সকাল ১০:১৬ ; রবিবার ;  ২১ এপ্রিল, ২০১৯  

বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ বিজ্ঞানীর সাক্ষাৎকার

আমাদের দেশের জীববৈচিত্র্য গোটা ইউরোপের প্রায় ৫ গুণ বেশি— মো. সাজিদ আলী হাওলাদার

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

মো. সাজিদ আলী হাওলাদার বিশ্বের সরীসৃপ প্রাণির শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষেত্রে তিনিই সর্বকনিষ্ঠ বিজ্ঞানী বলে স্বীকৃত। আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির কিউরেটর ড. ড্যারেল ফ্রস্ট তাকে এই স্বীকৃতি দিয়েছেন। সাজিদ আলী জন্ম নিয়েছেন ১৯৮৫ সালে— এখনও তারুণ্যের কোঠা পার করেননি; কিন্তু ২০১১ সালেই তার গবেষণা প্রবন্ধ প্রাণির শ্রেণিবিন্যাসের আন্তর্জাতিক জার্নাল জুট্যাক্সার ২৭৬১ ভলিউমে প্রকাশিত হয়। ফেজারভারিয়া আসমতি নামের সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতির একটি ব্যাঙ আবিষ্কার করেছেন তিনি। বাঙালির গত ১৫০ বছরের ইতিহাসে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যে কিনা প্রাণির নতুন কোনও প্রজাতি আবিষ্কার করলেন। এমনকি তিনি জাকেরানা নামে প্রাণির নতুন একটি গণেরও (genus) নামকরণ করেন।
মাত্র গতকালই (৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫) ‍ 'পাবলিক লাইব্রেরি অব সায়েন্স'-এর জার্নালে তার দ্বিতীয় আবিষ্কার উন্মোচিত হয়। Euphlyctis kalasgramensis নামের ব্যাঙটি আবিষ্কারের স্বীকৃতি এখন তার। খবরটি ইয়াহু নিউজসহ খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোতে ফলাও করে প্রচারিত হলেও বাংলাদেশের প্রতিভা স্বদেশের মিডিয়াতেই রয়েছেন অন্ধকারে।
বাঙালির ইতিহাসে তিনিই প্রথম বাঙালি যে কিনা প্রাণির নতুন কোনও প্রজাতি আবিষ্কার করলেন। এবং তাও আবার ১টি নয় ২টি! তার প্রতিভার স্বীকৃতি-স্বরূপ ফিনল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব হেলসিংকি মাস্টার্স শেষ করার আগেই তাকে পিএইচডি করার আমন্ত্রণ জানায়। অথচ নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি কখনো প্রয়োজনীয় উৎসাহ সহযোগিতা পাননি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র এই বিজ্ঞানী তার শৈশব, কৈশোর, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বাংলাট্রিবিউনের সাথে। বাংলা ট্রিবিউন তারুণ্য পাতার পক্ষে মো. সাজিদ আলী হাওলাদারের  স্কাইপে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন লিপটন কুমার দেব দাস

বাংলা ট্রিবিউন: অভিনন্দন, নতুন আরেকটি প্রজাতি আবিষ্কার করার জন্য। নতুন এই প্রজাতির ব্যাঙ সম্পর্কে কিছু বলুন।
সাজিদ হাওলাদার: ধন্যবাদ আপনাকে। ব্যাঙটির অস্বাভাবিক প্রজনন অভ্যাসের বৈশিষ্ট্যের কারণে এই ব্যাঙটি অন্য প্রজাতি থেকে আলাদা। অধিকাংশ ব্যাঙ বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে যৌনমিলনে মিলিত হয়, কিন্তু Euphlyctis kalasgramensis নামের এই ব্যাঙটি সারা বছরই মিলিত হয়। ১৭৯৯ সালে জার্মান গবেষক J. G. Schneider  এই ব্যাঙটিরই নামকরণ করেছিলেন  Euphlyctis cyanophlycti । তিনি ভারতের দক্ষিণ অঞ্চলের একটি ব্যাঙ নিয়ে কাজ করেছিলেন। কিন্তু আমি আমার গবেষণায় বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাওয়া ব্যাঙটিকে নতুন প্রজাতির প্রমাণ করতে সমর্থ হয়েছি। বাংলাদেশের এই ব্যাঙটি পূর্বে Euphlyctis cyanophlycti নামে পরিচিত ছিল। এখন এটির নাম হল Euphlyctis kalasgramensis। বাংলাদেশে এই ব্যাঙটি খুবই সহজপ্রাপ্য। কিন্তু এত সহজপ্রাপ্যতার জন্যই ব্যাঙটি সবার অগোচরে ছিল। এই ব্যাঙটি বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই পাওয়া যায়। যে কোন সময়, যে কোন ঋতুতে। পিটু মাসউদ ভাইয়ের বরিশালের কলসগ্রামের নামে এই ব্যাঙটির প্রজাতির নামকরণ করেছি।
বাংলা ট্রিবিউন: কলস গ্রামের নামে কেন নতুন এই প্রজাতির নামকরণ করলেন?
সাজিদ হাওলাদার: আমি পিটু মাসউদ ভাইয়ের সাথে কলস গ্রামে ঘুরতে গিয়েছিলাম। তো, ওই গ্রামের একজন চায়ের দোকানদার আমাকে খুব আপ্যায়ন করে। নতুন ব্যাঙ আবিষ্কার করতে পারলে তাদের গ্রামের নামে করার অনুরোধ করে। তার কথার ওপর শ্রদ্ধা রেখেই কলস গ্রামের নামে ব্যাঙটির নামকরণ করেছি।

'পাবলিক লাইব্রেরি অব সায়েন্স'-এর জার্নালে প্রকাশিত ব্যাঙের ছবি।

বাংলা ট্রিবিউন: এবার শৈশব প্রসঙ্গ। বড় বিজ্ঞানীর ছোটবেলাটা কেমন ছিল?
সাজিদ হাওলাদার: শিশুকাল তো শিশুদের মতোই কেটেছে। তবে পড়াশুনার চেয়ে দুষ্টুমি করতেই বেশি ভালো লাগত। ছোটবেলায় অনেক বৈদ্যুতিক জিনিসপত্র নষ্ট করেছি। নিজের ইচ্ছামতো কিছু না করতে পারলে ভাংচুরও করতাম প্রচুর। পড়াশুনায় তো মনই বসতে চাইত না। আর মুখস্থ করার কথা মনে হলেই ভয় পেতাম খুব।

আমি পিটু মাসউদ ভাইয়ের সাথে কলস গ্রামে ঘুরতে গিয়েছিলাম। তো, ওই গ্রামের একজন চায়ের দোকানদার আমাকে খুব আপ্যায়ন করে। নতুন ব্যাঙ আবিষ্কার করতে পারলে তাদের গ্রামের নামে করার অনুরোধ করে। তার কথার ওপর শ্রদ্ধা রেখেই কলস গ্রামের নামে ব্যাঙটির নামকরণ করেছি


বাংলা ট্রিবিউন: ছোটবেলার কোন্ মজার ঘটনা, যা আপনাকে আজও নাড়া দেয়।
সাজিদ হাওলাদার: আমি টিকটিকি আর তেলাপোকা ধরে রাখতাম। আমার পোষা অনেকগুলো পিঁপড়াও ছিল।
বাংলা ট্রিবিউন: আপনার পরিবার সম্পর্কে জানতে চাই।
সাজিদ হাওলাদার: আমার গ্রামের বাড়ি বরিশালে। কিন্তু আমার জন্ম ঢাকাতেই। আমরা দুই ভাই এক বোন। আমি সবার ছোট। বাবা চাকরিজীবী আর মা গৃহিণী।
বাংলা ট্রিবিউন: স্কুল-কলেজ জীবন কেমন কেটেছে?
সাজিদ হাওলাদার: খুব যে ভালো কেটেছে তা বলা যাবে না। আমি তো মুখস্ত করতে পারতাম না। ফলে রেজাল্টও খুব বেশি ভালো করতে পারি নাই। মায়ের বকাও খেয়েছি অনেক। স্কুল কলেজ ঢাকাতেই কেটেছে। ঢাকা নৌবাহিনী কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করি, কিন্তু ফলাফল খুব একটা ভালো ছিল না।
বাংলা ট্রিবিউন: বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে কী বিষয়ে পড়ার ইচ্ছা ছিল?
সাজিদ হাওলাদার: প্রায়োগিক পদার্থবিদ্যা আমার পছন্দের ছিল। কিন্তু সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ভর্তি হই।

ক্যাম্পাস জীবনের কোনও কাজেই বিজ্ঞান অনুষদের ছাত্রদের তেমন কোনও সহযোগিতা পাইনি। বিজ্ঞান অনুষদের প্রতিটা শিক্ষার্থী জীবনের অংকে খুবই পাকা! নিজের খুব ব্যক্তিগত লাভ ছাড়া, সার্টিফিকেট ছাড়া, আর ডিগ্রি ছাড়া কোনও কাজেই তারা যায় না। প্রাণিবিদ্যার প্রতিটা শিক্ষার্থী সারাদিন ভালো সাবজেক্টে না পড়ার আফসোসে ভোগে। জীববিজ্ঞানের অন্য ছাত্রদের মতো প্রকৃতিকে নিজের সম্পদ মনে করে না। এখানে তারা ছাড়া প্রকৃতি নিয়ে কেউ জানে না, বা জানার অধিকার নেই। দুর্ভাগ্য আমার— কখনো কোনও কাজে আমি প্রাণিবিদ্যার কোনও ছাত্রের সহযোগিতা পাইনি। জীববিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীদের কোনও সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা যদি করতে  পারি, তবেই কেবল তারা সদলবলে হাজির হবে— এটা নিশ্চিত


বাংলা ট্রিবিউন: বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কেমন ছিল?
সাজিদ হাওলাদার: চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে আমার কোনও উদ্যোগই আলোর মুখ দেখেনি। প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত কখনো দেশি ফলজ গাছ লাগিয়েছি, আবার কখনো পাখির অভয়ারণ্য বা নিরাপদ পাখি প্রজনন কেন্দ্র তৈরির চেষ্টা করেছি। প্রতিটা ডিপার্টমেন্টে একা একা ঘুরে এর পক্ষে জনমত সংগ্রহ করতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অসহযোগিতায় আমার সব পরিকল্পনা ভণ্ডুল হয়েছে।
ছাত্রদের বুঝিয়ে দেশি গাছ লাগানো শুরু করেছিলাম ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গাতে। গরু-ছাগল যেসব গাছের ক্ষতি করে না, প্রথমে এমন কিছু গাছ রাস্তারপাশে নিজেদের খরচে লাগালাম। শেষমেশ দেখা গেল গরু-ছাগলের অসমাপ্ত কাজটাই ক্যাম্পাসের ভালো ছাত্ররা করা শুরু করল। সব গাছ ভেঙে শেষ! মন খারাপ না করে আবার লেগে পড়লাম নার্সারি বানানোর কাজে। জায়গার অনুমতি পেলাম! এক পর্যায়ে একে একে সবাই আমার দল ছেড়ে চলে গেল। ক্যাম্পাসে গণ্ডগোল শুরু হলে সব ভেস্তে গেল।

একই প্রকৃতির অংশ হিসেবে সরীসৃপ প্রাণিটির সাথে গোপন কোনও ভাব বিনিময় করছেন কি বিজ্ঞানী সাজিদ! আলোকচিত্র: সংগ্রহ

বাংলা ট্রিবিউন: নিজের বিভাগ থেকে কেমন উৎসাহ পেয়েছেন?
সাজিদ হাওলাদার: ক্যাম্পাস জীবনের কোনও কাজেই বিজ্ঞান অনুষদের ছাত্রদের তেমন কোনও সহযোগিতা পাইনি। বিজ্ঞান অনুষদের প্রতিটা শিক্ষার্থী জীবনের অংকে খুবই পাকা! নিজের খুব ব্যক্তিগত লাভ ছাড়া, সার্টিফিকেট ছাড়া, আর ডিগ্রি ছাড়া কোনও কাজেই তারা যায় না। প্রাণিবিদ্যার প্রতিটা শিক্ষার্থী সারাদিন ভালো সাবজেক্টে না পড়ার আফসোসে ভোগে। জীববিজ্ঞানের অন্য ছাত্রদের মতো প্রকৃতিকে নিজের সম্পদ মনে করে না। এখানে তারা ছাড়া প্রকৃতি নিয়ে কেউ জানে না, বা জানার অধিকার নেই। দুর্ভাগ্য আমার— কখনো কোনও কাজে আমি প্রাণিবিদ্যার কোনও ছাত্রের সহযোগিতা পাইনি। জীববিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীদের কোনও সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা যদি করতে  পারি, তবেই কেবল তারা সদলবলে হাজির হবে— এটা নিশ্চিত!

চবিতে অনেক দুষ্প্রাপ্য ব্যাঙ আছে, যেগুলো প্রচুর ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই ব্যাঙ নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য ২০০৯ সালে ব্যাঙমেলার আয়োজন করি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়ে এই মেলা বন্ধ করে দেয়


বাংলা ট্রিবিউন: বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বড় কোনও ধাক্কা?
সাজিদ হাওলাদার: বেশ কিছু ঘটনা আছে। তবে একটা ঘটনা সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে। চবিতে অনেক দুষ্প্রাপ্য ব্যাঙ আছে, যেগুলো প্রচুর ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই ব্যাঙ নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য ২০০৯ সালে ব্যাঙমেলার আয়োজন করি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়ে এই মেলা বন্ধ করে দেয়।
বাংলা ট্রিবিউন: এবার আপনার ১ম ব্যাঙ আবিষ্কার সম্পর্কে কিছু বলুন।
সাজিদ হাওলাদার: ২০০৭ সাল থেকেই চবিতে ব্যাঙ নিয়ে কাজ করতে শুরু করি। এরই মধ্যে ২০০৮ সালে একটা অন্যরকম ব্যাঙ পেয়ে যাই। ব্যাঙটি সম্পর্কে খোঁজ নেয়া শুরু করি। কিন্তু সারা বিশ্বে এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত ও তালিকাভুক্ত প্রায় ৭০০০ প্রজাতির ব্যাঙের মধ্যে এই ব্যাঙ খুঁজে পেলাম না। এরপর আরও নিশ্চিত হতে যুক্তরাষ্ট্র,  যুক্তরাজ্য, জার্মানি, পর্তুগাল, ইতালি, জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করি। তারপর এই ব্যাঙটি সম্পর্কে গবেষণা প্রবন্ধ লিখে প্রাণির শ্রেণিবিন্যাসের কাজে নিয়োজিত জার্নাল জুট্যাক্সায় পাঠাই। অবশেষে ২০১১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জুট্যাক্সা জার্নালের ২৭৬১ ভলিউমে আমার গবেষণা প্রকাশিত হয়।
বাংলা ট্রিবিউন: আপনার আবিষ্কৃত সেই ব্যাঙটি সম্পর্কে কিছু বলুন।
সাজিদ হাওলাদার: আমি ব্যাঙটির নামকরণ করেছি zakerava (Fejervarya) asmati sp। শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ড. গাজী সৈয়দ আজমতের নামে এই নামকরণ করেছি। তবে এই নামকরণের একটা বিশেষত্ব আছে। আমি বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও যুক্তিতর্ক দিয়ে নতুন 'গণ'(genus) Zakerava প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। আগে এটি ছিল Fejervarya। প্রজাতির তুলনায় 'গণ' পর্যায়ে সংস্কার করাটা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আরও বেশি কঠিন এবং উল্লেখযোগ্য ঘটনা। শ্রেণিকরণবিদ্যার ভাষায় এখন এটির নাম দাঁড়িয়েছে zakerava howlader 2011। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ইমেরিটাস জাকের হোসেনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এই গণের নামকরণ করেছি।  আমার এ কাজ যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম এবং IUCN লাল তালিকাসহ সারা বিশ্বে  সমাদৃত হয়েছে ।
বাংলা ট্রিবিউন: মাস্টার্স শেষ না করেই পিএইচডি করছেন কিভাবে?

গবেষণাকর্মে নিয়োজিত বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ বিজ্ঞানীটি। আলোকচিত্র: সংগ্রহ

সাজিদ হাওলাদার: আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির কিউরেটর ড. ড্যারেল ফ্রস্ট বিশ্বের সরীসৃপ প্রাণির শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষেত্রে আমাকে সর্বকনিষ্ঠ বিজ্ঞানী বলে স্বীকৃতি দেয়। এরপর ২০১১ সালেই ফ্রি ইউনিভার্সিটি অব ব্রাসেলস, বেলজিয়ামের জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক ফ্রাঙ্কি বসুইট আমাকে তার সাথে এমএস করার আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু একই বছরে ফিনল্যান্ডের হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়োহা মারিলা ব্যক্তিগত উদ্যোগে আমাকে বিশেষ বিবেচনায় সরাসরি পিএইচডি প্রোগ্রামে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানান। হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ে সেদেশের শিক্ষার্থীদেরও মাস্টার্স শেষ না করে পিএইচডি করতে দেয় না। আমি সেখানে বিবর্তনবিদ্যা নিয়ে পিএইচডি করছি।
বাংলা ট্রিবিউন: ফিনল্যান্ডে পিএইচডি করার সময়কার কোনও ঘটনা...
সাজিদ হাওলাদার: হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম হল, আপনাকে শুধু সেই দেশের স্থানীয় সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। কিন্তু আমি দেশ থেকে ১০০টি ব্যাঙ সঙ্গে নিয়ে এসেছি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা মেনেও নিয়েছেন। বাংলাদেশি এই সব ব্যাঙের ডিএনএ সিকুয়েন্সিং পদ্ধতিতে পর্যবেক্ষণ করে এখন পর্যন্ত আরও ছয়টি নতুন প্রজাতির ব্যাঙের সন্ধান পেয়েছি। এরই মধ্যে আমার পিএইচডি থিসিসের কাজ শেষ করেছি।

আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির কিউরেটর ড. ড্যারেল ফ্রস্ট বিশ্বের সরীসৃপ প্রাণির শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষেত্রে আমাকে সর্বকনিষ্ঠ বিজ্ঞানী বলে স্বীকৃতি দেয়। এরপর ২০১১ সালেই ফ্রি ইউনিভার্সিটি অব ব্রাসেলস, বেলজিয়ামের জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক ফ্রাঙ্কি বসুইট আমাকে তার সাথে এমএস করার আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু একই বছরে ফিনল্যান্ডের হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়োহা মারিলা ব্যক্তিগত উদ্যোগে আমাকে বিশেষ বিবেচনায় সরাসরি পিএইচডি প্রোগ্রামে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানান। হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ে সেদেশের শিক্ষার্থীদেরও মাস্টার্স শেষ না করে পিএইচডি করতে দেয় না। আমি সেখানে বিবর্তনবিদ্যা নিয়ে পিএইচডি করছি


বাংলা ট্রিবিউন: বিশেষ কোনও পুরষ্কার?
সাজিদ হাওলাদার: নতুন এই ছয় প্রজাতির ব্যাঙ শনাক্তকরণের স্বীকৃতিস্বরূপ চটগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট পুরষ্কার পেয়েছি, ‘হেলসিংকি কালচারাল ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড-২০১৩’ পেয়েছি।  অ্যাওয়ার্ডটি জৈব প্রযুক্তি গবেষণায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য বছরে একবার এবং একজনকেই দেয়া হয়।
বাংলা ট্রিবিউন: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সাজিদ হাওলাদার: সুযোগ পেলে দেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা আছে । কাউকে ধরে নয়, বরং আমার যোগ্যতার বিচারে যদি আমাকে সুযোগ দেয়া হয় তবে অবশ্যই দেশে যেতে চাই। আমি আমার দেশের জন্য সব মেধা নিংড়ে দিতে প্রস্তুত— যদি আমাকে প্রাপ্য সম্মান দেয়া হয়। আমি বাংলাদেশে একটি প্রাকৃতিক ইতিহাস যাদুঘর বানাতে চাই। যেখানে প্রাণিবৈচিত্র্যের নমুনা সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গণসচেতনতা সৃষ্টি, নতুন প্রজাতির প্রাণি ও উদ্ভিদের সন্ধানে মৌলিক গবেষণা হবে। আমাদের দেশের জীববৈচিত্র্য গোটা ইউরোপের প্রায় ৫ গুণ বেশি। একবার ভাবুন, আমাদের সম্ভাবনা কত!
বাংলা ট্রিবিউন: তরুণদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন
সাজিদ হাওলাদার: দেশে ছাত্র থাকাকালে পরীক্ষাগারে আমাকে কখনো নিজ হাতে কাজ করতে দেয়া হত না। কারণ অন্য শিক্ষার্থীদের চেয়ে আমার হাত একটু বেশি কাঁপত।... তরুণদের উদ্দেশ্যে শুধু এইটুকুই বলব কাজকে ভালোবেসে, গভীর মনোযোগ নিয়ে এগোলে সাফল্য আসবেই।
বাংলা ট্রিবিউন: আপনাকে ধন্যবাদ
সাজিদ হাওলাদার: বাংলা ট্রিবিউনকেও ধন্যবাদ


/এমবিআর/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।