হোসেন। এটা হলো প্রথম দিনের সূচী। আফগানিস্তানের সঙ্গে ১৮ ফেব্রুয়ারি খেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপের মূল মিশন শুরু হচ্ছে। কিন্তু তার আগে ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়া একাদশের সঙ্গে দু’টি প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ এবং সিডনিতে দু’টি ওয়ার্ম আপ ম্যাচের সবগুলো হারের মুখোমুখি হওয়া বাংলাদেশ দল মূল বিশ্বকাপে কেমন করবে, এ নিয়ে কথা বললেন খালেদ মাহমুদ সুজন।

প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ায় আসার পর সবগুলো ম্যাচে হার দলের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না?

খালেদ মাহমুদ সুজন: এইভাবে ভাবলে বলবো দলের পারফরম্যান্সে আমরা খুশি নই। তারপরও বলবো যে ব্রিসবেনে প্রস্তুতিমূলক ম্যাচের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ার্ম আপ ম্যাচে বাংলাদেশ দল দারুণ খেলেছে। ম্যাচটা আমরা জিততে পারতাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা সেটায় হেরে গেছি। আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে মনে হয় না আমরা খুব একটা ভালো ব্যাটিং করেছি। আমরা যদি আরও বিশ-ত্রিশ রান করতে পারতাম, তাহলে হয়তো ম্যাচটা অনেক সহজ হতো। তারপরও সৌম্য ভালো ব্যাট করেছে। মুশফিক রানে ফিরেছে। এটা ভালো দিক। সবাইকেই আসলে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলানো হয়েছে। রিয়াদ আর রুবেল দারুণ ফর্মে আছে। তবে তাদেরকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে। এই ম্যাচে তাসকিন – আল আমিনকে খেলানো হয়েছে। সব মিলিয়ে আমি মনে করি প্রস্তুতিটা আমাদের খুবই ভালো হয়েছে। সত্যি কথা যে বিশ্বকাপের মূল খেলার আগে একটা জয় নিয়ে যেতে পারলে ভালো হতো। তারপরও মনে করি যে দলের ছেলেরা ফর্মে ফিরেছে। এই কয়েক দিনের মধ্যে কোচ হয়তো দল গুছিয়ে ফেলেছেন। আর আফগানিস্তানের সঙ্গে আমরা পূর্ণ শক্তি নিয়েই খেলবো। সেরা একাদশ নামানো হবে মাঠে। ফলে দল ভালো করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি এখনো ঠিকমতো দাঁড়াতে পারছে না। এটা নিয়ে কোনো ভাবনা?

খালেদ মাহমুদ সুজন: বিজয় গত ম্যাচে সময় নিয়েছে। ৭২ বলে ২৫ রান করেছে। তামিম দুর্ভাগ্যজনকভাবে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছে। কিন্তু সে ভালো শট খেলেছিল। বল সরাসরি ফিল্ডারের হাতে গিয়ে পড়ে। তারপরও আমি মনে করি না যে এটা খুব বড় সমস্যা কিনা। এখন কোচিং পয়েন্ট অব ভিউ থেকে কোচ হয়তো বলতে পারবেন যে ওপেনিং নিয়ে তিনি কিছু ভাবছেন কি না। তবে আমার কাছে মনে হয় যে আমরা ভালো করছি। এখন এটা আমাদের বিশ্বাস নিয়ে যেতে হবে যে আমরা ভালো ফর্মে আছি। সবাই উৎফুল্ল আছে।কারো ওপর কোনো চাপ নেই যে এই প্রস্তুতি ম্যাচগুলো হেরে গেছি বলে আমরা বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো যখন শুরু করবো, তখন ভালো করতে পারবো না। আমি মনে করি এখন পর্যন্ত আমরা আমাদের বেস্ট খেলাটা খেলিনি। তবে মূল ম্যাচগুলোতে আমরা সেটা ডেলিভার করবো।

প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ও পেস বোলিং সহায়ক উইকেটে বাংলাদেশের বোলিং অ্যাটাক কেমন হবে?

খালেদ মাহমুদ সুজন: বাংলাদেশের বেস্ট ইলেভেনটা কি হবে, এ নিয়ে এখনো টিম মিটিং হয় নি। তারপরও অস্ট্রেলিয়ার উইকেট পেস সহায়ক এটা যেমন সত্যি, তেমনি এখানে স্পিন যে কাজ করবে না – এমনটা বলা যায় না। তবে এসব নিয়ে যখন মিটিংয়ে কোচ, ক্যাপ্টেন এবং সিলেকশন কমিটি যখন বসবো, তখন এসব নিয়ে আলাপ হবে। আর আমরা যেহেতু ১৫জন খেলোয়াড়কে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলিয়েছি, এখন আমরা সবচেয়ে ভালো দলটাকেই নামানোর চেষ্টা করবো। তবে কম্বিনেশনটা কি হবে – পেস বোলার বেশি খেলানো হবে, না কি দু’জন স্পিনার – এ নিয়ে এখনো কথা হয় নি। আশা করি ১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারি তারিখে উইকেট দেখে আমরা টিম ঠিক করে ফেলবো যে কারা কারা খেলবে। তবে যেই খেলুক না কেন, আমরা মনে করি সবাই এই টুর্নামেন্টে ভালো খেলার সামর্থ্য রয়েছে।

প্রশ্ন: আফগানিস্তানের সঙ্গে ম্যাচের আগে আর মাত্র তিন দিন রয়েছে। আপনারা দল নিয়ে আর কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন কি না?

খালেদ মাহমুদ সুজন: পরীক্ষা-নিরীক্ষার এখন আর কিছু নেই। এখন ট্রেনিংগুলোকে ঝালিয়ে নেয়া। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিংয়ে যেখানে আমাদের ছোট ছোট গ্যাপ ছিল, সেগুলো এখন আমরা ঠিক করে নিয়ে আফগানিস্তানের সঙ্গে সবচেয়ে ভালো দলটাকেই আমরা নামানোর চেষ্টা করবো। আমি আশাবাদী যে দল ভালো খেলবে।

প্রশ্ন: এ পর্যন্ত দেখা গেছে – সাধারণত বাংলাদেশ দল বড় বড় দলগুলোর সঙ্গে ভালো খেলে। কিন্তু ছোট দলগুলোর সঙ্গে তুলনামূলকভাবে খেই হারিয়ে ফেলে? এটা কি আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি না কি ছোট দলগুলোকে হালকাভাবে নিয়ে ফেলে – এ কারণে ঘটে?

খালেদ মাহমুদ সুজন: না, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি নয়। আর হালকাভাবে নেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। হয়তো একটু চাপের মধ্যে থাকে। আর যেই ম্যাচটা আমাদের জন্য ‌‘মাস্ট উইন’ হিসাবে নির্ধারণ করা হয়, সেটায় প্রত্যাশা বেশি থাকে। তবে আমরা প্রতিটি ম্যাচ জেতার জন্যই খেলি। ‘মাস্ট উইন’ বলতে আফগানিস্তান আর স্কটল্যান্ডের ম্যাচগুলোর কথাই বলা হচ্ছে। এই দু’টি দলের চেয়ে বাংলাদেশ শক্তির দিক থেকে অবশ্যই অনেক এগিয়ে আছে। আমি বিশ্বাস করি এই দু’টি ম্যাচ আমরা অবশ্যই জিতব। আর ঢাকা থেকে আসার আগে আমাদের যে একটা চিন্তা ছিল – আমরা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলবো, সেটা করতে হলে আমাদের অনেক ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। আমি বিশ্বাস করি ছেলেরা ভালো ক্রিকেট খেলবে। আর নির্দিষ্ট দিনে যদি আমরা সবচেয়ে ভালো খেলাটা খেলতে পারি, তাহলে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়াটা আমাদের জন্য কষ্টকর হবে না বলে আমি মনে করি।

প্রশ্ন: অনেকে বলছেন, ক্যানবেরার উইকেট একটু স্লো হতে পারে। সেক্ষেত্রে এখানে স্পিনার খেলানো হতে পারে কি না?

খালেধ মাহমুদ সুজন: এখনো উইকেট আমরা সেভাবে দেখিনি। ওই মাঠে আমরা ১৭ ফেব্রুয়ারি দেখার পর আসলে বুঝতে পারবো যে সেখানে উইকেটটা কেমন হবে। এমনিতে কোচ মাঠ দেখে এসেছেন। মাঠ বেশ বড়। এটাও শুনেছি যে ক্যানবেরার উইকেট একটু স্লো হয়। সেটা হয়তো স্পিনারদের সহায়ক হতে পারে। সবকিছু দেখেশুনে আসলে পেসার বা স্পিনারদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

প্রশ্ন: দল অস্ট্রেলিয়া আসার আগে সঙ্গে একজন মনোবিদ কাজ করেছেন। তিনি কি এখনো দলের সঙ্গে আছেন?

খালেদ মাহমুদ সুজন: অস্ট্রেলিয়া যখন আমরা ব্রিসবেনে ছিলাম, তখন তিনি আমাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। আর ডা. ফিল বাংলাদেশেও আমাদের সঙ্গে ছিলেন। এখানেও আমাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। উনি ব্রিসবেনের ম্যাচের সময় আবার আসবেন। আমাদের সঙ্গে কাজ করবেন।

প্রশ্ন: আপনার অভিজ্ঞতা থেকে কি মনে হয় – বাংলাদেশ দল কেমন করবে?
খালেদ মাহমুদ সুজন: আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যে, হ্যাঁ, বাংলাদেশ দল হেরে গেছে। আমরা প্রত্যাশা মতো খেলতে পারিনি, বা আমাদের প্রস্তুতিমূলক ম্যাচগুলোতে রদবদল হয়েছে। খেলোয়াড়দেরকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলানো হয়েছে। জয়ের চেয়ে আসলে এই ম্যাচগুলোতে ছেলেদের সবাইকে প্রস্তুতির জন্য সমান সুযোগ দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এটা ভালো হয়েছে যে কোচ সবাইকেই দেখে নিয়েছেন। এখন আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আমরা সবচেয়ে ভালো এগারোজনকে দলে নিয়েই মাঠে নামবো। সবমিলিয়ে আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যে আমরা দারুণ ক্রিকেট খেলবো।

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।