সকাল ১০:৫০ ; শুক্রবার ;  ২৭ এপ্রিল, ২০১৮  

বেশি বোতল কুড়ালেই বেশি মাদক!

প্রকাশিত:

রশিদ আল রুহানী॥

বুধবার, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যেতেই চোখ পড়লো জটলা বেঁধে কী যেন করছে কয়েকটি শিশু। কাছে গিয়ে জানতে চাইলাম কী করছো তোমরা? সঙ্গে সঙ্গে উত্তর, ‘ভাই আমরা কিছু করি না’। ভাল করে নজর দিতেই ধরা পড়লো মাদকের পুটলি। আমি চলে যেতেই নদীর পানিতে ফেলে যে যার মতো চলে গেল।

সূত্রমতে, সদরঘাটে এমন প্রায় পাঁচশতাধিক শিশু আছে যারা নিয়মিত মাদক সেবন করছে।

সজীব সদরঘাট এলাকায় গত পাঁচ বছর ধরে আছে। বয়স আনুমানিক নয় বছর। মলিন চেহারা, গায়ে ছেঁড়া হ্যাফপ্যান্ট, হাফহাতা ময়লা শার্ট, বোতাম নেই একটিও।

'কী করো?' সজীবের সরল উত্তর, ‘পেপার বেচি, বোতল টোকাই, আর ভাঙ্গারির দোকানে বেচি। মাঝে মাঝে কুলির কাজ করি। দিনে ১০০ থেকে ২০০ টাকা আসে।'

নেশা করে কিনা জানতে চাইলে প্রথমে আমতা আমতা করে। পরে জানালো ড্যান্ডি নামক আঠা জাতীয় একটি নেশার বস্তু আছে যা দোকানেই কিনতে পাওয়া যায়। বিশ-ত্রিশ টাকা নেয়। 'খুব ভাল লাগে খাইলে। আমি খাইতে চাই না। ওরা (অন্যদের দেখিয়ে) আমারে জোর কইরা খাওয়ায়।'

সদরঘাটে অস্থায়ী ভিত্তিতে অবস্থিত লিডো নামক একটি উন্নয়ন সংস্থা’র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকতা বলেন, আমরা গবেষণায় দেখেছি এ শিশুরা ভাঙ্গারি দোকনে বোতল দেয় এবং সেখানেই দোকানিরা মাদক গ্রহণে শিশুদের উৎসাহিত করে। কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, এই শিশুরা যদি নেশাগ্রস্ত হয় তাহলে তাদের ব্যাবসা ভাল হবে। মাদকের তাড়নায় শিশুরা বেশি বেশি বোতল কুড়াবে।

বেসরকারি সংস্থা ব্রাক সদরঘাটের ছিন্নমূল শিশুদের নিয়ে ‘আরবান স্ট্রিট চিলড্রেন প্রোগ্রাম’ নামক একটি কর্মসূচি চালু করেছে। এই অফিসের সেন্টার ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম জানালেন, কর্মসূচিটির মাধ্যমে সদরঘাট অঞ্চলের সকল ছিন্নমূল শিশুদের শিক্ষা, চিকিৎসা, খাদ্য, বস্ত্র থেকে শুরু করে বেশ কিছু মৌলিক চাহিদা পূরণের চেষ্টা করা হয়। কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তাদের মাদক থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হয়।'

/এফএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।