দুপুর ০৩:২৯ ; সোমবার ;  ২০ মে, ২০১৯  

বঙ্গবন্ধুর প্রেস সচিব খন্দকার আমিনুল হক বাদশা আর নেই

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম প্রেস সচিব ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক খন্দকার আমিনুল হক বাদশা আর নেই (ইন্নানিল্লাহি... রাজিউন)। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় লন্ডনের একটি নার্সিংহোমে তিনি মারা যান। তিনি নিউমোনিয়াজনিত রোগে ভুগছিলেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬৯ বছর। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করেছেন।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল হক বাদশা দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে বসবাস করছিলেন। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্যা গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি সপরিবারে লন্ডনে থাকতেন।

মরহুমের ছোটভাই খন্দকার রাশিদুল হক নবা জানান, বিশিষ্ট সাংবাদিক-কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী তার মরদেহ নিয়ে দেশে আসবেন। পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে ঢাকা অথবা কুষ্টিয়ায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

আমিনুল হক বাদশা ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তিনি সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পাকিস্তানি সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সময় ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত থাকার কারণে বিভিন্ন সময় তিনি কারাভোগ করেছেন।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আমিনুল হক বাদশা। তিনি মুজিবনগর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। তিনি মুজিবনগর বাংলাদেশ মিশনের বহি:প্রচার বিভাগের পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৯ সালে আগরতলা মামলা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আমিনুল হক বাদশা বঙ্গবন্ধুর প্রেস সচিব নিযুক্ত হন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের সেই ঐতিহাসিক জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে যেসব ছাত্রনেতা মঞ্চে ছিলেন- তাদের একজন এই খন্দকার আমিনুল হক বাদশা।

১৯৭৫ সালের শেষ দিকে সামরিক শাসনের কারণে তিনি লন্ডনে চলে যেতে বাধ্য হন। তিনি ভারত, বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়াও তিনি এটিএন বাংলার যুক্তরাজ্য শাখায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন। খবর বাসসের।

/এফএস/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।