সকাল ১০:১৭ ; রবিবার ;  ২১ এপ্রিল, ২০১৯  

ময়মনসিংহ জেলার শীতার্তদের পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

শ্রীদেবী বিশ্বাস।।

শীতের তীব্রতায় যখন ঢাকার জনজীবন বিপর্যস্ত তখন ঢাকার বাইরের মানুষের অবস্থা আরো শোচনীয়। তীব্র শীতে এসব অঞ্চলের জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ব্যাঘাত ঘটছে। আর্থিকভাবে অস্বচ্ছলতার কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের নেই শীতকে মোকাবেলা করার মতো যথেষ্ট পরিমাণ গরম কাপড়-চোপড়। শীতের সাথে যুদ্ধ করার অস্ত্র বলতে তাদের আছে ছেঁড়াফাটা জামা আর দুই তিন স্তর বিশিষ্ট ছেঁড়া কাঁথা। হতদরিদ্র লোকদের কারো কারো কম্বল যদি থাকেও তবে তার ছিদ্র দিয়ে কুয়াশা এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে অবাধে চলাফেরা করতে পারে।

মানবতার তাগিদে প্রতিবারের ন্যায় এ বছরও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায়, দুঃস্থ মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, বিভাগ, অনুষদের ছাত্রছাত্রীরা প্রতি বছর শীতেই গরিব অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। অন্যান্য বিভাগের মতো এস ট্যুরিজ্‌ম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “Tour De Force” এর তত্ত্বাবধানে গত ২২ জানুয়ারি শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। “Tour De Force” এর তত্ত্বাবধানে এটি ৪র্থ শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচী। শীতবস্ত্র বিতরণের স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয় ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউরা ইউনিয়নকে। ধোবাউরা ইউনিয়নের সব গ্রামের মানুষের মধ্যে ১১৫০টি কম্বল বিতরণ করা হয়।

ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে ২১ জানুয়ারি ধোবাউরা ইউনিয়নে পৌঁছে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৪৪ জন ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক। ১২টি দলে ভাগ হয়ে তারা মাইলের পর মাইল ঘুরে ধোবাউরা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কম্বলের টোকেন বিলি করে। এসময় তারা কম্বলের টোকেন বিলি করা ছাড়াও গ্রামের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার খোঁজ খবর নেয়। পাশাপাশি তারা গ্রামের মানুষদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সচেতনমূলক কথাবলে। টোকেন নিয়ে পরেরদিন ২২ জানুয়ারি সকাল ১০ টায় “ধোবাউরা আদর্শ ডিগ্রী কলেজ” প্রাঙ্গণে হাজির হয় গ্রামের মানুষেরা। এ কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কামরুল হাসান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব আনিসুজ্জামান খান, ধোবাউড়া আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মোতালেব তালুকদার, ধোবাউড়া থানার অফিসার ইন চার্জ জনাব এম. এ. হক, ধোবাউড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব নূর. এ. আলম, ধোবাউড়া ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল মোতালেব আখন্দ, ধোবাউড়া ডিগ্রি কলেজের প্রাধাক্ষ পল্লব কুমার সেন গুপ্ত। ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, ‘এটা নিঃসন্দেহে একটি শুভ উদ্যোগ। আমি এই উদ্যোগের সাধুবাদ জানাই। দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য এখনকার তরুণ সমাজকেই এগিয়ে আসতে হবে। ভবিষ্যতে কম্বল বিতরণ ছাড়াও অন্যান্য সেবামূলক কাজে অবদান রাখতে হবে।’ এসময় তিনি উপস্থিত গ্রামের দুঃস্থ মানুষদের শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হওয়ার উপদেশ দেন।

উল্লেখ্য, এসব হত দরিদ্র্য মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য গত কয়েকদিন ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা। শপিং মল, রাস্তাঘাট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঘুরে ঘুরে আর্থিক সহযোগিতা করেছে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। ‘শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচী-২০১৫’ Tour de Force এর একটি অন্যতম সমাজ-সেবামূলক কাজ যা ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মুজিবউদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব যে শুধু মাত্র পড়ালেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, দেশের সংকটময় মূহূর্তগুলোয় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়াও যে তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে তা আবারও প্রমাণিত হলো।”

এম,বি,এ, অধ্যয়নরত ছাত্র সংগঠন Tour de Force ক্লাবের সভাপতি মো. রকিব আল হাসান এ উদ্যোগ সম্পর্কে বলেন, “তরুণদের সদিচ্ছাই পারে সমাজের অন্ধকার দিকগুলোতে আলো পৌঁছে দিতে, মানবতার ডাকে সারা দিয়ে আমরা সকলে এগিয়ে আসলে আমাদের প্রিয় দেশটির অবস্থার পরিবর্তন অবশ্যই সম্ভব।”

/এমবিআর/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।