বিকাল ০৫:৫২ ; শনিবার ;  ২১ জুলাই, ২০১৮  

অর্থের লোভ দেখিয়ে সহিংসতায় শিশুদের ব্যবহার!

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

চট্টগ্রামের বাকলিয়ার তোলাতলি এলাকায় বাসে পেট্রোল বোমা ছোড়ার সময় গত ২৫ জানুয়ারি হাতেনাতে ধরা পড়ে দুই কিশোর কবির ও সোহাগ। একজনের বয়স ১৪, আরেক জনের ১৬। স্থানীয় লোকজন তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়। বাসসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

পুলিশকে তারা জানায়, অভাবের তাড়নায় তাদের এ কাজে নামতে হয়েছে। দু’জনই কাছের বস্তিতে থাকে। তারা স্কুলে যায় না। বাবা নগরীতে রিকশা চালায়। তাদের কোনও কাজও নেই। কখনও টেম্পোর হেলপার, কখনও কুলি। বয়স কম বলে মালিকরা তাদের রিকশা দিতে চায় না।

দারিদ্র্যের এই সুযোগ নিয়েই তাদের পেট্রোল বোমা হামলার জন্য ভাড়া করেছিলেন নগরীর বিএনপি নেতা আযম খান। কবির ও সোহাগের জবানবন্দি অনুযায়ী আযম খান পরিবহনে নাশকতার জন্য তাদের মতো আরও ২৫ জনকে ভাড়া করে আটটি দল গঠন করেছিলেন। এদের কারও কাজ বোমা বহন করে আরেক দলে কাছে পৌঁছে দেওয়া, কারও কাজ বোমা ছুড়ে মারা। একটি বোমা ছুড়লে অথবা বহন করলে তাদের দেওয়া হয় ৫শ' টাকা করে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও বিএনপির পক্ষ থেকে এর কোনও প্রতিবাদ করা হয়নি। আযম খানের মোবাইলে কল দিলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, টাকা দিয়ে বস্তির শিশুদের নানা অনৈতিক কাজে ব্যবহার করা চট্টগ্রামের একটি খুবই নিয়মিত দৃশ্য। নাশকতায় যারা টাকা দেন এবং পরিকল্পনা করেন তারা কেউ প্রকাশ্যে আসেন না । এমনকি যারা নির্দেশ দেন এবং কোথায় বোমা মারতে হবে বলে চিহ্নিত করে দেন তারাও থাকেন পর্দার পেছনে। আর কোনও কিছু না জেনেই নাশকতায় ব্যবহৃত হয় দরিদ্র পরিবারের এই শিশুরা।

প্রসঙ্গত, গত একমাসে হরতাল অবরোধের আগুনে পুড়ে মারা গেছে অন্তত ১০ শিশু-কিশোর। এদের প্রত্যেকের বয়স ১৮ বছরের নিচে।

শিশুদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিশু সংগঠক ও বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদের সভাপতি শাহ আলমগীর। তিনি বলেন, বিষয়টি আতঙ্কিত হওয়ার মতো। কারণ শিশুদের কোনও ক্ষতি হলে তা বহন করতে হবে পুরো জাতিকেই। যে কোনও মানবিক বিপর্যয়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশুরা। তাই হরতাল অবরোধের মতো কর্মসূচি দেওয়ার আগে শিশুদের রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় আনা দরকার ছিল।।

/এনএস/এএ/এফএ/এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।