বিকাল ০৫:০৭ ; বৃহস্পতিবার ;  ২৩ মে, ২০১৯  

কোনও যুক্তিতেই অবরোধের নামে সন্ত্রাস গণতান্ত্রিক নয়!

প্রকাশিত:

মো. রহমত উল্লাহ্॥

অবরোধ শব্দের অর্থ বা প্রতিশব্দ হচ্ছে- প্রতিরোধ, গতিরোধ, বাধা দান, বিরত রাখা, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা ইত্যাদি। যার ইংরেজি শব্দ Blockade, Blockading, Barricaded, Barricading. আর পিকেটিং (Picketing- The activity to stop/prevent people from doing job.) শব্দের বাংলা অর্থ হচ্ছে- লোকজনকে কাজে বাধাদান করা। এই দু'টি কাজই এককথায় অগণতান্ত্রিক। কারণ বৈধ কাজ করার অধিকার থেকে কাউকেই বিরত রাখা কোনও যুক্তিতেই গণতান্ত্রিক হতে পারেনা।

শিক্ষার্থীকে লেখাপড়া করায় বাধাদান, শ্রমিককে উৎপাদনকর্মে বাধাদান, কৃষকের কৃষিপণ্য বিক্রয় তথা উৎপাদনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, যানবাহন ও পরিবহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও অগ্নিসংযোগ, মানুষকে চলাচলে বাধাদান ও হতাহত করা, দিনমজুরকে তার কাজ থেকে বিরত রাখা, রোগীকে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ না দেওয়া ইত্যাদি অপকর্ম যে শুধু অগণতান্ত্রিক তা-ই নয় বরং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

হরতাল মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। তাই সরকার আইন করে হরতাল বন্ধ করতে পারবে না। কিন্তু হরতালে পিকেটিংয়ের নামে জান-মালের অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করা তো কোনও গণতান্ত্রিক অধিকার নয়। আগুন দিয়ে নিরিহ মানুষ পুড়িয়ে মারা, রেলগাড়ি, বাস, টেক্সি, রিক্সা, অটোরিক্সা, এম্বুলেন্স, অফিস, আদালত, দোকানপাঠ, ঘরবাড়ি, উপাসনালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শহীদ মিনার ইত্যাদিতে পেট্রোল / কেরোসিন / গানপাউডার দিয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করা, বোমা ও ইটপটকেল নিক্ষেপ করা, রেললাইন তুলে ফেলা, সেতুর পাটাতন খুলে নিয়ে যাওয়া, গাছ ও মাটি কেটে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া, মানুষ ও গৃহপালিত পশু-পাখিদের হতাহত করাসহ এহেন অপকর্মতো কোনও ধর্ম, রাষ্ট্র বা বিবেকের বিধানেই সমর্থন ও ক্ষমাযোগ্য নয়। আমাদের দেশে হরতালকে কেন্দ্র করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তারাতো কোনও দলের কর্মী সমর্থক নয়। অাবার অন্যদিকে গাছপালাগুলোতো অক্সিজেন দেয় সবাইকেই, কোটি টাকার সম্পদ বাংলাদেশ নামক আমাদের এই প্রিয় রাষ্ট্রেরই।

যারা এসব অপকর্ম করছে তারা কি মানবতা বিরোধী অপরাধের চেয়ে বেশি অপরাধ করছে না? এইসব অপরাধতো মানবতা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ বিরোধী অপরাধ। হরতাল-অবরোধে পিকেটিংয়ের নামে পরিচালিত এসব ভয়াবহ অপকর্মের কারণে দেশের মানুষ এখন ভীত-সন্ত্রস্ত।

প্রতিদিন বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। প্রতি হরতালে ক্ষতি হচ্ছে প্রায় হাজার কোটি টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশি বিদেশি বিনিয়োগ, রপ্তানিযোগ্য তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রির উৎপাদন এবং আমদানি ও রপ্তানি। কর্মহীন থাকছে খেটে খাওয়া মানুষ। বন্ধ থাকছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। হচ্ছে না পরীক্ষা ও লেখাপড়া। পিছিয়ে পড়ছে আমাদের সম্ভাবনাময় সন্তানেরা।

এমনসব দিন খুঁজে হরতাল দেওয়া হয় যেনো- হরতালেই শুধু নয়, হরতালের আগে এবং পরে আরও কয়েকদিন বন্ধ থাকে দেশের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানিসহ সকল মানুষের কাজকর্ম।

দাবি-দাওয়ার পক্ষে জনসর্মথন প্রমাণ করা নয়; বরং যে দেশ ও মানুষের জন্য রাজনীতি সে দেশ ও মানুষের সর্বাধিক অপূরণীয় ক্ষতি নিশ্চিত করাই যেন এই অবরোধ ও হরতালের উদ্দেশ্য। কমবেশি সচল এই দেশ অচল করে দেওয়ার মানে কি এই নয় যে- দেশের উৎপাদন ও অামদানি রপ্তানিসহ সার্বিক অথনৈতিক কর্মকান্ড অচল করা, দেশের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া অচল করা, দেশের কলকারখানা ও ব্যবসাবাণিজ্য অচল করা, চাকরিজীবি শ্রমিক-কর্মচারি-কর্মকর্তদের নিয়মিত বেতন-ভাতা অচল করা, খেটেখাওয়া মানুষের জীবন অচল করে দেওয়া।

লেখক: শিক্ষক

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।