সকাল ১১:৪৪ ; রবিবার ;  ২১ অক্টোবর, ২০১৮  

পরিবহন সঙ্কটে খুলনায় ৪০ হাজার টন সার

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

খুলনা প্রতিনিধি॥

টানা অবরোধ আর হরতালের কারণে খুলনা অঞ্চলে আটকা পড়েছে প্রায় ৪০ হাজার টন টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি সার।

এসব সার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকের হাতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। কিন্তু পরিবহন চলাচলে সঙ্কটের কারণে সার স্থানান্তর বিঘ্নিত হচ্ছে। এ অবস্থায় ঘাট এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার টন সার খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে। এতে সারের গুণগত মান কমে যাচ্ছে।

জানা গেছে, খুলনার খালিশপুর, শিরোমনি ও নওয়াপাড়া এলাকায় আমদানি করা সার ফসলের মৌসুমগুলোতে খুলনার বিভিন্ন উপজেলাসহ যশোর, বাগেরহাট, ফরিদপুরসহ দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের প্রায় ৪২টি এলাকায় চাহিদানুযায়ী সরবরাহ করা হয়। কিন্তু টানা ২৫ দিনের অবরোধ ও সময়ে সময়ে ডাকা হরতালে সার সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

বর্তমানে মহানগরীর ৭ নম্বর ঘাট এলাকায় সরকারি গুদাম ও খোলা আকাশের নিচে ১৫ হাজার টনেরও বেশি সার মজুদ রয়েছে। অ‌‌‌ার শিরোমনি ও নওয়াপাড়া গুদামে ও খোলা আকাশের নিচে ডাম্পিং করা রয়েছে হাজার হাজার টন সার।

কৃষিবিদ আব্দুর রহমান বলেন, 'জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত কৃষকরা জমিতে ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি এবং ডিএপি সার প্রয়োগ করে। এ তিন মাস এসব সারের চাহিদা থাকে। হরতাল-অবরোধ অব্যাহত থাকলে সময়মত সার কৃষকদের কাছে পৌঁছাতে না পারলে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।'

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন খুলনার যুগ্মপরিচালক কৃষিবিদ মুসতাক আহমেদ বলেন, 'বিএডিসির গুদামে ১ হাজার ৩৩৬ টন সার মজুদ রয়েছে। এছাড়া প্রায় ১৪ হাজার টন সার মংলা থেকে শিপিং এজেন্টের মাধ্যমে আসছে।'

৭ নম্বর ঘাট এলাকায় কর্মরত শ্রমিক লিটন শেখ বলেন, 'গুদাম থেকে সার সরবরাহের জন্য দৈনিক ১৫/২০টি গাড়ি চলাচল করতো। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কাজ করে শ্রমিকরা ৪০০-৫০০ টাকা মজুরি পেত। কিন্তু অবরোধের কারণে সার সরবরাহ কমে গেছে। ফলে আয়ও কমে গেছে।'

খুলনা ৬ ও ৭নং জেটি হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, 'ইউনিয়নের প্রায় ১ হাজার ২০০ শ্রমিক রয়েছে। টানা অবরোধের কারণে শ্রমিকদের দুর্দিন চলছে। তবে জেটিতে সার ডাম্পিং কাজ থাকায় কিছু শ্রমিক কোনও রকমে জীবিকা নির্বাহ করছে।'

খুলনা ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক গাজী আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'রাজনৈতিক অস্থিরতায় যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করায় ভাড়া বেশি দিতে হচ্ছে।'

মংলা বন্দর ডিস্ট্রিবিউটর দুলাল অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী এইচ এম দুলাল বলেন, 'পরিবহন সংকটে সার সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। মংলা বন্দর থেকে পণ্য খালাসে আর বোঝাইয়েও সমস্যা হচ্ছে।'

/এমডিপি/একে/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।