সন্ধ্যা ০৭:১৪ ; রবিবার ;  ১৯ মে, ২০১৯  

ভারতের খোলাবাজার থেকে বিদ্যুৎ কিনছে সরকার

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

ভারতের খোলা বাজার থেকে ৩০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ক্রয় এবং শিকলবাহা ১৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্টে দ্বৈত-জ্বালানি পদ্ধতি সংযোজনসহ ৯টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।’

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে বুধবার সচিবালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম-সচিব মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, এ জন্য ভারতের সরকারি সংস্থা এনভিভিএন-কে ১ বছরের জন্য বাণিজ্য প্রতিনিধি (ট্রেডিং এজেন্ট) নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এ কাজে ট্রেডিং এজেন্টকে কমিশন দিতে হবে।

প্রস্তাবের সার-সংক্ষেপে এজেন্ট কমিশন বাবদ প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের জন্য অতিরিক্ত সারচার্জের বাইরে এনভিভিএন-কে বছরে ২ কোটি ১৭ লাখ টাকা কমিশন দিতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্রয় কমিটির বৈঠকে অনুমোদিত অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে, ৭৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় 'গভর্নেন্স ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট' শীর্ষখ প্রকল্পের জন্য পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কর ও মূসকসহ ১৯৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নোয়াখালীর নতুন ও পুরাতন ডাকাতিয়া-ছোট ফেনী নদীর উপর ‘মুছাপুর ক্লোজার’ সেতু নির্মাণ এবং মুছাপুর রেগুলেটরের সংযোগ খাল পুনরায় খননের জন্য একক উৎস হিসেবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত ‘বাংলাদেশ ডিজেল প্ল্যান্ট লিমিটেড’কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ।

২৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ১৬৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের সেতু নির্মাণ কাজের প্যাকেজ বি-২-এর আওতায় লালপুল সেতু (২২ দশমিক ৭৭৫ মিটার), লেমুয়া সেতু (৯৩ দশমিক ৩০ মিটার), মুহুরী সেতু (১৮৮ দশমিক ৬০ মিটার), ধুমঘাট সেতু (২১৫ দশমিক ৭০ মিটার) ও চট্টগ্রাম রেল ক্রসিংয়ের ওপর ওভারপাস (৩১ দশমিক ৯৩৭ মিটার) নির্মাণ কাজের ভেরিয়েশন অর্ডার-১ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে 'আইসিটির মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার প্রচলন' শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিতরণের জন্য ২ হাজার ৮৩১টি ল্যাপটপ ও সমসংখ্যক মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

৭৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘দশটি ড্রেজার, ক্রেনবোট, ট্যাগবোট, অফিসার্স হাউজবোট ও ক্রু-হাউজবোটসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি/যন্ত্রপাতি সংগ্রহ (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২টি ট্যাগবোট ও ১টি বয়া টেন্ডার ভ্যাসেল ক্রয় করা হবে। এটি সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে ভোস্তা এলএমজি-কর্ণফুলী কোম্পানি।

আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে মোট ১১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্যাকেজ-৪-এর আওতায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি মেট্রিক টন গমের মূল্য ২৭৯ ডলার ৭৫ সেন্ট।

এ ছাড়া রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ সংযোগ সড়কটি ১০০ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করবে তমা কনস্ট্রাকশন।

শিকলবাহা ১৫০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্টে দ্বৈত জ্বালানি পদ্ধতি সংযোজন:

প্রকল্প গ্রহণের পাঁচ বছর পর গ্যাসভিত্তিক শিকলবাহা ১৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্টে দ্বৈত জ্বালানি পদ্ধতি সংযোজনের অনুমোদন দিয়েছে ক্রয় কমিটি। মোট ২৬০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এ পদ্ধতি সংযোজনের কাজটি পেয়েছে যৌথভাবে চীনা প্রতিষ্ঠান ‘ফুজিয়ান ইলেকট্রিক পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি’ ও ‘সিসিসি ইঞ্জিনিয়ারিং’।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের রাজস্ব তহবিল থেকে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। এদিকে পাঁচ বছর কালক্ষেপনের কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে ৫ গুণেরও বেশি। সিমেন্স জার্মানীর সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন স্কোপ অব ওয়ার্ক এবং গত পাঁচ বছরে যন্ত্রপাতির দাম বাড়ায় প্রকল্পের বর্তমান প্রাক্কলিত ব্যয় ‘যুক্তিযুক্ত’ বলে প্রকল্পের সার-সংক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।

/এসআই/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।