সকাল ০৮:৩৫ ; রবিবার ;  ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯  

ট্যাংকারডুবির ২ মাস: ক্ষতি কাটিয়ে উঠছে সুন্দরবন

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

খুলনা প্রতিনিধি॥

সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাংকার ডুবির ঘটনার দুই মাস আগামীকাল রবিবার। ইতোমধ্যেই শ্যালা নদী সংলগ্ন এলাকার জনজীবন স্বাভাবিক হয়ে আসছে। জেলেরা এখন নদীতে মাছ পাচ্ছেন। ডলফিনের বিচরণ বাড়ছে। পাখির কলরবে মুখর হচ্ছে গোটা পরিবেশ। অন্যান্য প্রাণীর উপস্থিতিও সরব হচ্ছে।

তবে, এখনও গাছে গাছে লেগে থাকা তেলের কালো দাগ দৃশ্যমান। কিন্তু বনের কোনও গাছের পাতা হলুদ হওয়া বা তেলের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাবের চিত্র এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। মার্চ মাসের মাঝামাঝি বন বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর তেলের প্রভাবের ক্ষতি বা উন্নতি সম্পর্কে জানা যাবে।

সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. আমীর হোসেন জানান, সাদা চোখে তেলের ক্ষতিকর কোনও কিছুই দৃশ্যমান হচ্ছে না। এখন সব আগের মতই স্বাভাবিক। শ্যালা নদী ও সংলগ্ন এলাকার সুন্দরবনে প্রাণের সঞ্চার হচ্ছে। পরিস্থিতি এখন বেশ স্বাভাবিক। তবে আরও সময় দেওয়া প্রয়োজন। ওই এলাকার নদ-নদীতে এখন ডলফিনের বিচরণ বেড়েছে। নতুন গাছ জন্মাচ্ছে। গাছে গাছে কচি পাতা দেখা যাচ্ছে। পাখির কলরবও বাড়ছে। ক্ষতির প্রকৃতি বা পরিস্থিতি পরীক্ষা ছাড়া বোঝা যাবে না। মধ্য মার্চে পরবর্তী পরীক্ষার কাজ করা হবে।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম ৩১ জানুয়ারি শ্যালা নদী ও সংলগ্ন সুন্দরবন পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি ওই এলাকায় বসবাসরত জেলেদের সঙ্গে কথা বলেন। জেলেরা তেল দূষণের পর বর্তমানে পরিবেশ কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। ডিএফও মো. আমীর হোসেন শুক্রবারও শ্যালা নদী ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

জয়মনিরঘোল এলাকার জেলে আল আমিন বলেন, 'এখন প্রতিনিয়তই শ্যালা নদী ও আশপাশের খালে মাছ ধরার কাজ চলছে। অল্প হলেও মাছ পাওয়া যাচ্ছে। যা জেলেদের জীবন-ধারনের জন্য সহায়ক হচ্ছে।'

সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের প্রধান সহকারী বন সংরক্ষক বেলায়েত হোসেন বলেন, গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে ট্যাংকারডুবির স্থানের আশপাশের গাছপালায় এখনও তেলের দাগ দেখা যাবে। যা প্রাকৃতিক নিয়মেই মিলিয়ে যাচ্ছে। তেলের এই দাগ সম্পূর্ণ মিলিয়ে যেতে আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন। ইতোমধ্যেই শ্যালা নদী ও সুন্দরবনে প্রাণের স্পন্দন বাড়তে শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ভোরে সুন্দরবনে শ্যালা নদীতে ট্যাংকার 'এমটি টোটাল' এর ধাক্কায় তেলবাহী ট্যাংকার ‘ওটি সাউদার্ন স্টার-৭’ ডুবে যায়। এতে সুন্দরবনের ৩৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৬৪ লিটার ফার্নেস অয়েল। মারা যান ট্যাংকারের মাস্টার মোখলেছুর রহমান।

/বিএল/এফএস/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।