রাত ১০:৫২ ; রবিবার ;  ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯  

প্রসঙ্গ তপন রায়চৌধুরী : মহাশয় পুরাণ || মিহির সেনগুপ্ত || পর্ব : দুই

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

তিন.
ভীমরতি প্রান্তর পরচরিত চর্চা নামক রচনাটি পাঠ করে মহাশয়ের প্রতি মদীয় কামারাদারী বোধ করার সম্যক এবং সঙ্গত কারণ ছিল। আগের অধ্যায়েই স্বীকার করে নিয়েছি- অধম নিতান্ত ‘অনপচ্’ তথা ‘বোগ্দা’ প্রকৃতির মানুষ। সারস্বত চর্চার যোজন কোশ পরিধির মধ্যে তার আনাগোনা নেই। সেই হেন আমার তপন রায়চৌধুরী তুল্য একজন বিদগ্ধ শিক্ষাবিদের প্রতি কামারাদারী বোধ করার হ্যাংলাপনা দেখলে আমার জন্মজিলা বরিশালের গ্রাম্য মানুষেরা যে শাস্ত্রটি আওড়াই সেটি হচ্ছে, ‘জালের ভাই কেরাণিগিরি খাডে, হেই অহংকারে মাগী চিত্তার অইয়া হাডে।’ তপন বাবুর প্রদর্শিত পথে এর পশ্চিম বঙ্গানুবাদে অস্যার্থ- ‘জায়ের ভাই কেরাণিগিরি খাটে, সেই অহংকারবশত অমুক মহিলা চিৎ হয়ে হাঁটেন।’ চিৎ হয়ে হাঁটাটা অমুক মহিলার গৌরব অথবা অহংকারের প্রদর্শনী। না, এই অধমের তপন বাবুর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার গৌরব বা অহংকার থাকলেও, তার প্রকাশে ‘চিত্তার অইয়া হাডার’ মত সাহস বা অদেখলাপনা কোনওটাই নেই।
তাহলে তার কামারাদারী কিসের? সেটি সংক্ষেপে তথা ‘ইনডাইরেক্টলি’ জানাই। মহাশয় যেথাকার ভূমিজাত, অধমও সেই ভূমিতেই শৈশব কৈশোরে ‘হোগা ঘষেছে।’ অর্থাৎ হামাগুড়ি দিয়েছে। আবার এই জাত-পাত অধ্যুষিত দেশ ও সমাজে মহাশয়ের যে জাত্যংশে জন্ম, আম্মো সেই জাত্যংশের অংশী। অর্থাৎ বৈদ্য। তাঁর পূর্বজরাও মূলত ‘শতমারী ভবেৎ বৈদ্য, সহস্রমারী চিকিৎসক’ এবং তৎপরে সুযোগমত এর তার মাথায় ডাণ্ডা মেরে সামন্ত পরম্পরায় অনুপ্রবেশকারী। মদীয় প্রাক্-পুরুষেরাও তদ্রুপই। পাঠক, বিশ্বাস না হলে, উনিশ শতকীয় ইতিহাস চর্চাকার মহাত্মা এইচ বেভরিজ সাহেবের ডিস্ট্রিক্ট অব বাকেরগঞ্জ- ইটস্ হিস্টরি অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিকস পশ্য। তপন বাবুর বড়ঠাকুরদা মশাইয়ের বাকলা নামক ইতিহাস গ্রন্থটিতেও যদিও বিষয়টি আছে, তবে তাতে কিংবদন্তির ঘোমটা রাখাটা যুগধর্মবশত আবশ্যক হয়েছে।
রচনাটি প্রথম প্রকাশের আলোক দর্শনের সঙ্গে সঙ্গে যেহেতু নজর কেড়েছিল, সেটি নিয়ে সোজা পৌঁছে গিয়েছিলাম রচনায় উল্লেখিত তাঁর ‘নিজমৌজা কীর্তি পাশায়’। কীর্তি পাশার বাজারে তখনও দুচারজন ‘বড় হিস্যা’ জমিদার বাড়ির দাপটের আমল কিছু কিঞ্চিৎও দেখেছেন, এমন দু-চারজন, মহাশয়দের ‘খানাবাড়ির পেরজা’ আনা গোনা করার মত ছিলেন। তাঁদের মধ্যেই জনৈক হারান কর্মকারকে আরও দুচারজনের সঙ্গে এক আসরে রচনাটি শুনিয়ে ছিলাম। হারান জেঠার আমাদের ওই অঞ্চলে সেকেলে গল্প বলিয়ে হিসেবে প্রসিদ্ধি ছিল। কিন্তু তিনি আবার একাধারে কঠোর সমালোচকও ছিলেন। কোনও ভুল বা অনবধানজনিত বেফাঁস কথা কেউ বললে, তিনি তৎক্ষণাৎ ক্যাঁক করে ধরে, সঠিক কথাটি জানিয়ে দিতেন। তপন বাবুর বিষয়েও তাই হল।
তপন বাবু রচিত আলেখ্যটি শুনে, হারান জেঠা একটু সস্নেহে হাস্য করে বলেছিলেন, ‘পোলাপান মানুষ, আর বি-দ্যাশ কুন্দ্যাশে বড় অইছে, অরা বেবাক কথা জানবে ক্যামনে? পেরথমেই তো গানডার হোগা মাইর‌্যা রাখছে। এসব কী ফাইজলামি? গানডার ছন্দ-বাইদ্য কই?’ জেঠার বাক্য শুনে সাতিশয় ব্যথিত হয়েছিলাম। তপন বাবু তখন আমাদের চোখে ‘হিরো দা সোশ্যাল হিস্টরিয়ান।’
কিন্তু হারান জেঠার সমালোচনাও যে সঙ্গত ছিল, তা সেবার ওই কীর্তিপাশা তথা আশপাশ মৌজার ছোটবড় অনেকের সঙ্গে আলাপ আড্ডায় জেনেছিলাম। পল্লীগ্রামের পরম্পরাগত সংস্কৃতির একটা বড় বৈশিষ্ট্য এই যে সেটা অনেকদিনব্যাপী চালু থাকে। তপন বাবুর বৃদ্ধ প্রপিতামহ যে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে বিষ প্রয়োগে নিহত হয়েছিলেন, সেই কাহিনীটির সত্য মিথ্যা উপজীব্য করে স্থানীয় এক গ্রাম্য-চারণ কবিয়াল একটি গাথাগীতি রচনা করেছিলেন। ১৯৯২ তে-ও সেই গীতিটির বাণী লুপ্ত হয়নি। এইসব বস্তু গ্রামীণ জীবনে সহজে বিস্মৃতির অতলে যায় না। আমি নিজেও সেটি একেবারে ভুলে যাইনি। সে কারণে তপন বাবুর লেখায় সেটি যখন উদ্ধৃত হল, তার মধ্যে কিছু ছন্দপতন কানে বাজছিল। পরে হারান জেঠা শুদ্ধ ধরতাইটা দিলেন। বললেন, ‘চান বাবুর (চাঁদ বাবুর) পোলায় যে ল্যাখছে- ‘হ্যার দেওয়ান ছিল কুলাঙ্গার মহলানবীশ (দ্বিতীয় সংস্করণে- ‘ষোড়শী মওলানবীশ’), সরবতে মিশাইয়া দিল হলাল বিষ, হালা হারামজাদা’ হা-আ-লা হারামজাদা আলা চাউল্যা বাওন। মাগ্গো চিরিয়া বাইর কর হ্যার ঘেরতো, চিনি, মাহোন।’ হেয়া পুরা ঠিকঠাক অয় নায়। তয় হোনো, শুদ্ধ কইর‌্যা হোনাই। বলে জেঠা উদ্ধৃতি দিলেন, সুর সহযোগে-
“হ্যার দেওয়ান ছিল কুলাঙ্গার
কিশোর মলানিস
মিস্ত্রিতে মিশাইয়া দিল
হলাহল বিষ।
হালা হারামজাদা
হাআলা হারামজাদা লক্ষীছাইর‌্যা আলাচাউল্যা বাওন
মাগ্গো চিরইয়া বাইর কর হ্যার ঘেরতো, চিনি, মাহোন।”
হারান জেঠা সুর সহযোগে গীতটি শোনালে বোঝা গেল, কিছু কার্য কারণবশত তপন বাবু গাথাটির সঠিক পাঠ দেননি। জেঠার ব্যাখ্যা এবং উদ্ধৃতি শুনে মনে হয়েছিল, তিনি সেই অজ্ঞাত স্থানীয় কবিয়ালের রচনার পাঠবিকৃতি মেনে নিতে নারাজ। তিনি আরও বলেছিলেন, ‘এইসব কথা যদি বিশ্বাস না অয়, পাশের গেরামের রায়বাড়ির তোমাগো খুড়ি এহনও জেতা (জীবিত), হেনারে যাইয়া জিগাও।’
মনে পড়ল, বাল্যে আমরা সেই খুড়িকে জিজ্ঞেস করতাম, ‘ও খুড়ি, হলাহল বিষটা কী?’ খুড়ি বলতেন, ‘হলাহল বিষ না। হলাহলা বিষ। ওয়া তোরা বুজবি না। ওয়া এক রহমের বিষ, যা খাইলে মানুষ এক্কারে মইর‌্যা যায় আর বাঁচে না।’
বিষয়টাও তাই। তপন বাবু সুবিদ্বান মানুষ বলেই চন্দ্রদ্বীপ কবির কাব্যের ইচ্ছেমত পাঠ, ছন্দ নির্মাণ করবেন, তত্রস্থ মানুষেরা কখনওই তা মানবেন না। তা তিনি ‘চান বাবুর পোলাই’ হউন আর যে-ই হউন। একথা সকলেই জানেন যে চন্দ্রদ্বৈপায়ন মনুষ্য ‘সরবত’ বলে কিছু খান না। তাঁরা মিশ্রি, চিনি, বেল, এটা ওটার ‘পানা’ খান। সেই দেবভাষ্য নিরুক্তিতে সরবত বলে কোনও বস্তু নেই। ‘পানা’ আছে। প্রসঙ্গত, তারা চব্য, চোষ্য, লেহ্য এবং পেয় এই চতুর্বিধ খাদ্যই খান। কোনও কিছুই পান করেন না। তাঁদের বিশ্বাস, জিনিসটা পানা বলেই পেয়-খাদ্য, সরবত তা কখনওই হতে পারে না।
হারান জেঠা আরও অনেক ভ্রান্তিরই উল্লেখ সেদিন করেছিলেন। তপন বাবুকে সাক্ষাৎমত সেইসব ভ্রান্তির কথা সবিস্তারে বলতে তিনি সাতিশয় প্রীত হয়ে আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমার কল্যাণে দেখছি লেখাটা একটা সাবল্টার্ন অ্যাকসেপটিবিলিটি পেয়ে যাচ্ছে। ভাবছি ‘সাবঅলটার্নিস্ট’দের ‘হাবিলদার ঐতিহাসিক’ বলাটা খুবই গুখোরি হয়েছে।’ আমি পরিচিত এবং প্রিয় কয়েকজন তদ্রুপ ইতিহাসকারের কথা মনে করে, তপন বাবুকে একটু চিমটি কাটতে ছাড়লাম না। বলেছিলাম, ‘গুখোরি তো হয়েছেই, আপনার বইখানা তো শেষ পর্যন্ত সাবঅলটার্ন টেক্সট হিসেবেই দাঁড়াল। নচেৎ হারান জেঠা আরও যেসব ক্রিটিক করেছেন, তা শুনলে আপনার মত অকপট ইতিহাসকারেরও চিত্তচমৎকারা হবে।’ তপন বাবু বলেছিলেন, ‘সুযোগমত সবটা শুনতে হবে।’ সেসব অনেক কথা, এই লেখায় যথা সময়ে আসতে পারে। এখন হারান জেঠার আসল আপত্তিটা যে বিষয়ে, অর্থাৎ সত্য গোপনের- তার প্রকাশ করার দায় বর্তাল। ভাবলাম, কিছু লিখব।
কিন্তু দায় বর্তালেই তো কিছু লেখা যায় না। বরং আগে মহাশয়কে একখানা সাধারণ চিঠি পাঠাই। চান্দ্রদ্বীপি ভাষায় বললে বলতে হয়, ‘একখান চিডি করি।’ চান্দ্রদ্বীপি মনুষ্যেরা চিঠি লেখে না। ‘চিডি করে।’ তো একখান চিডি করলাম। লিখলাম, ইহা ধরতাই মাত্র, আসল চিঠির বয়ান দীর্ঘ। পাঠাব কী? উত্তর এল, ‘অবশ্য।’ হাতের লেখায় ঊনসত্তর পৃষ্ঠার চিঠি। অক্সফোর্ড বা ‘উক্ষতারণে’ পাঠাতে খরচা হল, ডাক মাশুল বাবদ চুরাশি টাকা। কিন্তু তার কোনও লিখিত উত্তর পেলাম না। কালিদাস বলেছেন, ‘সকৃৎ ছতো প্রণয়ো অয়ং জনঃ। এই মানুষ একবার মাত্র প্রণয় করেই ভুলে যান। প্রথম চিঠির উত্তরে যেমন রোঁয়া ফুলে উঠেছিল, দ্বিতীয় চিঠির ব্যাপারে নিরুত্তর থাকার কারণে সব রোঁয়া ধোঁয়ায় মিলিয়ে গেল। মনে ত্রাস এবং সন্তেহ, চান্দ্রদ্বীপি চিন্তনে যা দাঁড়াল, ‘কামডা বোধহয় বলদার ল্যাহানই অইলে। কতো বড়ো একজন মানুষ, হেনারে কী এমন চিডি ল্যাহন যায়?’ আবার ভাবলাম, মহাশয় বোধ করি জাতধর্ম বেবাক ভুলে বসে আছেন। হবে না? ম্লেচ্ছের দেশের ষণ্ডতারণ না উক্ষতারণের কাজ করেন, খাদ্যাখাদ্যে হাঁস মোষ শুয়োর কিচ্ছুরই বিচার নেই। জাতধম্ম থাকবে কী করে? এইসব নানা বিচার মাথায় ভিড় করতে থাকল। চিঠিটাও গিয়েছে একটা পেল্লায় মার্কা। তদুপরি হাতের লেখার যা ছিরি! ছ্যা ছ্যা!! আবার শুনেছিলাম, পৃথিবীর একমাত্র ইংরেজ এবং নমিকে বাঙালি শ্রীযুক্ত নীরদসি চৌধুরী মশাই নাকি তাঁর প্রতিবেশি। অমন একখানা পড়শী থাকলে মানুষ বাপের নামতক্ ভুলে যায়, মাগকে ডাকে- ছোট মাসিমা বলে। বরিশালিয়া বদ্যির আত্মীয়তার ঢলানিপনা তো সেস্থলে অতিতুচ্ছ নস্ট্যালজিয়া। তা আবার একা রামে রক্ষে নেই, নীরদসি বাবু নাকি আবার একা নন। তাঁর মাগ, পুত্র এবং নন্দীভৃঙ্গীরাও নাকি আশু মুখুজ্যের মত খান খান এনসাইক্লোপিডিয়া নিয়ে যখন তখন তাড়া করেন। তাঁদের নাকি ‘জ্ঞান’ ছাড়া আর কোনও উপাস্য দেব নেই, মায় সবদেবের সেরা যে ‘শিশ্নদেব’, তিনিও নাকি তাঁদের সকালে ‘ভিস্তি ভাতে’। পেত্যয় না হয় বাঙালি জীবনে রমণী পশ্য। বাঙালির ম্যাকমেকি বা খাউজকারে কয়; সর্বোন্দ্রিয়-গোচরহরে। ‘ম্যাকমেকি’ অর্থে রমণেচ্ছাস তার টাদ্যাগাদি। বাঙালেরা গোঁয়ার হয়, বরিশালি বাঙালেরা গোঁয়ারতম। তাই মনে মনে মহাশয়ের জাতধম্ম, সঙ্গ-সাহচর্যের মুণ্ডুপাত করতে থাকলাম। দিন যায়, মাস যায়, চিঠির জবাব নেই। লোকে তো রেগে মেগেও দুকথা লেখে। এ তাও না। এর মধ্যে আরও দুএকখানা চিঠি ভয়ে, ভয়ে ছোট করে লিখেছিলাম। তারও জবাব নেই। অথচ বন্ধুবান্ধব তথা তাঁর ভক্তমহলে প্রচার, মহাশয় নাকি সাতিশয় রসিক, আড্ডাধারীদের জগতে মুণিঋষি-কল্প ব্যক্তি। ভাবলাম, সে হতে পারে, তবে সে সবই চন্দ্রদ্বীপবিদ্বেষী শত্রুজাতের ব্যাপার। সাহেবি রস। এ রসে বরিশালিয়ারা আর নেই। এ অনেক হয়েছে। আর না। সাহেব খেদানো কর্মে বরিশালি বাঙাল কুলীনস্য কুলীন। সে যুগের সাহেব শাসকেরা বরিশালে পোস্টেড হলে, সর্বাগ্রে প্রাক্তনী সাহেবেরা তাঁদের ‘হালার পো হালা’ কথাটির পাঠ শেখাতেন। মহাশয়ের সে কথা অজানা নয়। তথাপি তিনি কেন এমন আচরণে ডুবলেন, বোঝা গেল না। অবশ্য আমি তাঁর সঙ্গে সাহেবি পদ্ধতিতে আলাপিত হইনি। সে ক্ষেত্রে ইংরেজ সাহেবদের কায়দায় Since we are not introduced ইত্যাদি বাহানার কথা বলতেই পারেন। কিন্তু তাঁরা তো উপনিবেশ শাসনকালে, বিশেষত বরিশালে অবস্থান সময়ে ‘ও ব্যাডা কতা হোন্’ (ও ব্যাটা কথা শোন) ইত্যাকার মহতী আদর্শেও আলাপ ব্যাভাবে ব্যান্টাইজড হয়েছিলেন। কিন্তু যাক সে দুঃখের বিলাপ। এখন বরং ‘চিডি’ বিষয়ে পাঠকদের কিছু চান্দ্রদ্বীপি সরল পাঠ শিক্ষা দিই।
চিডি বিষয়টি নিয়ে গল্পকথা চান্দ্রদ্বীপি রসসিক্ত হলে ‘খাজুর’ রসের ‘পায়াসের’ মত মিষ্ট লাগে। অবশ্য তাতে কথঞ্চিৎ ঝাঁঝ থাকে, কিন্তু স্বাদে হানি ঘটে না। বোধ হয় মহাশয়ের সেই রস-স্মৃতি দুর্বল। যা হোক, প্রসঙ্গক্রমে সেটি নিয়ে একটু নাড়াঘাটা করা যাক। তবে সেজন্য একটি ভিন্ন পরিচ্ছেদে যেতে হবে।

চার.
তৎকালীন বরিশালিয়া গ্রামে চিঠি লিখিয়ে এমন কিছু আকছার মিলত না। প্রায় পেশাদার পত্র লেখকেরা এমত অবস্থায় সেখানে অগতির গতি মুশকিল আসান। গাঁয়ের প্রোষিতভর্তৃকাদের চিডি করা এইসব পেশাদারদের সবিশেষ আহ্লাদের কাজ ছিল। অন্যদের ‘চিডি’ করার ব্যাপারে যদিবা তাঁরা ‘আজ না কাল’ বাহানা করতেন, এইসব মহিলাদের ক্ষেত্রে কোনও বাহানা তো থাকতই না পরন্তু ‘আবার কবে ল্যাখথে হইবে, কয়েন’ এমত উল্টো তাগিদ দিতেন। কারণটি ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না। আবার এতসব কাণ্ডের পর যদি সেইসব চিঠির উত্তর না মিলত তবে যেসব ‘খামার’ (খিস্তি বা গালাগালের চান্দ্রদ্বীপি) নেপথ্যে বর্ষিত হত, তার তরিকার জবাব নেই। কিন্তু খামার বিষয়ক ভাষ্য সুযোগমত প্রদানের অপেক্ষায় রেখে, চিঠি লেখানোর একটি সরেস বৃত্তান্ত বলি। সে এক গল্প বিশেষ। একদা এই অধম সেই পাণ্ডব বর্জিত গ্রামে ‘চিডি-ল্যাহনদার’ ছিল। ছুডি ধোপানি নামে তার ধাইমা একদা এসে তাকে শুধোন, ‘তুই কী চিডি করা জানো?’ বলি- ‘হ্যাঁ’। 

: মোরে একখান চিডি করইয়া দেওন লাগবে। এই নে পোস্টোকাড। ঠিকানাডা আগে ল্যাখ।
: বল।
: ল্যাখ্ মোর বাড়ির জোনের নাম ল্যাখছ?
: হ্যাঁ।
: এবার ল্যাখ জেলা বইশ্যাল।
: সবই লিখেছি। এবার বল চিঠির কথা কী? কী লিখব?
ধোপানি তখন তাজ্জব! বলে কী? এতক্ষুণ যা কইছি ফডারও ল্যাখছ, হেয়া ঠিক আছে। এ্যাত্তোবড়ো এ্যাট্টা জেলা বইশ্যাল, হেডাও তুই লেইখ্যা ফালাইলি এইডুক সোমায়ের মইদ্যে? তুই কত্তোবড়ো ল্যাহাইয়া অইছ অ্যাঁ? মুইতো তোরে এই সিদিন প্যাড়ের থিহা টান্ইয়া বাইর করছি।’ -হরি হরি! ল্যাঙ্গুয়েজ, ল্যাঙ্গুয়েজ! সাবঅলটার্ন জগতে বহিরাগতরা বড় অসহায়। পাঠিকা/ পাঠক, ক্ষমা মহতের ধর্ম- একথা মনীষীরা কয়েছেন ঠিকই, তবে সদা সর্বদা সে পথে চলতে পারেননি। আপনারা মনীষীদের চাইতে অনেক উচ্চস্থানের, আপনারা অবশ্য পারবেন, এই প্রত্যাশা।
বুঝতে পারছি, আপনারা এক ধাক্কায় এতটা সামাল দিতে হয়ত অসুবিধে বোধ করছেন, তথাপি কহি, একটু নিবিষ্ট হয়ে পাঠ-প্রচেষ্টা চালান, শীলিত, প্রমিত বা মানভাষা নির্গলিত মদন-রস-সিক্ত শারদ সংখ্যা সমূহের কথাসাহিত্যের প্রতিরোধ হিসেবে তা খারাপ লাগবে না। আবার এতে একটা অষ্টাদশ শতকীয় প্রাগাধুনিক সোয়াদও পাবেন।
কিন্তু কথা প্রতিবাদ প্রতিরোধ নিয়ে নয়, কথা হল, সেই চিডি-কার স্বয়ংই যদি কারুর কাছে ‘চিডি’ করে তার জবাব না পায়, তবে সেই পরিতাপ সে রাখে কোথায়? কিন্তু মহাশয় তথাপি নিরুত্তর। সেই যে প্রথম ক্ষুদ্র পত্রটির উত্তরে, কয়েকটি পিঁপড়ে কালিতে চুবিয়ে একখানা এ্যারোগ্রামে কিছু বিমূর্ত শিল্প প্রয়াস করেছিলেন, তারপর আর ‘পাশ ফিরইয়া শোওন নাই। প্রায় ছয়মাস এক কাইত।’ তবে সেই পত্রে একটি আশ্বাস বাণী ছিল, ‘জুন মাসে কলকাতা যাব। তখন দেখা হতে পারে।’ কথাটায় গুরুত্ব দিইনি। কারণ, যে ব্যক্তি চন্দ্রদ্বীপে জন্মেও, সেই মহান সংস্কৃতি অনুসরণ করেন না, তাঁর ওরকম ‘পিছলা’ কথার মূল্য কী? কিন্তু পরে বুঝলাম, চান্দ্রদ্বীপি সংস্কৃতিতে আমিই অন্ত্যজ, তিনি উচ্চবর্ণ। কারণ, তাঁর খুবই শিশু বয়সে জন্মাবার ভাগ্য হয়েছিল।
১৯৯৩ এর এক নিদাঘতন্ত্র জুনের মধ্যাহ্নে, মদীয় কর্মক্ষেত্রে মহাশয়ের আগমন এবং ঘোষণ,-‘আমার নাম তপন রায়চৌধুরী।’ আমার চেয়ারের চারখানা পা, এই ঘোষণা-রবে চারদিকে ছুট লাগিয়ে ছিল। চান্দ্রদ্বীপি রসিকতা-সংস্কৃতির এও বোধ হয় এক প্রগাঢ় নমুনা। অথবা বলা যায় সেই সংস্কৃতিতে তিনি মহামহোপাধ্যায়-জনোচিত স্তরে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
বুঝলাম, চান্দ্রদ্বীপিয় রস, ষণ্ডতারণ (উক্ষতারণ) রসে মিশে এক অনুপম ককটেল হয়েছে, যেমন (সম্ভবত) চোলাই আর ‘ভারমুখে’ মিশে হতে পারে। পরখ করে অবশ্য দেখা হয়নি।
বর্ষামেঘের প্রথম সমাগমের বর্ণনায় কালিদাস লিখেছেন, ‘সমাগতো-রাজদুন্নতর্ধনিঃ’ এবং রবীন্দ্রনাথ তারই অনুরণনে বা প্রচ্ছায়ায় বোধ করি গেয়েছিলেন, ‘এই আসে ওই অতি ভৈরব হরষে- ইত্যাদি, মহাশয়ের কণ্ঠও ঠিক তদ্রুপ ছন্দ ও ধ্বনিতে আমার শ্রবণে বেজেছিল। আমি ইতিপূর্বে মহাশয়ের পূর্বজদের ক্ষত্রিয়-চরিত্রচর্যা তথা কৃত্যাদি বিষয়ে কিঞ্চিৎ অভিজ্ঞ ছিলাম। তার আভাসও কিছুটা ইতিপূর্বে দিয়েছি। শুধু তাঁকেই জানতাম না। এখন জানলাম, অথবা বলা ভাল, ওই মার্তণ্ড-প্রদাহে আমাহেন দগ্ধমান তৃণ যেন রব শুনল, যে রব বৃহদকল্পে কালিদাস রবীন্দ্রনাথের কর্ণে সমাগতোরাজবদুন্নতর্ধনিরিব বেজেছিল। এক্ষেত্রে মাত্রার তারতম্য সমাজ ইতিহাসের চর্চাকারীরা ভাল বুঝবেন। সব মানুষের মাপ সমান নয়। আমার বিগত জীবনে সেই মাপটির যে ধারণা অবচেতনে নির্মিত ছিল তা অবশ্যই আঞ্চলিক, কিন্তু ব্যাপ্তিতে সামান্য নয়। কেন নয়, সে কথাটি এবার জানাব।
আগেও বলা হয়েছে মহাশয়ের বটঠাকুরদা মশাই এক অসামান্য প্রাজ্ঞ-পুরুষ ছিলেন। আমার প্রগুক্ত শিক্ষক অশ্বিনী দাসগুপ্ত মশাইয়ের কাছে শুনেছি, রোহিনী বাবু নানান গুণের আকর বিশেষ ছিলেন। তাঁর ইতিহাস সন্ধিৎসা সে যুগের তুলনায় যে সামান্য ব্যাপার ছিল না, তাঁর ইতিহাস বিষয়ক ‘বাকলা’ নামক গ্রন্থটি পাঠ করলে ইতা বোঝা যায়। যদিও বাকলা গ্রন্থটি তিনি মূলত বেভারিজ সাহেবের প্রাগুক্ত গ্রন্থখানিকে বীজগ্রন্থ ধরেই নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু সেটি নির্মাণে সংস্কৃত, ইংরেজি এবং বাংলা তথা ফারসি প্রভৃতি ব্যাপক আকরগ্রন্থেরও অধ্যয়ন করেছিলেন। বাকলায় ব্যবহৃত সমস্ত ফটোগ্রাফগুলি তিনি স্বয়ং তুলেছিলেন। এই সব ফটোগুলি দেখলে বোঝা যায় যে তিনি ফটোগ্রাফি বিষয়ে কতটা দক্ষ ছিলেন।
বাকলা বইটির বিষয়ে ‘রোমন্থনে’ তপন বাবু লিখেছেন, “বইটি প্রধানত জমিদার বংশগুলির ইতিহাস। সেও লুপ্ত প্রায়। দেশভাগ হওয়ার ঠিক আগে কোনও সাধারণ গ্রন্থাগার থেকে এক কপি ‘না’ বলিয়া গ্রহণ করেছিলাম। ফলে বইখানা বেঁচে গেছে।” এখানে একটি সংযোজন যোগ্য খবর দেওয়া যাচ্ছে। বইখানা প্রকাশ হবার পর বরিশাল শহর এবং গ্রামের জমিদার, তালুকদার, নামধারী তথা অন্যান্য বর্ধিষ্ণু পরিবারে তা সৌজন্য সংখ্যা হিসেবে বিতরণ করা হয়েছিল। আমার পিতৃদেবের কাছে শুনেছিলাম আমাদের পরিবারেও একটি সংখ্যা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটিও দেশে থাকাকালীন কোনও দিনই খুঁজে পাইনি।
১৯৭১-এ বাংলাদেশ মুক্ত হওয়ার পরের বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের বাড়িতে গিয়েছিলাম। উদ্দেশ্য, তখনও জীবিত এবং ওই বাড়িতেই অবস্থানরত আমার জেঠা মশাইয়ের অভিভাবকত্বে একটি ‘বিবাহ’ করা। বাড়ির দোতলার দক্ষিণের ঘরটিকে জেঠা মশাই আমার থাকার বন্দোবস্তো উপলক্ষ্যে, লোক লাগিয়ে পরিষ্কার করাচ্ছিলেন। আমি জানতাম ওই ঘরে একদা তিনি স্বয়ং থাকতেন। ওই সময়, ঘরটি তালাবদ্ধ ছিল। ঘরটিতে প্রচুর বইপত্র, পুরোনো পত্রপত্রিকা একদা ছিল। সেসব কিছু আছে কিনা জানতে চাইলে, তিনি বলেছিলেন, ‘গত অক্টোবর (৭১ সালে) নভেম্বরে খান সেনারা ঘরের তাবৎ বস্তু আগুন দিয়ে ছাই করে দিয়ে গেছে। যাও, দেখ গিয়ে এবং ঘরটা পরিষ্কার করিয়ে নাও।
তালা খুলে দেখলাম, ঘরের মেঝের মাঝখানে বিরাট একটা ছাইয়ের স্তুপ। কিন্তু অবাককাণ্ড, দুইখানা অদগ্ধ বই ছাইয়ের স্তূপের কিনার ঘেঁষে পাশাপাশি পড়ে আছে। সম্পূর্ণ অক্ষত। দুখানাই ইতিহাসগ্রন্থ। তার একখানি ‘বাকলা’, অন্যখানি ‘বাঙ্গালার ইতিহাস’- যথাক্রমে রোহিনী কুমার সেন এবং রাখাল দাস বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত। সেই মুহূর্তে মনে হয়েছিল, ওই ইতিহাসই পোড়ানো যায় না। কাহিনীটি এত বিস্তারে বলার মত বিষয় হয়ত নয়, তথাপি ঘটনাটির প্রায় অলৌকিকত্বে আমি আজও স্পর্শিত। ‘বাঙ্গালার ইতিহাস’খানি শুধুমাত্র প্রথম খণ্ড। দ্বিতীয় খণ্ডটি পাইনি। দুটি গ্রন্থই পরবর্তীকালে দে’জ পাবলিশিংয়ের প্রয়োজনে এসেছে। দুঃখের বিষয় বাঙ্গালার ইতিহাস প্রথম খণ্ডটির মূলগ্রন্থটি তাঁদের কাছ থেকে আর ফেরত পাইনি। অবশ্য নতুন প্রকাশনার প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ডটি তাঁরা আমাকে দিয়েছেন। বাকলা বইটির মূল কপিটি ‘বৃহত্তর বাকেরগঞ্জের ইতিহাস’ সংকলনে আমি দিয়েছিলাম কিনা সঠিক মনে নেই। কিন্তু এই প্রসঙ্গ বহির্ভূত তথ্য আর নয়। খাস কথা বাকলা এবং বাংলার ইতিহাস পোড়ার না।
যে কথা বলছিলাম, রোহিনী কুমার নানান ভাষায় সুপণ্ডিত ছিলেন সংস্কৃত ভাষা সাহিত্যের উপর তাঁর বিশেষ অনুরাগ ছিল এতটাই যে, তদানীন্তন স্থানীয় পন্ডিতদের জন্য উপযুক্ত বৃত্তির ব্যবস্থাদি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে করেছিলেন। এ কথা আগেই বলা হয়েছে। কিন্তু তাঁর নিজস্ব এই সব কীর্তির কথা ‘বাকলা’ গ্রন্থে তিনি উল্লেখ করেননি। এসব তথ্য প্রাথমিকভাবে আমার মাস্টার মশাইয়ের কাছ থেকেই আমি জেনেছি।
আমার কাছে ‘মহাশয়ের’ এই পরম্পরা তাই বাল্যাবধি এক অপূর্ব বিস্ময়ের ব্যাপার ছিল। ধনমান প্রতিপত্তির কথা নয়, তাঁদের জ্ঞানান্বেষণের এই ধারাবাহিকতা আমার নিকট অসম্ভব শ্রদ্ধার বস্তু ছিল। এরকম শ্রদ্ধা কোনও জমিদার পরিবার অথবা সেই পরিবারজ কোনও ব্যক্তি বিশেষের প্রতি বোধ করা আমাদের সেই সময়কালে সহজ ছিল না। আমাদের তখনকার শৈশব, কৈশোর তথা যৌবন জমিদারতন্ত্র, সামন্ততন্ত্র প্রভৃতির প্রতি ঘৃণা, বিদ্বেষ এবং বিদ্রোহের এতদদ্দেশীয় শুরুয়াতের যুগ। তথাপি এই শ্রদ্ধার যে সবিশেষ কারণ ছিল, সে কথা জানাবার উপযুক্ত সমাজ বৈজ্ঞানিক পরিভাষা তথা তত্ত্ব আমার অধিগত নয়।
আমরা বর্গ ইতিহাসের চিন্তাধারায় সদ্য প্রবেশোন্মুখ এক প্রজন্ম। কিন্তু স্ব-জীবনের চক্রকালেই দেখলাম যে ওই বর্গসমাজি তত্ত্বও ক্ষমতার কূট কচালে কেমন যেন নিহিত স্বার্থের সেবা-দাসত্বে বন্দী হয়ে, ইতো-নষ্টস্ততোভ্রষ্ট হয়ে পড়ছে। কালপুরুষের চক্রান্তে এখন আর নতুনতর ধারায় কোনও গতিও খুঁজে পাচ্ছি না। পেলে হয়ত এই গোলকধাঁধার চক্রনেমির রহস্য অনুসন্ধানের কোনও সূত্র খুঁজে পেতাম।
মহাশয়দের ইতিহাস চর্চার ধরতাইটাই আলাদা। আমাদের এই বিশ্বের চর্চায় তাঁর ধরণটি এখনও বোধ হয় সঠিকভাবে পৌঁছোয়নি। তাই সে বিষয়ে বিস্তারিত হওয়ার চেষ্টা বৃথা। তবু প্রচেষ্টা, যদি পারা যায়। যা হোক, মোদ্দা কথাটা এই যে, এঁদের প্রতি আমার মাস্টার মশাইয়ের সৌজন্যে, আমার অবচেতনে এক শ্রদ্ধাবোধ শৈশব-কৈশোরাবধিই লালিত ছিল। এবার সেই ১৯৯৩ এর জুন মাস থেকে নিজ গণ্ডির মধ্যে তাঁকে পেয়ে, তা আরও বাড়ল।
তাঁর সেই রোমন্থন অথবা ভীমরতি প্রাপ্তর পরচরিতচর্চা নামক গদ্য রচনাটিকে আশ্রয় করেই আমার লেখালেখির জীবনের সূত্রপাত হল। এ কথা নিশ্চয়ই সারস্বত মহল স্বীকার করবেন যে বাংলা ভাষা সাহিত্যের ‘থোড়-বড়ি খাড়া’র বন্ধদশা থেকে তাকে মুক্ত করে মহাশয় তাকে এক ভিন্ন ধারায় নিয়ে গেছেন। যে চিঠিখানি নিয়ে এত কথা বললাম, মহাশয়ের আজ্ঞাক্রমে সেটিকেই অবলম্বন করে আমি একটি চটি বই প্রকাশ করেছিলাম, নাম দিয়েছিলাম ‘ভাটিপুত্রর পত্ররাখোয়াজি’। সেও আজ দেখতে দেখতে অনেক বছর হয়ে গেল। চিঠিটি পরবর্তীকালে রোমন্থনের দ্বিতীয় সংস্করণে তার অঙ্গীভূত হয়। তাছাড়া সেটির পুস্তকরূপ আমার ‘উজানি খালের সোঁতা’ নামক আনন্দ প্রকাশিত সংকলন গ্রন্থের মধ্যেও গ্রন্থিত হয়েছিল। তবে সেটিও বর্তমানে নিঃশেষ। সেটির পুনঃপ্রকাশ আনন্দ কর্তৃক প্রকাশিতব্য আমার ‘বরিশাল সমগ্র’ নামক গ্রন্থে অপেক্ষমান আছে।
সেই সব রচনা পাঠ করে যদি কোনও পাঠিকা/পাঠক এর মধ্যে কোনও নতুন রস খুঁজে পান, তাঁর প্রশংসা মহাশয়েরই প্রাপ্য, কেননা তিনিই এই ধারার রচনার বীজপুরুষ। আমার রচনারীতি মূলত মহাশয়ের ধারাটির অনুসরণেই চলেছে এতাবৎ কাল। (চলবে)

পর্ব-১ পড়তে ক্লিক করুন

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।