সন্ধ্যা ০৬:০২ ; বৃহস্পতিবার ;  ২৩ মে, ২০১৯  

আশাহত ব্যাটিং, তবে প্রস্তুতি শতভাগ

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

মুসা ইব্রাহীম, সিডনি থেকে॥

বাংলাদেশ–আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার ওয়ার্ম আপ ম্যাচে আগের দিনের চেয়ে গ্যালারিতে দর্শক বেশ কম। পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়ার্ম আপ ম্যাচে ব্ল্যাকটাউন ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টসপার্কের ওভাল মাঠের গ্যালারিতে যেখানে উপচেপড়া ভিড় ছিল, যেখানে দর্শকরা মূল গ্যালারি ছেড়ে মাঠের চারদিকে ঘাসের গ্যালারিতে জায়গা নিতে হয়েছিল, এদিনের ম্যাচে তার ঠিক উল্টো চিত্রটি দেখা গেল। মূল গ্যালারিটাই অর্ধেক ভরলো না। খাঁ খাঁ করছিল চারদিক।

তবে দর্শক যেটুকুই হয়েছিল, তার প্রায় ৯৯ শতাংশই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সমর্থক। কিন্তু তাদের কারোই মন ভরলো না। না বাংলাদেশের ব্যাটিং দেখে, না বোলিং দেখে। বাংলাদেশ এদিন হেরে গেছে ৪ উইকেটে, আইসিসি’র সহযোগী দল আয়ারল্যান্ডের কাছে। হারের এই ভার নিয়েই বাংলাদেশ তাদের বিশ্বকাপে মূল খেলার প্রথম ম্যাচে ১৮ ফেব্রুয়ারি মুখোমুখি হবে আফগানিস্তানের। এই দলটিও আইসিসি’র সহযোগী দল। দর্শকদের মন্তব্য– বাংলাদেশ ক্রিকেট দল অস্ট্রেলিয়ায় এসে এখন পর্যন্ত যেমন ক্রিকেট খেলছে, তা অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিরুদ্ধে বা আইসিসি পূর্ণ সদস্য অথবা সহযোগী দলের বিপক্ষে, তাতে এই যাত্রা পার পাওয়া কঠিন হবে। এক বোদ্ধা নারী দর্শক খোঁচা মেরে বললেন, ''এখানে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডের বোলারদের বল দেখতে পারলেই হলো। এতো সহজ নয় এখানে খেলা।''

বিশ্বকাপের মূল মিশন শুরুর আগে যে চারটি ম্যাচ বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়ায় খেলল, তার সবকটিতেই হারের স্বাদ নিতে হয়েছে দলটিকে। এতে করে দলের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে টিম ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন বললেন, ''এসব তো সবই প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ। এই ম্যাচেও কোচ হাতুড়াসিংহে বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালালেন। রিয়াদ-রুবেলকে বসিয়ে তাইজুল-আল আমিনকে খেলিয়েছেন। এতে করে দলের সব খেলোয়াড়দের ব্যাপারে আমাদের কাছে একটা পরিষ্কার চিত্র রয়েছে।'' এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বকাপের জন্য সেরা একাদশ গঠন করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

টস ভাগ্যে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে এদিন অবশ্য বাংলাদেশ হেরে গেছে। তারপরও আয়ারল্যান্ডের বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানানোটা বাংলাদেশ দলের জন্য বিস্ময় ছিল। কারণ ব্ল্যাকটাউন ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টসপার্কের ওভাল মাঠের ব্যাটিং সহায়ক উইকেট। এখানে অনায়াসেই রান স্কোর করা যে সম্ভব – তার প্রমাণ বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গেই রেখেছে। তবে বাংলাদেশ দল যেভাবে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছে, তাতে এই ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে প্রায় আড়াইশ রানের টার্গেট দেয়া আর হয়নি। এটাকেই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হিসাবে দেখছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। তার মতে ২৪০ বা ২৫০ স্কোর করতে পারলে বাংলাদেশ এই ম্যাচ জিততে পারতো।

শুরুটা খুব ভালো হয়নি। ওপেনার তামিম ইকবাল আউট হয়ে গেছেন চার রান করে। অপর ওপেনার আনামুল হকের ধীরগতির ব্যাটিংও (৭২ বলে ২৫ রান) এদিন সামর্থের যোগ্য চিত্র তুলে ধরতে পারেনি। বাংলাদেশের ইনিংস বলতে সৌম্য যা একটু ব্যাট করে (৪৫ রান) স্কোরবোর্ডকে সচল রেখেছিলেন। কিন্তু বাকি সব ব্যাটসম্যান যাওয়া-আসা মিছিলের অংশই ছিলেন। শেষদিকে মুশফিক (২৬ রান) আর মাশরাফি (২২ রান) ব্যাট করতে নেমে যা একটু প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাতে লড়াকু স্কোর আর করা হয়নি। বাংলাদেশের ইনিংস থেমে গেছে ১৮৯ রানে। আয়ারল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে যা একেবারেই অপ্রতুল।

এর জবাবও পেয়েছে বাংলাদেশ দল। ওভার প্রতি চার রানেরও কম সংগ্রহ করতে হয় যে ম্যাচে, সেখানে কোনো রিস্ক না নিয়ে দেখেশুনেই খেলেছে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা। সে কারণে বাংলাদেশ দলের বোলাররা আটসাট বোলিং করলেও ম্যাচ বের করে নিয়ে গেছেন পোর্টারফিল্ড (২৪), জয়েস (৪৭), বালবির্নি (অপ ৬৩) এবং কে. ও’ব্রায়েন (২৩)। মাশরাফি (৮-৩-১৩-০) এদিন সমীহ জাগানো বোলিং করলেও তা যথেষ্ট ছিল না।

ম্যাচ শেষে মাশরাফি সাংবাদিকদের বলেন, ''ফলাফলের দিকে তাকালে এই ম্যাচে বাংলাদেশের অর্জন শূন্য। তবে ওয়ার্ম আপ ম্যাচের যে উদ্দেশ্য ছিল–খেলোয়াড়দের নিজেদেরকে প্রস্তুত করা, সেটা পুরোপুরি হয়েছে বলে আমি মনে করি।''

কতোটুকু প্রস্তুত হয়েছে দল, এমন প্রশ্নের জবাবে মাশরাফি বলেন, ''পাকিস্তানের বিপক্ষে দল অনেক ভালো খেলার পরও আমরা জিততে পারিনি। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আমাদের খেলা খুবই বাজে হয়েছে। কিন্তু প্রস্তুতি যার যতোটুকু নেয়ার দরকার ছিল– যেমন ব্যাটিং কেমন করতে হবে, উইকেটটা কেমন হবে, বোলিং কিভাবে করতে হবে, এটাই মূলত উদ্দেশ্য ছিল। আমার বিশ্বাস সবাই সেটা বুঝতে পেরেছে, কিন্তু তার প্রতিফলন আমরা এখনো ঘটাতে পারিনি।''

তিনি আরও বলেন, ''এই কন্ডিশনে কে কেমন খেলে, দলে অনেক নতুন খেলোয়াড় আছে, তারা কেমন মানিয়ে নেয়– এসব দেখাই ছিল ওয়ার্ম আপ ম্যাচগুলোর মূল উদ্দেশ্য। সেটা শতভাগ পূরণ হয়েছে। এই ম্যাচেও যেমন তাসকিন আর আল-আমিনকে আগে বোলিং করানো হয়েছে। এসবই আসলে আগামী ম্যাচগুলোতে ভালো করার প্রত্যাশা নিয়েই করা হয়েছে।''

ওয়ার্মআপ ম্যাচে পরাজয় দলের আত্মবিশ্বাস এবং মনোবলে প্রভাব ফেলবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ''আমরা যে উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে এসেছি, এমন পারফর্ম করলে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তা অনেক বড় প্রভাব ফেলবে ঠিকই। তবে এসব ম্যাচ খেলার পর মূল ম্যাচের জন্য সবাই মানসিক আর শারীরিকভাবে আরও বেশি রেডি থাকবে।''

অনুশীলন এবং ওয়ার্ম আপ ম্যাচের প্রতিটিতেই কিছু না কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। এটা কেন–এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ''প্রতিটি কম্বিনেশনে এবং কন্ডিশনে বাংলাদেশ দল কেমন করে সেটা দেখার প্রয়োজন ছিল। আমরা সেটা দেখতে চেয়েছি। এটা মূল একাদশ গড়ার জন্য কাজে দিবে। তবে দলের যে পজিশনে যারা গত কয়েক বছর ধরে খেলছে, তারা সেখানেই খেলবে। তবে এখানে উইকেটটাও ম্যাচের জন্য জরুরি। শুনেছি ক্যানবেরায় ফ্ল্যাট উইকেট থাকবে। তবে সবকিছু বিবেচনা করে আমরা মূল একাদশ গঠন করবো।''

এই ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মাশরাফি আর টিম ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন হেলিকপ্টারে করে এয়ারপোর্টে উড়ে যান। সেখান থেকে প্লেনে করে তার মেলবোর্নে গিয়ে (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন। আর বাকি দল আগামীকাল (১৩ ফেব্রুয়ারি) বাসে করে ক্যানবেরার উদ্দেশে রওয়ানা দিবে।

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।