রাত ০৩:৫৮ ; মঙ্গলবার ;  ১২ নভেম্বর, ২০১৯  

প্রধানমন্ত্রীকে প্রবেশে বাধা: জামায়াত ‘শকড’

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

সালমান তারেক শাকিল

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ের গেট খোলা না পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফিরে আসায় বিস্মিত জামায়াতে ইসলামী। রবিবার বিকালে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন দলটির কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

তিনি বলেন,‘পুরো বিষয়টি নিয়ে আসলে আমরা শকড। কেন প্রধানমন্ত্রীকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি? গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের মেইন গেটের চাবি পুলিশের কাছে থাকলেও ছোট গেটের চাবি ছিল সিএসএফ-এর হাতে। তাহলে কেন প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানো হয়নি।’

শনিবার দুপুর নাগাদ খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, গোলাম আযম ইন্তেকালের পর অনেকগুলো কমিটি করেছি শুধু শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য। কিন্তু শনিবার সারাদিন বিএনপিসহ কত মানুষ সেখানে গেলেন, কোনও শৃঙ্খলা ছিল না।

তার মতে, বিএনপির কোনও নেতা এই শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চেষ্টা করেননি। একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং সাবেক রাষ্ট্রপতির ছেলে ইন্তেকাল করেছেন, কিন্তু কার্যালয়ে আগত শোকাহত মেহমানদের অভ্যর্থনা জানানোর কেউ নেই। এটি মানা যায় না।

এর আগে শনিবার রাত নয়টার দিকে খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানাতে গিয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর দুই কর্মপরিষদ সদস্য ডা. রিদওয়ানুল্লাহ শাহেদি এবং অ্যাডভোকেট মশিউল আলম। কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করতে তাদেরও অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়।

রিদওয়ানুল্লাহ শাহেদি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শোকাহত বাড়িতে এতো কিছু খেয়াল করা যায় না। তবে প্রধানমন্ত্রী যাওয়ার পরও কার্যালয়ের গেট কেন খোলা হয়নি, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, যে প্রধানমন্ত্রী এসেছেন শুনে তিনি দ্রুত নিচে নেমে দেখেন তিনি চলে গেছেন।

এদিকে রাত সাড়ে নয়টার দিকে গুলশানের কার্যালয়ে প্রবেশ করতে গিয়ে নানা রকম বাধা পেয়েছেন ২০ দলীয় জোটের প্রতিষ্ঠাকালীন আরেক শরিক ইসলামী ঐক্যজোটের নেতারাও। রাতে দলটির চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা হাসানাত আমিনী এবং আমিনীর মেয়ে জামাই মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন গিয়েছিলেন খালেদাকে সমবেদনা জানাতে। তাদেরও কার্যালয়ে প্রবেশে অনেক ঝামেলা পোহাতে দেখা গেছে।

এছাড়া রবিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর হেফাজতের আমির মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমীসহ কয়েকজন নেতা খালেদার কার্যালয়ে গিয়েছিলেন সমবেদনা জানাতে। প্রসঙ্গত, গত শনিবার দুপুরে কোকোর মৃত্যু হলে সন্ধ্যার পর রাত ৮.৩৫ এ খালেদাকে সমবেদনা জানাতে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে ওই সময় খালেদাকে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে দাবি করে তার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাননি। এ ঘটনাকে অত্যন্ত অশিষ্ট আচরণ বলে সমালোচনা করেছেন বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীরাও।

/এসটিএস/এমআর/টিএন/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।