বিকাল ০৫:১১ ; বৃহস্পতিবার ;  ২৩ মে, ২০১৯  

প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিশ্বকাপ উন্মাদনা তুঙ্গে

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

মুসা ইব্রাহীম, সিডনি থেকে॥

আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫ শুরুর দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ক্রিকেটপাগল বাংলাদেশির উন্মাদনা বাড়ছে সমানুপাতিক হারে। অস্ট্রেলিয়া-প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেন তাতে সবাইকে টেক্কা দিতে চলেছেন। লাল-সবুজ পতাকা, বাংলাদেশ দলের জার্সি, ড্রাম-বাদ্যি, রঙিন পরচুলা সবকিছু নিয়ে তারা মাঠে যেতে উন্মুখ হয়ে আছেন।

বাকি শুধু ব্যাট-বলের লড়াইটা। অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ৩০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন। প্রায় সবার মধ্যেই এখন কমবেশি বিশ্বকাপ জ্বর ভর করেছে। তাদেরই কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল- এই উচ্ছ্বাস, উন্মাদনা প্রিয় ক্রিকেট দলকে ঘিরে, প্রিয় ক্রিকেটারদের জন্য শুভেচ্ছাবার্তায়।

প্রায় বছর দুয়েক আগে বাংলাদেশ থেকে সিডনি এসেছেন শারমিন আক্তার। তিনি এখানে চিকিৎসাখাতে জেনারেল প্র্যাকটিশনার হওয়ার নিবন্ধনের জন্য অপেক্ষা করছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে উৎসাহ যোগাতে দলের জার্সি নিয়ে মাঠে হাজির হবেন তিনি। তিনি মনে করেন, ছোট দলগুলোকে হারিয়ে বাংলাদেশ সহজেই সেকেন্ড রাউন্ডে যেতে পারবে।

অবশ্য ব্রিসবেনে সুগার রিসার্চ অস্ট্রেলিয়ার গবেষণা কর্মকর্তা জিয়াউল ইসলামের বিশ্বাস, বাংলাদেশ দল বড় দলগুলোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে যাবে। অ্যাডিলেইডে মেরিন বায়োলজি নিয়ে পিএইচডি করছেন হেদায়েতুল্লাহ সুমন। তিনি ব্রিসবেনে গত ৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া একাদশের অনুশীলন ম্যাচ দেখতে অ্যালান বোর্ডার ফিল্ডে এসেছিলেন। ব্রিসবেনে ২১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া’র খেলা দেখে ফিরবেন অ্যাডিলেইডে। তার প্রত্যাশা আবার একটু অন্যরকম–আমি চাই বাংলাদেশ বড় দলগুলোকে হারাক। কিন্তু আবার ছোট দলগুলোর কাছে যেন না হারে।

সিডনিতে একটি ফাস্টফুড প্রতিষ্ঠানের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার মো. আবু নাসের জানালেন, তার প্রতিষ্ঠানে প্রায় দুইশ বাংলাদেশি চাকরি করেন। তাদের সবাইকেই সুবিধামতো খেলা দেখার জন্য ছুটি দিয়েছেন। তিনি নিজেও বাংলাদেশের সবগুলো খেলা দেখবেন– অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ডে। এজন্য আইসিসি কর্তৃপক্ষ যখন সাধারণ দর্শকদের মধ্য থেকে সদস্য আহ্বান করেছিল, সেই ছয় মাস আগেই তিনি টিকিটের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশের জার্সি, পতাকা আর ড্রাম হাতে মাঠে যাবেন বন্ধুবান্ধবদেরকে নিয়ে। দলকে উৎসাহ যোগানোটাই তার কাছে মুখ্য। তিনি এই খেলাকে বিনোদন হিসাবেই গ্রহণ করছেন। বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে, এ নিয়ে তিনি বেশ উত্তেজিত। তার প্রত্যাশা– দল ভালো খেলুক, চেষ্টা করুক। তিনি বললেন, 'বাংলাদেশিদের যে মন বড়, এটা যেন খেলার মাধ্যমে ফুটে ওঠে। আর খেলোয়াড়দেরকেই এক্ষেত্রে অগ্রগামী হতে হবে।'

সাংবাদিক ফজলুল বারী এখন সিডনিতে বাস করছেন। তিনিও বাংলাদেশের সব খেলা দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করলেন। তার এক বন্ধু প্রায় আড়াইশ জার্সি পাঠিয়েছেন ঢাকা থেকে। তিনি সেসব জার্সি কাছের মানুষগুলোকে বিলিয়ে দিয়েছেন। তার বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে আসা সাংবাদিকসহ আর যারা ক্রিকেট দেখতে আসছেন, তার মাধ্যমে এয়ারপোর্টে রিসিভ করা, থাকার ব্যবস্থা করা ইত্যাদি স্বেচ্ছাশ্রমে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। তিনি বললেন, বাংলাদেশ দ্বিতীয় অনুশীলন ম্যাচে ১৯৩ রান করেছে, এটা খারাপ লেগেছে। বাংলাদেশ দলের আরও ভালো খেলা উচিত বলে তিনি মনে করেন। ফজলুল বারী আরও বললেন, আফগানিস্তান দল অস্ট্রেলিয়ায় এসে ঘোষণা দিয়েছে যে তারা বাংলাদেশকে হারিয়ে প্রথম অঘটনের জন্ম দিবে। এর যোগ্য জবাব তিনি বাংলাদেশ দলের কর্তাব্যক্তিদের কাছ থেকে সরাসরি আশা করেছিলেন। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞের মতোই তিনি বললেন, ক্যানবেরার উইকেট ব্যাটিং সহায়ক এবং স্পিন কাজ করে। সুতরাং আফগানিস্তানকে হারানো বাংলাদেশ দলের জন্য কোনো সমস্যাই হবে না। তিনি আরও বললেন, তাসকিন–সাব্বির দেশ ছাড়ার আগে ঘোষণা দিয়েছে যে তারা এবারের বিশ্বকাপে প্রথম দশ বোলার আর ব্যাটসম্যানের তালিকায় থাকতে চায়। তিনি সব খেলোয়াড়ের কাছ থেকে এমন উদ্দীপনা আশা করেন। তার মতে, সাকিব, রিয়াদ, মুশফিক, মাশরাফি, মমিনুলরা যদি ভালো ভালো করে, তাহলে দল ‘ক্লিক’ করবে। তিনি এই দু’মাস ক্রিকেট নিয়ে থাকতে চান। দল জিতুক, হারুক– তিনি সবাইকে নিয়ে মজা করতে চান।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে 'ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনে’র পরামর্শক মোস্তফা নাসের জানালেন, তার ক্যানবেরার বন্ধুরা তাকে সেখানে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এখন কাজের তালিকা দেখে টিকিট কাটবেন এবং বাংলাদেশের খেলা দেখতে যাবেন। তিনি জার্সি, প্ল্যাকার্ড ইত্যাদি নিয়ে খেলা দেখতে চান।

এই বিশ্বকাপ উপলক্ষে অনেকেই অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ড ইতিমধ্যেই এসেছেন কিংবা আসছেন। অস্ট্রেলিয়া বঙ্গবন্ধু কাউন্সিলের কোষাধ্যক্ষ মেহেদী রব জানালেন, তার পরিবারের সঙ্গে আরও দু’টো পরিবার এসে যোগ দিচ্ছেন এই বিশ্বকাপ খেলা দেখা উপলক্ষে। সুতরাং তাদের মধ্যে এখন একটা ‌‘পিকনিক পিকনিক’ উপলক্ষ চলে এসেছে। তারা মাথায় বাংলাদেশের ব্যান্ডানা, জার্সি নিয়ে যাবেন খেলা দেখতে। এমনটাই করেছেন ব্রিসবেনের কুশল আহমেদ ও সাদিয়া সাবিরিনা। খেলা দেখতে তাদের সঙ্গেও এক বন্ধু এসে যোগ দিচ্ছেন। সবমিলিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে বিশ্বকাপ ক্রিকেট নিয়ে পুরোপুরি উন্মাদনা বিরাজ করছে।


 

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।


 

*** বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।