সকাল ১১:০৮ ; রবিবার ;  ২১ এপ্রিল, ২০১৯  

ইএমকে সেন্টারে এক বিকাল

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

মুছাদ্দিক।।

শেষ বিকালের শীত গায়ে জড়িয়ে বেরিয়ে পড়লাম ধানমণ্ডির উদ্দেশে। গন্তব্য ইএমকে সেন্টার। ইএমকে সেন্টার তরুণ উদ্যোক্তাদের মিলনস্থল। প্রতিভাবানদের উদ্যোক্তাদের সহায়তা লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর ও আমেরিকান সেন্টারের যৌথ প্রচেষ্টায় ইএমকে সেন্টার প্রতিষ্ঠিত।

ইএমকে সেন্টারে ঢুকেই দেখতে পেলাম প্রতিটি কক্ষেই চলছে কোনও না কোনও প্রতিষ্ঠানের সভা, সেমিনার অথবা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। একটা কক্ষে চলছিল 'হাউজ অব ভলান্টিয়ার্স' নামে একটি ক্লাবের অনুষ্ঠান। প্রথমে মনে হল যে এটা কোনও আলোচনা সভা। কিন্তু একটু পরেই বুঝা গেল যে এটা একটা প্রশিক্ষণ কর্মশালা। ক্লাবের নাম শুনেই তাদের সম্পর্কে আগ্রহ জাগল। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্লাব গঠন করেছে। এমনই একটি ক্লাব হচ্ছে 'হাউজ অব ভলান্টিয়ার্স'। বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলোতে উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সমস্যার সৃজনশীল সমাধান দেয়া এবং তা প্রয়োগ করার উদ্দেশ্যেই হাউজ অব ভলান্টিয়ার্স-এর জন্ম। এই সংগঠনটি মূলত তরুণদের নিয়েই কাজ করে এবং এ ক্ষেত্রে শিক্ষাখাতকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।

বর্তমান যুগ হল প্রযুক্তির যুগ আর প্রযুক্তির সাথে সমানতালে চলতে না পারলে উন্নয়ন সম্ভব না। এই বিষয়টি চিন্তা করেই ক্লাবটি এর সদস্যদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে কিছু প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে। ইএমকে সেন্টারে চলতে থাকা আজকের এই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেরই প্রথম আসর। আর এই কার্যক্রমে সহায়তা করেছে ইএমকে সেন্টার।

অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন ক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আদনান হায়দার ইউছুফ। গুগলে কর্মরত বুয়েটের এই সাবেক ছাত্র ক্লাবের সদস্যদের প্রথমে অনলাইন টুলসের ব্যবহার এবং উপকারিতা সম্পর্কে ধারণা দেন। এরপর তিনি অনুষ্ঠানের মূল বিষয় গুগল অ্যাপস সম্পর্কে প্রশিক্ষণার্থীদের শিক্ষা দেন। তিনি বলেন, গুগল অ্যাপসের মাধ্যমে আমরা খুব সহজ ও দ্রুত গতিতেই অফিসের কাজ সম্পন্ন করতে পারি, শেয়ার করতে পারি। অফিসের ফাইল আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে একটি বড় মাধ্যম হচ্ছে গুগল ড্রাইভ। জিমেইল বা ইয়াহুতে সাধারণত ২৫ মেগাবাইটের বেশি ফাইল পাঠানো যায় না। কিন্তু গুগল ড্রাইভের মাধ্যমে নিশ্চিন্তে ১৫ গিগাবাইট পর্যন্ত ফাইলও শেয়ার করা যায়। কর্মশালায় তিনি শিক্ষার্থীদের গুগল ড্রাইভের ব্যবহার হাতেকলমে শিখিয়ে দেন। এরপর তিনি সবাইকে গুগল গ্রুপ সম্পর্কে ধারণা দেন।

যারা গুগল গ্রুপের ব্যবহার জানেন না তাদের জন্য একই সাথে অনেক লোককে মেইল পাঠানো বেশ ঝামেলাপূর্ণ। আদনান ইউছুফ বলেন, গুগল গ্রুপ তৈরির মাধ্যমে আমরা এই সমস্যার সমাধান করতে পারি। ধরা যাক আপনার অফিসের একটি প্রেস রিলিজ আপনার কাছে মেইলিং অ্যাড্রেস থাকা সব সাংবাদিককেই মেইল করতে হবে। সেক্ষেত্রে সাংবাদিক বা জার্নালিস্ট গ্রুপ তৈরি করে যে কোনও সময় মাত্র এক ক্লিকেই সব সাংবাদিককে মেইলটি পাঠিয়ে দিতে পারবেন।

এছাড়াও গ্রুপের কোনও ফাইল পরিবর্তন করা হলে পরিবর্তিত ফাইলটি গ্রুপের সবাই পেয়ে যাবে এবং চাইলে অন্য সদস্যরাও ফাইলটি পরিবর্তন করতে পারবে। তবে গ্রুপের কে কতোটুক পরিবর্তন করল সেটাও জানা যাবে। এভাবে পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে স্লাইড তৈরি করেও সবার সাথে শেয়ার করা যায়।

গুগল ড্রাইভের মাধ্যমে শুধু ফাইল সংরক্ষণ বা শেয়ারও নয়--এর মাধ্যমে যে কেউ তার ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারবে। আদনান ইউছুফ উপস্থিত সদস্যদের গুগলড্রাইভে ওয়েব সাইট তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের নিয়মাবলি বাতলে দেন। প্রশিক্ষণে তিনি ক্লাবের প্রতিটি সদস্যের কাছে গিয়ে গিয়ে হাতে-কম্পিউটারে (হাতেকলমে নয়) ধরে ধরে বিষয়গুলো শিখিয়ে দেন।

অনুষ্ঠান শেষে কর্মশালটির আয়োজক 'হাউজ অব ভলান্টিয়ার্স' জানান, আগামী প্রতিমাসেই একরকম বিভিন্ন কর্মশালার আয়োজন করা হবে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পরার মতো। অনুষ্ঠানে আগত প্রশিক্ষণার্থীরা নিজেদের মধ্যে আড্ডায় মেতে ওঠে। সবার মুখেই ছিল খুশির ছাপ। তাদের এই খুশি বলে দিচ্ছিল, দেশের উন্নয়নে তাদের ভূমিকা রাখার ইচ্ছা খুব দৃঢ়। এই ইচ্ছা আরো সফল ভাবে পূরণের জন্য তারা ধীর কিন্তু কঠোর পদক্ষেপে এগিয়ে যাচ্ছেন। আর এসব তরুণদের সঙ্গে এই দেশটাও গুটি গুটি পায়ে উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

/এমবিআর/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।