বিকাল ০৫:৫৬ ; শনিবার ;  ২১ জুলাই, ২০১৮  

গাইবান্ধায় ২৯ শিশু কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত, ২ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত:

গাইবান্ধা প্রতিনিধি॥

উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারণে গত তিনদিনে গাইবান্ধায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। মঙ্গলবার দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মত কুয়াশা ছিল। তিনদিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। এ অবস্থায় জেলা ও উপজেলা সদর বিকালেই জনশূন্য হয়ে পড়ছে।

সরেজমিন গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালের বহির্বিভাগে ঘুরে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। বর্তমানে কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২৯ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া গত এক সপ্তাহে ২ শিশু ঠাণ্ডাজনিত রোগে মারা গেছে।

গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবু হানিফ জানান, শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার সর্বত্র ঠাণ্ডাজনিত রোগ ও শিশুদের কোল্ড ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে গেছে। ২৯ শিশু কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মঙ্গলবার নতুন আরো ৭ জন ভর্তি হয়েছে।

গাইবান্ধার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. এসএমএ জলিল বলেন, 'জেলার সাত উপজেলার হাসপাতালগুলোতে গত দু’দিনে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশু ও বৃদ্ধ রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।'

ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনোতোষ রায় মিন্টু জানান, চরাঞ্চল ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রিত ছিন্নমূল মানুষসহ নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে খুব কষ্টে আছে।

সরেজমিন দেখা যায়, শুধু গ্রামাঞ্চলেই নয়, শহরের শ্রমজীবী মানুষও ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা পেতে খড়কুটো জ্বালিয়ে গা গরম করছে। এছাড়া ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলায়ও হেড লাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।

গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আউয়াল মিয়া জানান, ঘন কুয়াশার কারণে নৌ চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। রাতে তিস্তা-ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নৌ-রুটে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। দিনের বেলায়ও সাবধানে নৌকা চালাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় জেলার সাতটি উপজেলার ১শ ২০টি চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় তারা চরম বিপাকে পড়েছে।

জেলা কৃষি অধিদফতরের উপপরিচালক মীর আব্দুর রাজ্জাক জানান, তীব্র ঠাণ্ডায় কৃষি শ্রমিকদের পক্ষে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে কৃষকরা বোরো চারা রোপণ করতে পারছেন না।

জেলার ভারপ্রাপ্ত ত্রাণ ও পূণর্বাসন কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম বলেন, 'এ পর্যন্ত ২৮ হাজার ৭১০টি কম্বল, ১ হাজার চাদর, ২ হাজার ২৫০টি সোয়েটার ও ৬৫০টি মাফলার বিতরণ করা হয়েছে।'

জেলা প্রশাসক এহছানে এলাহি জানিয়েছেন, শীর্তাত দুঃস্থদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে দেওয়া কম্বল, সোয়েটার, মাফলার ও গায়ের চাদর বিতরণ অব্যাহত আছে।

/জেবি/একে/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।