রাত ০৪:১৯ ; মঙ্গলবার ;  ১৬ জুলাই, ২০১৯  

লড়াই করেও শেষ রক্ষা হল না

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

মুসা ইব্রাহীম, সিডনি থেকে॥

প্রথম ওয়ার্ম আপ ম্যাচে বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছে ৩ উইকেটে হেরে গেছে। এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই মূলত বাংলাদেশের আইসিসি বিশ্বকাপ ২০১৫ মিশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। এটি ছিল আইসিসি বিশ্বকাপের পঞ্চম ওয়ার্ম আপ ম্যাচ।

বাংলাদেশের পরবর্তী ওয়ার্ম আপ ম্যাচ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিডনিতেই অনুষ্ঠিত হবে। ওই ম্যাচটি শুরু হবে সকাল সাড়ে ৯টায়।

৯ ফেব্রুয়ারি সিডনির ব্ল্যাকটাউন ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টসপার্কে দিবারাত্রির ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং নেয় বাংলাদেশ। শুরুটা হয় খারাপ। দলীয় এক রান সংগ্রহ করতেই প্রথম ওভারে আনামুল হক বিজয় আউট হন। এরপর মমিনুল হক আউট হন দলীয় ১৬ রানের মাথায়। এমন নড়বড়ে শুরুর পর বাংলাদেশ দল যে শেষ পর্যন্ত ২৪৬ করতে পারলো, তার পুরো কৃতিত্ব তৃতীয় উইকেট জুটি’র ১৬৮ রান সংগ্রহ। ব্যাট করছিলেন তামিম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। এই  দু’জন বাংলাদেশ দলকে ম্যাচে দারুণভাবে ফিরিয়েছিলেন। তামিম ইনজুরি থেকে ফিরে দারুণ ব্যাট করেছেন।

আর সাম্প্রতিক সময়ে ফর্মে থাকা রিয়াদও সমান তালে ব্যাট চালিয়ে রানের খাতা সচল রেখেছিলেন। তামিম আর রিয়াদ চোখ ধাঁধানো সব শট খেলে মাঠে দর্শকদের প্রশংসাও কুড়িয়েছেন।

ব্যক্তিগত ৮৩ রান করে রিয়াদ রানআউট হওয়ার আগে বাংলাদেশ দলের স্কোর ছিল ৩৯ ওভারে ২ উইকেটে ১৮৪। পরের বলেই রিয়াদ আউট। এরপর আর ৬২ রান সংগ্রহ করতে গিয়ে বাংলাদেশ দল সাত উইকেটে হারিয়েছে। এ সময় ছিল ব্যাটসম্যানদের উইকেটে যাওয়া আসার মিছিল। রিয়াদের পর তামিমও তাকে অনুসরণ করেছেন মাত্র সাত বলের মাথায়। স্কোর ২ উইকেটে ১৮৪ রান থেকে মাত্র ৯ বলের ব্যবধানে ৫ উইকেটে ১৯০ রানে দাঁড়ায়। 

শেষদিকে উল্লেখযোগ্য রান করেছেন শুধুমাত্র সাকিব (৩১ রান) আর সৌম্য (১৫ রান)। তাদের এই প্রচেষ্টাই বাংলাদেশ দলের স্কোরকে একটা সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে যায়।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান দলও খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি। প্রথম উইকেট হারায় দলীয় ২ রানের মাথায়। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম উইকেট নেন পেসার রুবেল হোসেন। এরপর দলীয় স্কোর যখন ৮ রান, তখন মাশরাফির বলে দ্বিতীয় উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান তখন বেশ টালমাটাল। এই অবস্থায় কিছুটা থিতু হয়ে খেলেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান ইউনিস খান আর হারিস সোহেল। ৫২ রানে ইউনিস খান আউট হয়ে গেলে বাংলাদেশ কিছুটা চেপে ধরে। এর মধ্যেও রানের চাকা সচল রাখে পাকিস্তানিরা।

পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে শোয়েব মাকসুদই ম্যাচটাকে বাংলাদেশের হাতের মুঠো থেকে বের করে নিয়ে যান। তিনি শেষ পর্যন্ত ব্যাট করে অপরাজিত ৯৩ রান করেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন উমর আকমল (৩৯ রান), মিসবাহ উল হক (১০) এবং শহীদ আফ্রিদী (২৪)। যদিও প্রয়োজনীয় ওভার প্রতি রান এক সময় ছয়ের ওপর চলে গিয়েছিল, কিন্তু সেটাকে ততটা পাত্তা দেয়নি পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা।

বেশ মাপা বোলিং করেন রুবেল (৮-১-৩২-১) এবং রিয়াদ (৪-০-১৭-১)। সাকিব অবশ্য বল হাতে ঝলসে উঠতে পারেননি (১০-০-৪৫-১)। মাশরাফি শুরুর স্পেলে টানা ছয় ওভার করে বল করে ২১ রানে ১টি উইকেট নিয়েছিলেন। তার বোলিং অবশ্য দ্বিতীয় এবং শেষ স্পেলে তার ততোটা ভদ্রোচিত থাকেনি (১০-০-৫০-২)। এছাড়াও বাংলাদেশের হয়ে দু’টি উইকেট নিয়েছেন তাসকিন (৭-০-৪১-২)।

মাঠে এদিন প্রায় ১৫ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিল। যাদের বেশিরভাগই ছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের সমর্থক। তারা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জার্সি পরে মাঠে এসেছিলো। পুরো মাঠ বাংলাদেশের সুবিশাল পতাকা উড়িয়ে দলকে উৎসাহ দিয়েছেন পুরোটা সময়।

দর্শকদের অনেকের মতে, বাংলাদেশ দল আরেকটু আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং করলে এই ম্যাচটা সহজেই জিততে পারতো। তবে ম্যাচটা ৪৯তম ওভারে শেষ হওয়ায় বোঝা যায় যে বাংলাদেশ কখনোই হাল ছেড়ে দেয়নি। বরং এটা যে কোনও দলের জন্য একটা সুযোগ ছিল। যা পাকিস্তান কাজে লাগিয়েছে।

একইদিন অপর ওয়ার্ম আপ ম্যাচে ইংল্যান্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৯.৩ ওভারে মাত্র ১২২ রানে গুটিয়ে যায়। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন সিমন্স (৪৫)। ক্রিস ওকস একাই ৫ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসে ধ্বস নামান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইয়ান বেল এবং ময়িন আলী উদ্বোধনী জুটিতে করেন ৭০ রান। ময়িন আলী ৪৬ রানে আউট হয়ে গেলে জেমস টেইলর মাঠে এসে ইয়ান বেলের সঙ্গে জুটি বেধে বাকি ৫৫ রান যোগ করেন। ২২.৫ ওভারে ইংল্যান্ড ১ উইকেটের বিনিময়ে ১২৫ রান তুলে নেয়।

/এসটি/ 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।