রাত ১০:২৫ ; রবিবার ;  ২০ অক্টোবর, ২০১৯  

প্রতিবাদী গানগুলো সব কোথায় গেল? : পিট সিগার

প্রকাশিত:

[মার্কিন লোকসংগীতশিল্পী ও নাগরিক অধিকার কর্মী পিট সিগারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ, ২৭ জানুয়ারি। তিনি জন্মেছিলেন ১৯১৯ সালের ৩ মে। কণ্ঠে গান, হাতে ব্যঞ্জো নিয়ে তিনি ৭০ বছরেরও বেশি সময় লড়ে গেছেন। গান ছিল তাঁর প্রতিবাদের হাতিয়ার। তাঁর এই সাক্ষাৎকারটি ২০১২ সালের এপ্রিলে স্মিথসনিয়ান ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন আভিভা শেন*। বাংলায় অনুবাদ করেছেন, মেহেদী হাসান*।]  

 

১৯৬০ সালের মার্চ মাসে ম্যাইনে প্রদেশের ব্রুনসিক শহরের বওডিয়ন কলেজে, একটি ক্যাম্পাস বেতার কেন্দ্র পিট সিগারের একটি কনসার্ট রেকর্ড করে। আটটি রীল থেকে রীল(reel-to-reel)ফিতা সেই রাতকে ধারণ করে আছে যা এখন একটি টু-সিডি সেট এ প্রতিস্থাপিত হয়ে, এপ্রিলের ১৭ তারিখে স্মিথসোনিয়ান ফোকওয়েস রেকর্ডিংস থেকে বের হয়েছে। ১৯৬০ সালের বওডিয়ন কলেজ কনসার্টে, তার আঞ্চলিক কনসার্টগুলোর মধ্যে অন্যতম, সিগার পরিবেশন করেন সেই গানগুলোর প্রাথমিক ভার্সন যেগুলো এই কয়েক বছরের মধ্যে পুরো মানব জাতিকে সম্মোহিত করে ফেলেছে, যুদ্ধবিরোধী সেই গানটিও অন্তর্ভূক্ত “ফুলগুলো সব কোথায় গেল?” স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিনের আভিভা শেনের সাথে আলোচনায় এই ব্যাপারগুলোর উপর আলোকপাত করেন পিট সিগার।     

 

আভিভা : আমাকে বলেন তো কিভাবে আপনি কলেজ কনসার্টের সাথে যুক্ত হয়ে পড়লেন? 

পিট সিগার : মনে হয় এটা ছিল ১৯৫৩ সাল। আমি তখন নিউ ইয়র্ক শহরের ছোট একটি বেসরকারি স্কুলে সপ্তাহে একদিন ২৫ ডলারের বিনিময়ে গাইতাম। এবং ২৫ ডলারের কল্যাণে পুরো সপ্তাহ কোন মতে বেচে-বর্তে থাকতাম। সম্ভবত সাপ্তাহিক ছুটির দিনে আরো ২৫ ডলার রোজগার হত; তবে সেই সময় অবেরলিন স্কুলের কিছু ছাত্র আমাকে আহ্বান করল চলে আসার জন্য। তারা বলল, আমাদের কলা ভবনের নিচের তলা আমাদের অধীনে আছে এবং আমরা যদি টুপিটাকে ছেড়ে দেই তাহলেই ২০০ ডলার তুলে ফেলতে পারব, যার ফলে তুমি বাসের ভাড়াটা পরিশোধ করতে পারবে। সুতরাং আমি ক্লেভল্যান্ডের উদ্দেশ্যে বাস ধরলাম এবং তারা আমাকে সাথে করে নিয়ে গেল, বলার অপেক্ষা রাখে না আমরা আরো বেশি টাকা তুলতে সক্ষম হয়েছিলাম। পরবর্তী বছর গীর্জায় ৫০০ লোকের সামনে গান গেয়ে  ৫০০ ডলার পেয়ে যাই। এবং এর পরের বছর, আমি অডিটরিয়ামে গাইলাম যেখানে ১০০০ জন লোক উপস্থিত ছিল এবং আমাকে ১০০০ ডলার দেওয়া হল। ফলে তখন থেকেই আমি কলেজে কলেজে ঘুরতে শুরু করি। 
প্রকৃতপক্ষে, আমি জীবনে যে কাজগুলো করেছি তার মধ্যে এটাই হচ্ছে সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আমি কলেজ কনসার্ট মাঠে উপস্থিত হলাম। এর আগে একমাত্র জন জ্যাকব নীলস কলেজ কনসার্টে গান গাওয়ার চেষ্টা করেছিল এবং সে নৈশ-ভোজের পোশাকে সজ্জিত হয়ে থাকত, এবং ব্যাপারগুলো ছিল অনেক বেশি আনুষ্ঠানিক। আমি যতটুকু পারি ব্যাপারগুলোকে অনানুষ্ঠানিক রাখতাম এবং এক কলেজ হতে অন্য কলেজে যেতাম এবং এটার সাহায্যে ভালোভাবেই জীবন-যাপন করতেছিলাম। 

 

আভিভা : ছাত্ররা কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাত? 

পিট সিগার : আহ্, তারা সকলে আমার সাথে সাথে গাইত। 

 

আভিভা : এই ভ্রমণগুলোতে আপনার বিশেষ কোন স্মৃতি আছে?  

পিট সিগার : একজন কালো যুবকের সাথে পরিচয় হওয়ার কথা আমার মনে পড়ে, যে শিকাগোর অরকেস্ট্রা হলে বেশ ভালো গান গাইত। তার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর, তবে সে জনতার কাছ থেকে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা লাভ করেছিল। সে ড. মার্টিন লুথার কিং-এর জন্য কাজ করত, শিকাগোর লোকজনকে সংগঠিত করত। তারপর উইসকনসিনে, ব্যাপারটি আমি কখনই ভুলব না। আমরা একটা বিশাল এলাকায় ছিলাম, যেখানে ৫০০০ অথবা ৬০০০ লোক বাস করত, তারা আমাকে জুলিয়াস এবং এথেল রোজেনবার্গ দম্পত্তির একজন ছেলের একটি চিঠি ধরিয়ে দিয়ে বলল, অনুগ্রহ করে এই চিঠিটা পড়বেন কি? সে আসতে পারেনি, তবে সে আমাদেরকে একটি চিঠি লিখেছে এবং মনে হয় যে আপনি এটা পড়তে পারেন। যতটুকু পারি উত্তেজনা নিয়ে আমি চিঠিটা পড়লাম। তারপর বললাম, “রাজী” এবং কথাটি বলার প্রায় সাথে সাথেই, মাথার উপরে বিদ্যুৎ চমকানো শুরু হল। সাথে ঝড়-বৃষ্টিও ছিল এবং সকলে হাসতে শুরু করল। কারণ ব্যাপারটা এমন যেন ঈশ্বর চিঠিটিতে সাক্ষর করছেন।

 

আভিভা : কখন আপনি আদর্শ হিসেবে গান গাইতে শুরু করলেন? 

পিট সিগার : আমার বাবা বিগত ১৯২০-এর দশকের শেষের দিকে এবং ৩০-এর দশকের শুরুতে কমিউনিস্ট পার্টিতে ছিলেন। তিনি মনে করতেন সঙ্গীতকে হতে হবে সংগ্রামেরই একটা অংশ। এমনকি তিনি একজন ক্লাসিক্যাল সঙ্গীত বিশারদ ছিলেন এবং সঙ্গীত জগতের উপর দ্যা ডেইলি ওয়ার্কার পত্রিকায় কলাম লিখত, তিনি অবশ্য তার কিছু বন্ধু-বান্ধবের সহযোগীতায় কম্পোজার’স কালেক্টিভ (Composer’s Collective) নামে একটি দল গঠন করেছিল। তারা বলত, “যদি নতুন সমাজ গঠিত হয়, তাহলে সেখানে অবশ্যই নতুন ধরনের সঙ্গীত থাকবে।” কোনভাবেই, তারা যা তৈরি করছিলেন সেগুলোর ব্যাপারে প্রলেতারিয়েতদের কোন উৎসাহ ছিল না। তবে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়ার আগে, তাদের মনে হয়েছিল, তারা ‘রাউন্ডস* এবাউট দ্যা ভেরি রিচ” নামের একটি মজাদার পুস্তিকা বের করবেন। আমরা সকলেই থ্রি ব্লাইন্ড মাইস এন্ড ফ্রের জ্যাকস(Three Blind Mice and Frère Jacques)এর মত রাউন্ডের কথা জানি তবে তিনি লিখলেন একটি রাউন্ড : “জয় আপন দিস আর্থ, টু লিভ এন্ড সি দ্যা ডে/ হোয়েন রকফেলার সিনিয়র শ্যাল আপ টু মি এন্ড সে/ কমরেড ক্যান ইউ স্প্যায়ার আ ডাইম?” (Joy upon this earth, to live and see the day/When Rockefeller Senior shall up to me and say/Comrade can you spare a dime?)আমি এগুলো খুব ভালোভাবে জানতাম কারণ আমি একবার আমার ভাই ও তার বন্ধুর সাথে মিলে এডিরনড্যাকস পার্বত্যাঞ্চলে গিয়েছিলাম এবং এডিরনড্যাকস অঞ্চলের মধ্য দিয়ে পা টেনে টেনে হেঁটে বেড়ানোর সময় আমরা তার এই রাউন্ডগুলো একসাথে মিলে গেয়েছিলাম। সুতরাং আমি এ ব্যাপারে খুব ভালোভাবে সচেতন ছিলাম যে সঙ্গীত সমস্ত বিশাল সংগ্রামের অংশ হতে পারে। 

 

আভিভা : আপনি কি মনে করেন ইদার্নিংকালে প্রচুর প্রতিবাদী গান তৈরী হচ্ছে? 

পিট সিগার : এটা সকল জায়গা জুড়ে হচ্ছে। সিং আউট  নামে একটি ম্যাগাজিন প্রতিবাদী গানে আগাগোড়া ভর্তি। এটা যাত্রা শুরু করেছে ৩০, ৪০ বছর আগে। নিউ ইয়র্কে এটা প্রায় দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিল, তবে একজন স্বেচ্ছাসেবী নিউ ইয়র্কের অফিসে ট্রাক ভর্তি করে কাগজ নিয়ে আসে, এবং সিং আউট ম্যাগাজিনকে পুনরায়  চালু করে। কখনই এটার বিশাল কাটতি ছিল না, তবুও এটা ছাপা হত। আমার ধারণা হচ্ছে যে প্রতিবাদী গান পৃথিবীর সমস্ত জায়গা জুড়ে আছে। অবশ্য আমি সবসময় লোকজনদেরকে বলি যে যদি মানব জাতি আগামী একশ বছর টিকে থাকে তবে যেগুলোর কারণে টিকে থাকবে তাদের মধ্যে অন্যতম প্রধান জিনিস হল শিল্প। আমি চিত্রশিল্প, নৃত্যশিল্প, ঠিক তেমনিভাবে সঙ্গীতশিল্পকে অন্তর্ভূক্ত করি, তুমি চাইলে এমনকি, রান্নাশিল্প, খেলাধুলা-শিল্পকেও নিয়ে আসতে পার- নেলসন ম্যান্ডেলা রাগবি খেলার মধ্য দিয়ে আফ্রিকাকে একত্রিত করেছিলেন এবং চায়না ব্যাবহার করেছিল পিং-পং(টেবিল টেনিস)। 

 

আভিভা : সুতরাং আপনি কি মনে করেন সঙ্গীতের একটা বিশাল প্রভাব আছে? 

পিট সিগার : প্লেটো অনেকটা এরকম বলেছিল যে রিপাবলিকের জন্য ভুল ধরনের সঙ্গীত খুবই বিপজ্জনক হবে। একটি আরব প্রবাদ বলে “রাজা যখন কবিকে বেতনভূক্ত করে রাখে, তখন সে কবির জিহবা কেটে নেয়।” আমি মনে করি তারা উভয়েই ঠিক। প্লেটো অবশ্যই একজন ভয়ানক রক্ষণশীল লোক ছিল। সে বুঝতে পেরেছিল যে গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের পরবর্তী শাসন ব্যাবস্থা। সে গণতন্ত্রকে অনুমোদন দেয়নি। 

 

আভিভা : নিজের লেখা বা পরিবেশন করা গানের মধ্যে আপনার কোন প্রিয় গান আছে?  

পিট সিগার : আমি জনগনকে সবসময় এটা স্মরণ করিয়ে দেই যে কোন কিছু কেবল অন্তমিল সম্পন্ন হলেই তা গান হয়ে উঠে না। একটি ভালো গান তোমাকে হাসাবে, কাঁদাবে, তোমাকে ভাবাবে। আগামী ১৪ জুলাই উডি গাথ্রির প্রথম জন্ম শতবার্ষিকী পালিত হতে যাচ্ছে। সে হাজার হাজার গান লিখেছে। তার জীবনের প্রত্যেকটি দিনে সে তার পকেটে থাকা ছোট একটি প্যাডে গানের পঙক্তি লিখে রাখত এবং তার প্যাড পরিপূর্ণ হয়ে গেলে সে পেয়ে যেত একটি নতুন গান। পিটার্সবুর্গে ধর্মঘটীদের সমাবেশে গান গাইবার জন্য আমরা একবার প্লেনে চড়ে যাচ্ছিলাম, আমি একটি পত্রিকা বা ম্যাগাজিনে চোখ রেখে বসে আছি। লী হেয়স, একজন ব্যাস(Bass) গায়ক, গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তবে ওডি কিছু একটা লিখছিল একটি কাগজের টুকরায় যা তারা তাকে দিয়েছিল এবং যখন যে চলে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়াল তখন সেই কাগজের টুকরাটি তার সিটের উপর রয়ে গেল। আমি সেটাকে কুড়িয়ে নিলাম। আমাদের নিচের মানুষজন কি ভাবে যখন তারা এই ধাতব পাখিটাকে তাদের মাথার উপর দিয়ে উড়ে যেতে দেখে, এবং সুন্দরী বিমানবালারা আজকে রাত্রে কি করতে যাচ্ছে, কোথায় থাকতে যাচ্ছে, এ সমন্ধে সে লেখেছে। আমি তাকে বললাম, “উডি, তোমার জানা উচিত তোমার এরকম গান লেখার সামর্থ্য থাকার জন্য তোমাকে আমি কি পরিমাণ ঈর্ষা করি।” আক্ষরিক অর্থেই সে তার জীবনের প্রত্যেকটি দিন গানের পঙক্তি লেখত। এবং কোন পঙক্তি যদি তার মনে না আসত, তবুও সে চালিয়ে যেত এবং একটি নতুন গান লেখে ফেলত। প্রায় সবসময়, যখন সে তার পঙক্তি লেখে ফেলত, মানুষের জানা কিছু পুরাতন সুরের কথা সে ভাবত যেটা তার পঙক্তিগুলোর সাথে খাপ খেয়ে যায়। 

 

আভিভা : আপনি কি কখনও এরকম করেছেন? 

পিট সিগার : একটি আইরিশ লুম্বারজ্যাক গান(lumberjack song) ছিল, এবং আমি জানতাম না যে আমি এটা ব্যবহার করছি নাকি অপব্যবহার করছি। তবে আমি প্লেনে বসে লিখতেছিলাম, এবং আইরিশ লুম্বারজ্যাক গানের পঙক্তিটি ছিল, “জনসন বলে সে আরো বেশি খড় ভর্তি করবে, বলে সে দিনে দশবার খড় ভর্তি করবে ।” আমি একটি পঙক্তি লেখছিলাম, “ফুলগুলো সব কোথায় গেল, দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাচ্ছে ।” যাহোক, আমি যতগুলো গান লিখেছি তার মধ্যে এই গানটি সম্ভবত সবচেয়ে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। মারলিন ডিয়েটরিচ পৃথিবীর  সমস্ত জায়গাজুড়ে এই গানটি গেয়েছে। যখন তার যৌবনের মোহিনী শক্তি চলে গেল, তখন সে বার্ট বাচারাচের সাথে মিলে একটি ক্ষুদ্র বাদক দল গঠন করল এবং বেশ কয়েক বছর ধরে বিশ্বজুড়ে গাইতে থাকল। যদি সে অস্ট্রেলিয়ার মত কোন ইংরেজিভাষী দেশে থাকত তাহলে সে গানটিকে ইংরেজিতে গাইত, তবে যদি সে থাকত বুয়েন্স আয়ার্স বা টোকিওতে, তাহলে সে জার্মান ভাষায় গাইত। জার্মান ভাষায় অনুবাদ করা গানটি ছিল ইংরেজি ভাষার গানটির চেয়ে ভালো : ‘স্যাগ মির, ও ডাই ব্লুমেন সিন্ড।’( “Sag mir, wo die Blumen sind.”) যখন সে জার্মানিতে ফিরে গেল, পুরাতন নাজিবাদীরা তার বিরুদ্ধে ক্ষেপে উঠল, কেউ এই নারীর গান শুনবে না, সে সৈন্যদের জন্য গান গায় আমাদের যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলার জন্য! তবে সেই মাসেই তার গান জার্মানিতে এক নাম্বারে উঠে আসে।  

 

আভিভা : আপনার গান অনেক মানুষ দ্বারা প্রচারিত এবং ব্যাখ্যাত হওয়া সমন্ধে আপনার অনুভূতি কেমন?

পিট সিগার : এতে আমি অনেক গর্বিত। নানা ধরনের মানুষ গানগুলো গায়, এটা মহৎ সন্মানের বিষয়- এমনকি যদিও তারা নানাভাবে গায়। নিউ অরলিন্সে অ্যানি ডিফ্রানকোর রুটস অফ মিউজিক নামে তরুণদের একটা দল আছে, মনে হয় ওখানকার কেউ ১০,১১,১২ বছর বয়েসের উর্দ্ধে হবে না, এবং তাদের একটি ব্র্যাস ব্র্যান্ড, একটি ট্রাম্পেট ও একটি ক্লারিনেট এবং এরকম আরো কিছু আছে। তারা একটি গান গায় যা আমি রেকর্ড করেছি; গানটি আমি লেখিনি তবে আমি আমার ব্যাঞ্জোর সাহায্যে গানটি রেকর্ড করেছি এবং একসময় বেশ পরিচিত হয়েছিল : “তুমি কোন পাশে আছো।” এই সময়ের মধ্যে তারা গানটিকে পুনর্বিন্যস্ত করেছে, তুমি কল্পনাও করতে পারবে না এটার সাথে আমার গানের কোন ধরনের সম্পর্ক আছে কিনা, শুধুমাত্র শিরোনামটা বাদে।     
 .........................................................................................................................
*রাউন্ডস- এক ধরনের সাঙ্গীতিক কম্পোজিশন যেখানে দুই অথবা ততোধিক কণ্ঠস্বর যথাযথভাবে একই সুর গায়, তবে প্রত্যেকটি কণ্ঠস্বর আলাদা আলাদা সময়ে শুরু করে যাতে করে সুরটির নানা অংশ আলাদা আলাদা কণ্ঠস্বরের সাথে মিলে যেতে পারে এবং তথাপিও একত্রে একটা সাঙ্গীতিক ঐকতানে মিলিত হয়। 

*আভিভা শেন থিংক প্রগ্রেস পত্রিকার একজন প্রতিবেদক/ব্লগার। *মেহেদী হাসান ছোটগল্প লেখক এবং অনুবাদ করেন।

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।