সকাল ১০:১৩ ; শনিবার ;  ২১ জুলাই, ২০১৮  

অস্থিরতার প্রভাব বোরো চাষে

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

অামিনুর রহমান রাসেল॥

বিএনপি-জামায়াত জোটের ডাকে দেশজুড়ে চলমান অবরোধ-হরতালের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে যাচ্ছে কৃষি ক্ষেত্রে। অবরোধ ও হরতালে বোরো চাষের সেচের জন্য প্রয়োজনীয় পেট্রোলিয়াম, ডিজেল ও কেরোসিন সরবরাহ কমেছে। যার প্রভাব পড়বে চলতি মৌসুমেই।

চলমান এই অবরোধ-হরতালে তেলের পাম্প এবং ট্যাংক লরিগুলো অার্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প এবং ট্যাংক-লরি মালিক ও কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলছেন, হামলার ভয়ে উচ্চমাত্রার এসব দাহ্য পদার্থ নিয়ে সড়ক মহাসড়কগুলোতে যেতে চাইছেন না ট্যাংক ও লরি চালক-হেলপাররা।

তারা অারও বলছেন, ট্যাংক-লরিগুলোতে অগ্নিসংযোগের ভয়ে তেলের ডিপো থেকে পাম্প স্টেশনগুলোতে জ্বালানি অানা নেওয়া কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ!

এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক জানান, দেশজুড়ে বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার পাম্প স্টেশন অাছে। অবরোধ-হরতালের কারণে এরমধ্যে অনেকগুলোই এখন বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলীয় ১৬ জেলায় জ্বালানি অানা নেওয়া মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে অবরোধ-হরতালের কারণে সৃষ্ট এই জ্বালানি সঙ্কটে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে চলেছেন বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের বোরো চাষীরা।

নাজমুল হক বলেন, 'কৃষকরা প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় এই বোরো মৌসুমে ক্ষেতে সেচ দিতে পারবে না। এছাড়া যানবাহন না থাকার কারণে উৎপাদিত ফসলও বাজারজাত করতে পারবে না। অাশঙ্কা করছি, চলতি বছর হয়তো তারা বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হবে।'

তিনি অারও বলেন, 'অবরোধের সময় ভাঙচুর ও বোমা হামলার ভয়ে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অধিকাংশ তেলের পাম্পই বর্তমানে বন্ধ অাছে।'

যদিও দেশে মোট ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের ৯০ শতাংশই সাধারণত অানা-নেওয়া করা হয় জলপথে। অার ৮ শতাংশ পরিবহন করা হয় ট্রেনে ও ২ শতাংশ পরিবহন হয় সড়ক-মহাসড়ক দিয়ে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এখন অনেক জায়গাতেই পেট্রোল ১২৫ টাকা লিটার ও প্রতি লিটার ডিজেল ৯০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। যদিও প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৯৬ টাকা এবং ডিজেলের দাম লিটারে ৬৮ টাকা নির্ধারণ করা অাছে।

দিনাজপুরের এক কৃষক জানান, সরবরাহ কম থাকার অজুহাতে অনেক অসাধু পাম্প ব্যবসায়ী ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১৫ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। এমনকি সেখানকার কোথাও কোথাও কেরোসিনের মূল্য লিটারে ৫ টাকা বেশি রাখা হচ্ছে।

অবশ্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বলছে, দেশজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে কোনও সমস্যা নেই। বিপিসি চেয়ারম্যান এ এম বদরুদ্দোজা বলেন, 'দেশে জ্বালানির সঙ্কট নেই। অাইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রহরায় অামরা ট্রাক-লরি করেই বিভিন্ন দেশের এলাকায় জ্বালানি পৌঁছে দিচ্ছি।'

বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প এবং ট্যাংক-লরি মালিক ও কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল বলছেন, 'রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এখন দিনে মাত্র দেড় হাজার টন জ্বালানি বিক্রি করছি। গত ২২ দিনে ক্ষতি হয়েছে প্রায় অাড়াইশ কোটি টাকা। বিক্রি কমেছে ৭০ শতাংশ।'

উল্লেখ্য, দেশে প্রতিদিন প্রায় ১২ হাজার টন ডিজেল, পেট্রোল এবং অকটেন বিক্রি হয়।

/এসএম/এসটি/এফএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।