বিকাল ০৫:৪০ ; বৃহস্পতিবার ;  ২৩ মে, ২০১৯  

তরুণ দল ক্রিকেট মাতাবে

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

মুসা ইব্রাহীম, সিডনি থেকে॥

তারুণ্যে ভরপুর বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দলের জ্যেষ্ঠ কিংবা নবীন খেলোয়াড়– সবাই তরুণ। এই দলকে নিয়েই আশাবাদ ব্যক্ত করলেন দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন। আইসিসি নির্ধারিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান অনুশীলন ম্যাচের আগে সাক্ষাতে জানালেন, এমন একাট্টা দল তিনি এর আগে পাননি। দলের জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়রা নবীনদের দেখভাল করছে, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে, ভুল হলে শুধরে দিচ্ছে এবং নবীনরাও জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়দের কাছ থেকে শেখার আগ্রহে এগিয়ে যাচ্ছে– এই রসায়নগুলো ক্লিক করলে দলও ভালো করবে। ছোট দল, আরও স্পষ্ট করে বললে আফগানিস্তান বা স্কটল্যান্ডের সঙ্গে এই দলের জেতার ব্যাপারে দৃঢ়মনস্ক দেখালেন খালেদ মাহমুদ সুজনকে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচে ইনজুরি কাটিয়ে ওঠা তামিম ইকবাল ব্যাটিং করলেও পুরো সময় ধরে ফিল্ডিং না-ও করতে পারেন। তাকে নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট ধীরে চলো নীতিতে এগোচ্ছে। এর আগে ব্রিসবেনে ৩ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে অনুশীলন ম্যাচে তামিম ইকবালকে ফিটনেস ফিরে পেতে দলের সবার চেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে দেখা গেছে। তিনি দলের স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ মারিও ভিল্লাভারায়নের সঙ্গে অ্যালান বোর্ডার ফিল্ডের পাশের রে লিন্ডওয়াল ওভাল মাঠে রানিং, স্ট্রেচিং ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের কসরৎ করছিলেন। এই গ্রাউন্ডেই বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিকের তত্ত্বাবধানে বোলার আল-আমিন প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় ধরে বোলিং অনুশীলন করলেন। কিছুক্ষণ পর তাকে অনুসরণ করে তাসকিন আহমেদ যোগ দিয়েছিলেন অনুশীলনে। তাদের বাড়তি তত্ত্বাবধান করেন সহকারী কোচ রুয়ান কালপাগে।

এছাড়া ৮ ফেব্রুয়ারি সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ড মাঠে দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অনুশীলনের সময় ভালো খেলার প্রত্যয় সবার চোখেমুখে প্রকাশ পেয়েছে। বেশ চনমনে দেখা গেছে দলের সব খেলোয়াড়কে। তাই খালেদ মাহমুদ সুজন বললেন, তারুণ্যে ভরপুর এই দলকে নিয়ে তিনি স্বপ্ন দেখছেন। দলের সবার অনুশীলন খুব ভালো হয়েছে বলে তিনি মন্তব্যও করলেন।

দলের সেরা খেলোয়াড় সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ– সবাই বেশ ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন। বোলার রুবেল হোসেন, তাসকিন, অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা– সবার মধ্যেই আত্মবিশ্বাস ছিল তুঙ্গে। কারণ এরই মধ্যে ব্রিসবেন আর সিডনিতে অনুশীলনে দলের খেলোয়াড়রা অনেকটাই নিজেদের অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন।

ব্রিসবেনে অ্যালান বোর্ডার ফিল্ডে টানা সাতদিন অনুশীলন করেছেন এবং দু’টো অনুশীলন ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ দল। এখানে একজন ক্রিকেটারের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুবিধা ছিল– ফিটনেস জিমনেসিয়াম, সুইমিং পুল, ইনডোর ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন চাহিদার বোলিং, ব্যাটিং নেট। এমনকি বিশ্বের যেকোনও বোলার যেভাবে বল করে, সেভাবে বল করার সিমুলেটর মেশিনও। তার মানে হলো– ব্যাটসম্যান যদি কোনও দেশের বোলারের বল সামনাসামনি নাও খেলে থাকে, কোনও সমস্যা নেই। ব্রিসবেনের ওই হাই পারফরমেন্স মাঠে সেই সুবিধাও ছিল– ব্যাটসম্যানরা অনায়াসেই স্টার্ক, জনসনের বল এই সিমুলেটর বোলিং মেশিন থেকে পেয়ে অনুশীলন করেছেন। আর দলের সবাই এই অনুশীলনটা উপভোগ করেছেন। নিজেদের বিশ্বকাপের মূল খেলাগুলোর জন্য প্রস্তুত করার দিকেই বেশি মনোযোগ। তবে সুজনের মতে– এই সুবিধাগুলো দেশেও চালু করা উচিত। যেন শুধু বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দলের খেলোয়াড়দের এমন অনুশীলনের সুযোগ করে দেওয়া না হয়। বরং তারা যেন সবসময়ের জন্য দেশেই বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের সুবিধার মধ্য দিয়ে অনুশীলন করে। তাহলে তাদের টেম্পারমেন্টটাও বিশ্বমানের হবে বলে তিনি মনে করেন।

কথা হয়েছে বেশ ক’জন খেলোয়াড়ের সঙ্গে। অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে দু’টো ম্যাচে হেরে মুষড়ে পড়াটা তারা লুকাতে পারছিলেন না। কেউ কেউ তো বলছিলেনই যে– 'এই দলের বিপক্ষে এমন হার মেনে নেওয়া যায় না। জিতলে আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যেত।‍‍' তবে ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং, ফিটনেস, আত্মবিশ্বাস– সব দিক থেকেই খেলোয়াড়দের কাছে ইতিবাচক কথাবার্তাই শোনা গেছে।

আনামুল হক বিজয় ২০১২ সালে এই অস্ট্রেলিয়াতেই অনূর্ধ্ব ১৯ দলে খেলে দলের সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন। সৌম্য সরকারও ছিলেন সেই দলে। আর সাকিব তো এবার বিগ ব্যাশে আগেই খেলতে এসেছেন অস্ট্রেলিয়ায়। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলকে হারানোর অভিজ্ঞতাও তাদের সবার মনে গেঁথে আছে। সুতরাং, অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫ কে ঘিরে দলের একটা লক্ষ্য আছে। কথা বলে জানা গেল, অতীত অভিজ্ঞতা আর বর্তমান অনুশীলনকে ভিত্তি করে তাদের সবার একটা করে ব্যক্তিগত লক্ষ্য নির্ধারণ করা আছে। বিজয় বলেই ফেললেন– এবারের বিশ্বকাপে ফের তিনি দলের সর্বোচ্চ স্কোরার হতে চান।

সৌম্য সরকার সেটা প্রকাশ না করলেও এমন একটা ইঙ্গিত তিনিও দিলেন। এছাড়া মাশরাফি, সাকিব, রিয়াদ, মুশফিক, মুমিনুল– তাদের সবার লক্ষ্য বাংলাদেশ দলকে দ্বিতীয় রাউন্ডে নিয়ে যাওয়া, সেটা যে করেই হোক।

যদিও অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে দু’টো অনুশীলন ম্যাচেই বাংলাদেশ দল হেরেছে, এটাকে খেলোয়াড়রা হালকাভাবেই নিয়েছে বলে মনে করেন খালেদ মাহমুদ সুজন। তার মতে, ছেলেরা আইসিসি’র অফিসিয়াল অনুশীলন ম্যাচ এবং বিশ্বকাপের মূল খেলাগুলো নিয়ে সিরিয়াস।

জিম্বাবুয়ের সঙ্গে সিরিজের পর এবং বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ দল বহুদিন আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকে দূরে। এটা বিশ্বকাপের খেলায় প্রভাব ফেলবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সুজন বলেন, 'আমি মনে করি জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর তেমন খেলার চাপ না থাকায় ভালোই হয়েছে। খেলোয়াড়রা তাদের শতভাগ উজাড় করে দিয়ে খেলার জন্য মুখিয়ে আছে। তবে আরও ম্যাচ থাকলে সেটা ছেলেদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারতো।' তিনি অন্য দলগুলো যারা বিশ্বকাপের আগে একের পর এক আন্তর্জাতিক ম্যাচ বা টুর্নামেন্ট খেলেছে, তাদের ক্ষেত্রে ক্লান্তি কাজ করতে পারে বলে মন্তব্য করেন। যা তাদের খেলায় প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশের মূল কোচ হাতুড়াসিংহে’র ব্যাপারে সুজন বেশ ইতিবাচক কথা শোনালেন। তিনি জানালেন অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের কোচ ছিলেন এই হাতুড়াসিংহে। সেখান থেকেই তাকে সুজন অনুসরণ করছেন। তাকে বাংলাদেশ দলের কোচ করানোর ব্যাপারটা তিনিই প্রস্তাব করেছিলেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই কোচের মধ্যে যে সহযোগিতার গুণটা রয়েছে, তিনি ছেলেদের সঙ্গে মিশে গিয়ে যেভাবে কোচিং করাচ্ছেন, তা ঠিক আগের কোচের মধ্যে ছিল না। ফলে আগের কোচকে ছেলেরা অনেক সময়ই মানত না। কিন্তু এখন সেটা হচ্ছে না। ছেলেরা কোচের কথা অনুসরণ করছে। যা দলের জন্য অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সবকিছু ঠিক থাকলে এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল উজ্জীবিত টোটাল ক্রিকেট খেলবে বলে তিনি জানালেন। ম্যাচটি শুরু হবে সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায়।

/এমএনএইচ/এফআইআর/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।